২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সাদেক হোসেন খোকার ১৩ বছরের জেল, সম্পদ বাজেয়াফত

  • অবৈধ সম্পদের মামলা

কোর্ট রিপোর্টার ॥ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের মামলায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকার ১৩ বছরের সশ্রম কারাদ- হয়েছে। এছাড়া জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে সঙ্গতি না থাকায় ১০ কোটি ৫ লাখ ২১ হাজার ৮৩২ দশমিক ৫৪ টাকার মূল্যমানের অস্থাবর এবং স্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াফতের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার ঢাকার ৩ নম্বর বিশেষ জজ আবু আহমেদ জমাদার এ রায় ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে ১১ লাখ টাকা জরিমানা এবং জরিমানা আনাদায়ে তার আরও ৭ মাসের কারাদ-ের আদেশও দিয়েছে আদালত। ঢাকার সাবেক এ মেয়র বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করছেন।

২০০৪ সালের দুর্নীতি দমন আইনের ২৭(১) ধারায় ১০ বছর ও ১০ লাখ টাকা জরিমানা এবং ২৬(২) ধারায় ৩ বছর কারাদ- ও ১ লাখ টাকা জরিমানা হয়। বাজেয়াফতের নির্দেশ দেয়া সম্পদের মধ্যে আছে, রাজধানীর গুলশান-২ এর ৭২ নং রোডের ৫ কাঠার জমির ওপর প্রায় আড়াই কোটি টাকা মূল্যের ৬ তলা বাড়ি, গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈরে প্রায় সাড়ে ৭ কোটি টাকা মূল্যমানের ১০০ দশমিক ১৯৪৬ একর জমি, বুড়িগঙ্গা ইন্ডাস্টিজ লিমিটেডের নামে হাবিব ব্যাংকের মতিঝিল শাখায় চলতি হিসাব নং ৫০২৬-৮০ জমাকৃত ২৩ লাখ ১২ হাজার ৯৭৬ দশমিক ২৯ টাকা।

রায়ে উভয় সাজাই একই সঙ্গে চলার কথা বলেছেন বিচারক। রায়ে বলা হয়েছে, দ-িত আসামি সাদেক হোসেন খোকা পলাতক থাকায় তার আত্মসমর্পণের তারিখ হতে কিংবা গ্রেফতার বরণ করে আদালতে সোপর্দ হওয়ার তারিখ হতে দ-ভোগের মেয়াদ গণনা করতে হবে।

২০০৭ সালের ৬ ডিসেম্বর সাদেক হোসেন খোকা ২ কোটি ৪৪ লাখ ৮৭ হাজার ৮৬ টাকা সম্পদের হিসাব দাখিল করেন। দুদক সম্পদের তদন্তের পর ৯ কোটি ৭৬ লাখ ২৮ হাজার ২৬১ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও ৯ কোটি ৬৪ লাখ ৩ হাজার ৬০৯ টাকার তথ্য গোপনের অভিযোগে ২০০৮ সালের ২ এপ্রিল রমনা থানায় এ মামলা দায়ের করে। ২০০৮ সালের ১ জুলাই আদালতে চার্জশীট দাখিল করা হয়। তবে হাইকোর্টে সাদেক হোসেন খোকার মামলা বাতিলের আবেদনের কারণে দীর্ঘদিন নি¤œ আদালতের বিচার কার্যক্রম স্থগিত ছিল।

২০১৪ সালের ৩০ অক্টোবর বিএনপির এই নেতাকে পলাতক দেখিয়ে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। মামলাটিতে তার স্ত্রী মিসেস ইসমত আরাও আসামি। তবে চার্জশীট দাখিলের পূর্বে হাইকোর্ট তার অংশের মামলার কার্যক্রম স্থগিত করায় তার অংশের তদন্ত এখনও স্থগিত রয়েছে। মামলায় খোকার ছেলে ইসরাক হোসেন ও মেয়ে সারিকা সাদেক আসামি থাকলেও তাদের চার্জশীটে অব্যাহতি দেয়া হয়। আদালত মামলাটিতে দুদকের পক্ষে ৪২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করে।

মামলার রায়ে দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর এবং রেজাউল করিম রেজা সন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন, আসামি পলাতক থাকায় আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন।