২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পার্বতীপুর সহ উত্তরাঞ্চলে আদিবাসীরা ঘুরে দাড়িয়েছে

পার্বতীপুর সহ উত্তরাঞ্চলে আদিবাসীরা ঘুরে দাড়িয়েছে

নিজস্ব সংবাদদাতা, পার্বতীপুর ॥ উত্তরাঞ্চলে ২৭ টি আদিবাসী জাতিসত্ত্বার বাস। এরা হলো সাঁওতাল, উরাও, মুন্ডা, মালো, মাহাতো, তুরী, মাহালী, কর্মকার, মুশহর, ভূঁইমালী, কোড়া,ভুঞ্জাল, রাজোয়াড়, তেলী,বাগদি, সিং, কোলকামার ইত্যাদি।জনসংখ্যার দিক থেকে বৃহত্তর দিনাজপুরে বেশী সংখ্যক আদিবাসীর বাস। এই সংখ্যা ৫ লক্ষের উপর । নানা প্রতিকূল অবস্থায় জীবন-সংগ্রামে লিপ্ত আদিবাসীরা এখন ঘুরে দাড়িয়েছে। শিক্ষার ক্ষেত্রে স্কুল, কলেজ, বিশ্ব বিদ্যালয়,মেডিকেল কলেজ, পলি টেকনিক্যাল প্রতিষ্ঠানে তাদের প্রবেশাধিকার বেড়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী তা ২৫-৩০%। তাদের শিক্ষার হার দ্রুত বাড়ছে। নতুন প্রজম্মের আদিবাসী যুবক-যুবতীরা পেশা পরিবর্তন করে গামের্ন্টস, কারপেন্টারী কাজে যোগ দিয়েছে।উত্তরবঙ্গে এই সংখ্যা ১০ হাজারের অধিক। বসে না থেকে তারা বিভিন্ন কাজ কর্মে লিপ্ত। এ কারনে এখন আদিবাসীরা নাখেয়ে থাকতে হয়না।

এক সময় তারা প্রচুর জমি-জমার মালিক হলেও ভূমি দস্যু ও অসৎ ভূমি অফিসের কর্মকর্তাদের যোগসাজসে দিনের পর দিন জমি হারিয়ে তারা ভূমিহীনে পরিনত হয়। এখন প্রায় ৮০ ভাগ আদিবাসী ভূমিহীন। আদিবাসীদের বৃটিশ বিরোধী উজ্জল লড়াই সংগ্রামের ইতিহাস এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে অবদান থাকলেও তাদের মূল্যায়ন করা হয়নি। ফলে আদিবাসীরা বরাবরই অবহেলিত থেকেছে। বিশেষ করে স্বাধীনতার পরে ভারত থেকে ফিরে এসে নিজ দখলীয় জমি ফেরত পায়নি। তাদের বাড়ীঘর মেরামত ও চাষাবাদ এবং হালের বলদ ক্রয় করতে গিয়ে কিছু জমি বন্দক রাখতে হয়েছে। সেই জমি মহাজনদের কাজ থেকে ফেরত পায়নি। সেগুলো জাল, ভূয়া দলিল তৈরী করে জবর দখল করা হয়েছে । এ ছাড়াও ভূমি জরিপের নামে আদিবাসীদের জমি সেটেলমেন্ট অফিসের জোগসাজসে ভূমি দস্যুদের নামে রেকর্ড হয়েছে। এ থেকে নানা সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। যেমন হত্যা,ধর্ষন, গুম, অপহরন, ঘরবাড়ীতে অগ্নিসংযোগ,লূটপাট, মিথ্যা মামলা , দেশত্যাগে বাধ্য করা ইত্যাদি। এতে আদিবাসীরা দিশেহারা হয়ে পড়ে।