১২ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ভারতের প্রতিবাদী লেখকদের পাশে পেন ইন্টারন্যাশনাল

  • সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় অবিলম্বে পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান

বহুত্ববাদের ওপর হামলা, দেশে বাড়তে থাকা অসহিষ্ণুতা, বাক-স্বাধীনতার লঙ্ঘন ও দাদরি ঘটনার প্রতিবাদে ভারতের সম্মানজনক সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার ফিরিয়ে দিয়েছেন ৫০ জনের বেশি সাহিত্যিক। এবার তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন বিশ্ব সাহিত্যিকদের সংগঠন পেন ইন্টারন্যাশনাল। প্রগতিশীল চিন্তাবিদ এম এম কালবুর্গি, নরেন্দ্র দাভোলকার, গোবিন্দ পানসারের হত্যাকারীদের শাস্তির দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখেছে সংগঠনটি। খবর হিন্দু ও আজকালের।

কানাডার কুইবেক শহরে শনিবার পেন ইন্টারন্যাশনালের ৮১তম সম্মেলন ৭৩টি দেশের প্রতিনিধি অংশ নেন। ভারতে ক্রমেই বাক-স্বাধীনতা এবং ভাব প্রকাশের স্বাধীনতা হারাচ্ছেন শিল্পী, সাহিত্যিক থেকে সাধারণ মানুষ। এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রেসিডেন্ট প্রণব মুখার্জী, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও সাহিত্য একাডেমিকে চিঠি লিখেছেন এই আন্তর্জাতিক লেখক-কবি সংগঠনের সভাপতি জন র‌্যালস্টোন সোল। তিনি চিঠিতে লিখেছেন, সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার ফিরিয়ে দেয়া ৫০ জনের বেশি ঔপন্যাসিক, প-িত, কবি ও বুদ্ধিজীবীর সঙ্গে আমরা একাত্মতা জানাচ্ছি এবং তাদের সাহসের প্রশংসা করছি। ১৫০টি দেশের লেখকরা প-িত ও বুদ্ধিজীবী এমএম কালবুর্গির হত্যার ঘটনায় সৃষ্ট সঙ্কটে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি আরও লিখেছেন, পেন ইন্টারন্যাশনালের সভাপতি হিসেবে ওই লেখকরা আমাকে আপনাদের জানাতে অনুরোধ করেছেন যে, ভারতীয় সংবিধানের বিধান ও চেতনা এবং সমাজ ও সংস্কৃতির সর্বোৎকৃষ্ট ঐতিহ্যের আলোকে লেখক ও শিল্পীসহ সবার অধিকার রক্ষায় ভারতীয় সরকার অবিলম্বে পদক্ষেপ নিক। পুরস্কার ফেরানো নিয়ে দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর মন্তব্য নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন সোল। তিনি লিখেছেন- এরকম পরিস্থিতিতে ভারতে মতপ্রকাশ সত্যি কঠিন। এজন্য সরকারকে লেখক ও শিল্পী সমাজকে অবশ্যই আশ্বস্ত করতে হবে যে, মন্ত্রীদের মতামত সহনশীল হবে। সরকারকে অবশ্যই এটিও নিশ্চিত করতে হবে যে, এমএম কালবুর্গি, নরেন্দ্র দাভোলকার, গোবিন্দ পানসারের হত্যার তদন্ত নিরপেক্ষভাবে হবে এবং তাদের হত্যাকারীদের বিচারের আওতায় আনা হবে। এই তিনজনের মৃত্যুতে শোক জানিয়ে সংগঠনটি ভারতীয় সরকারকে অজ্ঞাত পরিচয় খুনীদের চিহ্নিত করতে এবং গ্রেফতারের আহ্বান জানায়। পেন ইন্টারন্যাশনালের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে- সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার জয়ী কালবুর্গিকে হত্যার পরও একাডেমি নিশ্চুপ রয়েছে।

এমনকি এর প্রতিবাদে একাডেমির কয়েক সদস্যের পদত্যাগ এবং কয়েকজন পুরস্কার গ্রহণকারী তাদের পুরস্কার ফিরিয়ে দেয়ার পরও কোন প্রতিক্রিয়া জানায়নি একাডেমি। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সরকারের দুই মন্ত্রী লেখকদের পুরস্কার ফিরিয়ে দেয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ভারতের এমন পরিস্থিতে প্রকাশ্যে বিরোধিতা করতে সাহসের প্রয়োজন হয়।