২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ব্লাটার আমাকে ফাঁসিয়েছেন ॥ প্লাতিনি

ব্লাটার আমাকে ফাঁসিয়েছেন ॥ প্লাতিনি
  • অর্থ আদান-প্রদানে কোন লিখিত চুক্তি ছিল না

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ ফিফা সভাপতি হওয়ার দৌড়ে সবার চেয়ে এগিয়ে ছিলেন। আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি আহ্বান করা ফিফার বিশেষ কংগ্রেসে নির্বাচনের মাধ্যমে সেপ ব্লাটারের উত্তরসূরি নির্বাচিত করার কথা ছিল। কিন্তু এখন সেই নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কিনা মিশেল প্লাতিনি সেটাই আছে শঙ্কার মধ্যে। কারণ ব্লাটারের কাছ থেকে অবৈধভাবে ২.১ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঙ্ক গ্রহণের অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। সে কারণে ব্লাটার-প্লাতিনি দু’জনই নিষিদ্ধ হয়েছেন ফিফা এথিকস কমিটির কাছ থেকে তিন মাসের জন্য সব ধরনের ফুটবল কর্মকা- থেকে। দু’জনই অবশ্য ওই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আপীল করে দাবি করেছেন কোন ধরনের অবৈধ লেনদেন করেননি তারা। তবে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফার সভাপতি প্লাতিনি সোমবার স্বীকার করলেন ফিফা থেকে নেয়া সেই অর্থের জন্য কোন ধরনের লিখিত চুক্তিপত্র নেই। তবে তিনি দাবি করেছেন ব্লাটার তাকে ফাঁসানোর ফন্দি করেছেন।

২০১১ সালে প্লাতিনিকে যে অর্থ দেয়া হয়েছিল সেটাকে এখন ব্লাটার দাবি করছেন ‘জেন্টলম্যান’স এগ্রিমেন্ট’ হিসেবে। সভাপতি পদে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ফিরে আসার জন্য তিনিও বর্তমানে আপীল করে লড়ছেন। কিন্তু মৌখিক চুক্তিতে কি কারণে প্লাতিনিকে অর্থ দেয়া হয়েছিল সেটা এখনও ঠিক পরিষ্কার নয়। প্লাতিনি দাবি করছেন সুইজারল্যান্ডের আইন মোতাবেকই ওই অর্থ আদান-প্রদান হয়েছে। সুইস আইনে আছে দু’জন ব্যক্তি অর্থ আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে লিখিত চুক্তির চেয়ে মৌখিক সম্মতিই বড়। প্লাতিনি এক সাক্ষাতকারে দাবি করেন ব্লাটার তাকে রাজনীতি করে ধ্বংস করার ফন্দি করছেন। ১৯৯৮ সাল থেকে ফিফার সর্বময় কর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন ব্লাটার। গত মে মাসে সর্বশেষ নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তিনি পঞ্চমবারের মতো সভাপতি নির্বাচিত হন। কিন্তু তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধ তদন্ত শুরুর পর ফিফা এথিকস কমিটি ব্লাটারকে বরখাস্ত করে। এর আগেই অবশ্য ফিফার বিরুদ্ধে বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় পদত্যাগ করে ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন ব্লাটার। কিন্তু এর আগেই সরে যেতে হয়েছে তাকে।

এখন ব্লাটার অর্থ আদান-প্রদানের বিষয়ে দাবি করে এক সাক্ষাতকারে বলেন, ‘সেটা ছিল আমার আর প্লাতিনির মধ্যে জেন্টলম্যান’স এগ্রিমেন্ট। এটা বাস্তবায়িত হয়েছে আইনের মধ্যে থেকেই।’ কিন্তু সে জন্য এখন যে সমালোচনা, নিন্দা এবং অপমানের মধ্যে পড়তে হয়েছে সেটাতে বেশ লজ্জা বোধ করছেন বলে জানান হতাশ প্লাতিনি। তিনি মনে করেন তাকে কাদায় ছুড়ে ফেলা হয়েছে। প্লাতিনি জানান ব্লাটার ১৯৯৮ সালে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই চেয়েছেন তাকে বিভিন্ন কাজে পাশে রাখতে। কিন্তু ১৯৯৮ সালে যেবার ফ্রান্স বিশ্বকাপ আয়োজন করেছিল তখন ব্লাটারের প্রস্তাব গ্রহণ করেননি প্লাতিনি। এরপর ব্লাটার তাকে উপদেষ্টা হিসেবে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘তুমি এ কাজের জন্য কত চাও?’ প্লাতিনি জানান তিনি বলেছিলেন, ‘এক মিলিয়ন।’ এরপর তার কাছে জানতে চাওয়া হয় কোন দেশের মুদ্রায়! তখন প্লাতিনি বলেন, ‘যেভাবে আপনি চান। সেটা হতে পারে রুবল, পাউন্ড বা ডলারে।’ প্লাতিনি দাবি করেন এরপর ব্লাটার তাকে প্রতি বছর ১ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঙ্ক দিতে রাজি হন। সেপ্টেম্বরে প্লাতিনি কাজ শুরু করেন। তিনি দাবি করেন ফিফার ওপর পূর্ণ আস্থা রেখেই তিনি অর্থের বিনিময়ে কাজ করেছেন কারণ তিনি ধনকুবের নয়। কাজ করে অর্থ উপার্জন করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু প্লাতিনির দাবি বেশ কয়েক মাস কোন ধরনের অর্থ দেয়া হয়নি তাকে। পরে ব্লাটার রাজি হন একবারে ৩ লাখ সুইস ফ্রাঙ্ক দিতে। যদিও সেটাও আর আলোর মুখ দেখেনি।