১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আপনার শিশু কি অটিস্টিক?

অটিজম কথার অর্থ হলো নিজেকে গুটানো। সমাজ থেকে, পরিবার থেকে পরিবেশ থেকে নিজেকে গুটিয়ে আড়াল করে একাকীত্ব জীবন-যাপনে অভ্যস্ত হওয়া। কেনার এই শব্দটি প্রথম আলোচনা করেন। এটি এক ধরনের উবাবষড়ঢ়সবহঃধষ ফরংড়ফবৎ যেখানে ফবাবষড়ঢ়সবহঃধষ কিছু সমস্যা ও বিহেভিয়ার কিছু সমস্যা হয় যার ফলে একজন স্বাভাবিক শিশু যেমন কথাবার্তা, যোগাযোগ ও আচার-ব্যবহার করে অটিস্টিক শিশুরা তা করতে পারে না।

প্রায় ৫.২/১০০০ অর্থাৎ হাজারে ৫.২টি শিশু এই অটিজম আক্রান্ত হতে পারে। ছেলেমেয়ে সবাই আক্রান্ত হতে পারে। তবে ছেলেরা প্রায় ৪ গুণ বেশি ভুক্তভোগী।

অটিস্টিকের কারণ কি :

অটিস্টিকের কারণ নির্দিষ্ট কোনো কিছু দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। তবে জেনেটিক, জন্মগত, বিভিন্ন ধরনের পারিবারিক ও সামাজিক প্রভাব এর সংমিশ্রণ কারণ হিসাবে ব্যখ্যা করা যেতে পারে। তবেÑ

১। জন্মগত (৫০%)

২। বাচ্চা প্রসবকালীন সময়, স্থান ও পদ্ধতি খুবই স্পর্শকাতর ইস্যু। কোনো কারণে মাথায় আঘাত পাওয়া, শ্বাসকষ্ট হওয়া ও অন্য কোনো বড় অসুখ ইত্যাদি।

৩। ক্রোমোজোম সমস্যা থাকে।

৪। সাইকোলজিক্যাল কারণের মধ্যে পিতা-মাতা খুব বসড়ঃরড়হধষষু পড়ষফ, ফবঃধপযবফ ও ড়নংবংংরাব থাকা।

লক্ষণ :

১। শিশুর সামাজিক বিকাশ একদমই হয় না। যেমনÑ বাবা-মা, আত্মীয়-স্বজন, সমবয়সীদের সাথে কোনভাবেই সম্পর্ক করতে পারে না।

২। কোনো কোনো শিশু একদম কথা বলে না, আবার কেউ কেউ বাক্য বুঝায়ে বলতে পারে না আবার অনেকের কথা ঠিকমতো শুরু হয় কিন্তু তিন বছরের পর বিলুপ্ত হয়ে যায়।

৩। আচার-ব্যবহারের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা থাকতে পারে যেমনÑ ংঃবৎবড়ঃুঢ়ব নবযধারড়ৎ করে।

৪। চোখের দিকে তাকায় না। নিজের মতো চলাফেরা করে।

৫। বাবা-মার আদর-সোহাগ বুঝে না, একটি শিশুকে কোলে নিলে যেমন হাসে, তাকায়, এ ধরনের শিশুরা এগুলো বুঝে না, তাকে তার মা নিয়েছে অন্য কেউ নিয়েছে কোনো তফাৎ থাকে না।

৬। সমবয়সীদের সাথে মিশে না, কোনো খেলাধুলা শেয়ার করে না, একাকীত্ব জীবন-যাপন করে।

৭। একই ধরনের খেলনা, একই ধরনের খেলা ও একই খাবার বেশি পছন্দ।

৮। একটা নির্দিষ্ট ভঙ্গিতে হাত তালি দেয়া, শব্দ করে, টেবিলের চতুর্দিকে হাঁটা, দৌড়াদৌড়ি করে।

৯। কোনো কোনো সময় নিজের কথা ঠিকমতো প্রকাশ করতে পারে না দেখে শরীরে আঘাত করে হাতে কামড় দেয়।

উপদেশ :

১। সাইকিয়াট্রিস্টের পরামর্শক্রমে নিয়মিত ওষধ খাওয়ানো প্রয়োজন বোধে।

২। বাবা মাকে ট্রেনিং দেয়া।

৩। রুটিন তৈরি করা।

৪। নিয়মিত ফলোআপে আসা।

৫। লেবেল অনুযায়ী ট্রেইন আপ করা।

ডা. দেলোয়ার হোসেন

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট