২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পাক-ভারত ক্রিকেট সিরিজের ভবিষ্যত অন্ধকার

  • শিবসেনার বাধায় বিসিসিআই-পিসিবি সভা পণ্ড

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ একটা অচলাবস্থার নিরসন হওয়ার দারুণ সুযোগ ছিল। দীর্ঘদিন ধরে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় ক্রিকেট সিরিজ বন্ধ। এর কারণ রাজনৈতিক, কূটনেতিক সম্পর্কে চিরকালীন শীতল সম্পর্ক। তবে গত বছর দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ডের মধ্যে সমঝোতা চুক্তি হয়েছিল ২০২২ সালের মধ্যে ভারত-পাকিস্তান অন্তত ৬টি দ্বিপক্ষীয় সিরিজে মোকাবেলা করবে। এ বছর ডিসেম্বরে আরব-আমিরাতে ওই সিরিজ অনুষ্ঠানের জন্য ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডকে (বিসিসিআই) বারবারই চাপ প্রয়োগ করে আসছিল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। অবশেষে রবিবার পিসিবি চেয়ারম্যান শাহরিয়ার খান মুম্বাই আসেন বিসিসিআই সভাপতি শশাঙ্ক মনোহরের সঙ্গে বৈঠকে বসার জন্য। কিন্তু সেটা হলো না। কট্টর হিন্দুবাদী রাজনৈতিক দল শিবসেনার প্রায় ৩৬ জন সমর্থক বিসিসিআইয়ের প্রধান কার্যালয়ের সামনে এই আলোচনা বিরোধী সেøাগান দেয় এবং শশাঙ্কের কক্ষ লক্ষ্য করে ঢিল ছোড়ে। ফলে প- হয়ে যায় আলোচনা। ৬ জনকে আটকও করেছে পুলিশ। শশাঙ্কের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে আলোচনা করবেন কি না শাহরিয়ার তা জানা যায়নি। তবে আজ দিল্লীতে বিসিসিআই সেক্রেটারি অনুরাগ ঠাকুর ও আইপিএল চেয়ারম্যান রাজিব শুক্লার সঙ্গে আলোচনার কথা রয়েছে তাদের।

১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনমুক্ত হয়ে স্বাধীন দুটি দেশে পরিণত হওয়ার পর থেকেই ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে রেষারেষি সম্পর্ক। এখন পর্যন্ত দুই দেশ তিনবার বড় রকমের যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং কূটনৈতিক সম্পর্কে শীতলতা তাই লেগেই আছে। আর সীমান্তে দুই দেশের সেনার মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। এসবের রেশ ক্রীড়াক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলেছে। ২০০৭ সালের পর থেকে কোন দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলেনি দু’দেশ। এর কারণ ২০০৮ সালে মুম্বাইয়ে এক জঙ্গী সংগঠন বন্দুক হামলা চালিয়ে নিরীহ কিছু মানুষসহ কয়েকজন পুলিশ হত্যা করেছিল। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা এবং বিভিন্ন হিন্দুবাদী সংগঠনের দাবি ওই জঙ্গীরা পাকিস্তান থেকে আগত। সব মিলিয়ে তাই পাকদের সঙ্গে সার্বিক ক্ষেত্রেই সম্পর্কের অবনতি রয়েছে ভারতের। অবশ্য ২০১২ সালে সংক্ষিপ্ত এক সফরে ভারত এসেছিল পাকিস্তান দল। সেটারই ফিরতি সিরিজে এবার আরব আমিরাতে ভারতকে সিরিজ খেলার প্রস্তাব দিয়েছিল পিসিবি। কিন্তু এর মধ্যে সীমান্তে উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক সম্পর্কে আরও অবনতি ঘটার কারণে ভারতীয় সরকারের অনুমতি মিল ছিল না। তবে পিসিবির চাপটা ছিল অব্যাহত। অবশেষে রবিবার পিসিবি প্রধান শাহরিয়ার এবং প্রধান নির্বাহী নাজাম শেঠি রবিবার মুম্বাইয়ে আসেন আলোচনায় বসার জন্য।

মুম্বাইয়ে অবস্থিত বিসিসিআই কার্যালয় থেকে মাত্র ৫ মিনিটের গাড়ি দূরত্বে হোটেলে অবস্থান করছেন শাহরিয়ার ও নাজাম। তারা বিসিসিআই কার্যালয়ে আসতেই পারেননি সোমবার। এর আগেই সকাল থেকে শিবসেনার কর্মীরা জমায়েত হয়ে পাকবিরোধী সেøাগান দিতে থাকে। তারা পিসিবির সঙ্গে যে কোন ধরনের আলোচনা বয়কটের আহ্বান জানায়। পরে বিসিসিআই সভাপতি শশাঙ্ক আসার পর তার কার্যালয় লক্ষ্য করে পাথর, ইট ছুড়ে মারা হয়। শেষ পর্যন্ত বৈঠক প- হয়ে যায়। তবে হোটেল না ছাড়ার আহ্বান জানানো হয়েছে শাহরিয়ার ও নাজামকে। আজ তারা দিল্লীতে অনুরাগের সঙ্গে বসার কথা রয়েছে। শিবসেনা মহরাষ্ট্রের ক্ষমতাধর দল ভারতীয় জনতা পার্টির সঙ্গে জোটবদ্ধ। তারা এদিন দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে ভারতের চলমান ওয়ানডে সিরিজের পঞ্চম ও শেষ ওয়ানডেতে আম্পায়ার আলিম দারকে দায়িত্ব পালন না করার জন্য হুমকি প্রদান করেছে। ১৯৯৯ সালে শিবসেনাই পাক-ভারত সিরিজ শুরুর আগে দিল্লীর ফিরোজ শাহ কোটলা স্টেডিয়ামের পিচ খুঁড়ে নষ্ট করেছিল। ২০০৬ সালে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেও পাকিস্তানের ম্যাচ তাদের জন্য প- হয়। এ বছর এপ্রিলে পাক পপ তারকা আতিফ আসলামের পুনেতে কনসার্ট এবং ৯ অক্টোবর মুম্বাইয়ে গুলাম আলীর কনসার্ট শিবসেনার হুমকির কারণে হতে পারেনি। গত সপ্তাহে কলামিস্ট ও লেখক সুধীন্দ্র কুলকার্নিকে কালো কালি ছুড়ে লাঞ্ছিত করা হয়েছিল পাক পররাষ্ট্রমন্ত্রী খুরশীদ মাহমুদ কুরসির লেখা বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে।