২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কাঁচপুর বিসিক শিল্পনগরীতে ৫৬০ কোটি টাকার পণ্য রফতানি

মোঃ খলিলুর রহমান, সিদ্ধিরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ থেকে ॥ নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের কাঁচপুর বিসিক শিল্পনগরীতে ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে প্রায় ৫৬০ কোটি টাকার পণ্য রফতানি করা হয়েছে। গত অর্থবছরে স্থানীয় বাজারে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার পণ্য বিক্রি করা হয়েছে। বর্তমানে কাঁচপুর বিসিকের ১২১টি শিল্প-কারখানায় নারীসহ ১৮ হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থান হয়েছে। ৭টি প্রতিষ্ঠান এখন বন্ধ হয়েছে। বিনিয়োগকারী ও শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, বিসিকের চলাচল রাস্তাগুলো খুবই বেহাল অবস্থায় রয়েছে।

জানা গেছে, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশনের অধীনে ১৯৯২-৯৬ সালে ২৫ একর জায়গার ওপর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার কাঁচপুরে গড়ে উঠেছে ‘কাঁচপুর বিসিক শিল্পনগরী’। এর মধ্যে ১৯ দশমিক ৮১ একর জায়গার ওপর শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ৪ দশমিক ৪৩ একর জায়গাজুড়ে ড্রেন, কালভার্ট ও রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়াও ৭৬ শতাংশ জায়গার ওপর প্রশাসনিক ভবন, ওভারহেড ওয়াটার ট্যাঙ্ক বসানো হয়েছে। মোট প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে ৭ কোটি ২৯ লাখ টাকা। ১৯৯৮ সালে বিসিকের শিল্পকারখানায় উৎপাদন শুরু হয়।

বিসিক সূত্রে জানা যায়, মোট প্লটের সংখ্যা ১৩৫টি। এর মধ্যে এ-টাইপ (আয়তন ৯০০০ বর্গফুট) প্লটের সংখ্যা ২৪টি, বি-টাইপ (আয়তন ৬০০০ বর্গফুট) ৮৩টি ও এস-টাইপ (আয়তন অনিয়মিত) ২৯টি। ইতোমধ্যে ১৩৫টি প্লটই বরাদ্দ হয়ে গেছে। ১টি প্লটে পল্লী বিদ্যুতকে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। বর্তমানে চালু রয়েছে ১২১টি ইউনিট। নির্মাণাধীন ইউনিটের সংখ্যা ১টি। ৭টি শিল্প প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। এ বিসিক শিল্পনগরীতে ১২১টি ইউনিটে ১৮ হাজার শ্রমিক কাজ করছে। এদের মধ্যে পুরুষ শ্রমিকের সংখ্যা ১০ হাজার ৬০০ জন ও মহিলা শ্রমিকের সংখ্যা ৭ হাজার ৪০০ জন।

কাঁচপুর বিসিকে উৎপাদিত পণ্যের মধ্যে রয়েছে- ওষুধ, টি-শার্ট, ওভেন, প্রকৌশল শিল্প, সিলিং ফ্যান, নাটবোল্ট, স্ক্রু, জিপার, রক্সি প্রিন্ট, বিস্কুট, কেক লজেন্স, জ্যামস জেলি, ওয়াশিং পাউডার, ডিটারজেন পাউডার, ময়দার মিল, কার্টন, প্যাকেজিং, মিনারেল ওয়াটার, গ্যাস, রেগুলেটর ও ফার্মাসিউটিক্যাল ইত্যাদি।

কাঁচপুর বিসিক শিল্পনগরী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান পাটোয়ারী জানান, ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার পণ্য স্থানীয় বাজারে বিক্রয় করা হয়েছে এবং গত অর্থবছরে এখান থেকে প্রায় ৫৬০ কোটি টাকার পণ্য রফতানি করা হয়েছে। সর্বমোট ১০৬০ কোটি টাকার পণ্য বিক্রয় করা হয়। এ পর্যন্ত কাঁচপুর বিসিকে ব্যক্তিমালিকাধীন প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায় ৪২০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। তিনি আরও জানান, ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিকরা গ্যাস, বিদ্যুত, ভ্যাট, পানি, ভূমি উন্নয়ন করসহ সরকারকে প্রায় ৪৫ কোটি ৮৯ লাখ টাকা রাজস্ব দিয়েছে।

বিসিকের রাজ্জাক প্যাকেজিং ফ্যাক্টরির ব্যবস্থাপক মুসা আলম জানান, কাঁচপুর বিসিকের চলাচলরত রাস্তার অবস্থা খুবই নাজুক। পণ্যবাহী ট্রাক আসা-যাওয়া করতে খুবই অসুবিধা হচ্ছে অথচ আমরা বিসিকের সকল ট্যাক্স পরিশোধসহ সকল নিয়ম-কানুন মেনে চলছি।

নির্বাচিত সংবাদ