২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সাকা ও মুজাহিদের রিভিউ আবেদনের শুনানি ২ নবেম্বর

স্টাফ রিপোর্টার ॥ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদ-প্রাপ্ত বিএনপির নেতা সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরী ও জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ আপীলের রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) যে আবেদন করেছেন, তা শুনানির জন্য ২ নবেম্বর দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। অবকাশকালীন চেম্বার বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন মঙ্গলবার রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে এই দিন ঠিক করে দেন। চেম্বার আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে এ বিষয়ে শুনানিতে অংশ নেন এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। অন্যদিকে দুই আসামির পক্ষে ছিলেন সুপ্রীমকোর্ট বারের সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন। আদেশের পর খন্দকার মাহবুব সাংবাদিকদের বলেন, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী আটজনের সাফাই সাক্ষ্য নেয়ার যে আবেদন করেছেন, সেই আবেদনও রিভিউয়ের সঙ্গে আদালতে যাবে। রিভিউ শুনানিতে পাঁচ পাকিস্তানীসহ আটজনের সাফাই সাক্ষ্য নেয়ার জন্য সোমবার তাদের নামে সমন জারির এই আবেদন করেন সাকা চৌধুরী। যাদের নাম দেয়া হয়েছে তারা হলেন পাকিস্তানের স্থপতি মুনিব আরজুমান্দ খান, পাকিস্তানের ডন গ্রুপের চেয়ারম্যান আমবর হারুণ সায়গল, পাকিস্তানের সাবেক মন্ত্রী ইসহাক খান খাকওয়ানি, ভিকারুননিসা নূনের নাতি রিয়াজ আহমেদ নূন এবং পাকিস্তানের প্রাক্তন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান মোহাম্মদ মিয়া সুমরো। বাকি তিনজন হলেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সাবেক কূটনীতিক এম ওসমান সিদ্দিক, বাংলাদেশ সুপ্রীমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি শামীম হাসনাইন ও তার মা জিনাত আরা বেগম।

এদিকে সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম মুক্তিযুদ্ধ ’৭১-এর প্রচার সম্পাদক তুষার আমীন এক বিবৃতি দিয়েছেন। বিবৃতিতে বলা হয়েছে যুদ্ধাপরাধী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পক্ষে সাফাই সাক্ষী দিতে পাকিস্তানের পাঁচ নাগরিক রাজি আছেন, এ মর্মে আদালতে আরজি দাখিল করা হয়েছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম খবরে বিস্ময় প্রকাশ করছে। এবং পূর্ণ বিচারিক কাজ সমাপ্ত হওয়ার পর একজন যুদ্ধাপরাধীর পক্ষে এ ধরনের আরজিকে অভাবিত বলে আখ্যায়িত করছে। সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম মনে করে সাফাই সাক্ষ্য দেয়ার আবদারটি নিছকই একটি প্রহসন ও দ- বাস্তবায়নের পথে বিঘœ সৃষ্টির পাঁয়তারা। অন্যদিকে এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, এ পর্যায়ে এসে আবেদন করার সুযোগ নেই। ত্বরিত গতিতে শুনানির জন্য দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। আগের মামলাগুলোও দ্রুত শুনানি হয়েছে। সময় কতদিন লাগবে এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এটা আদালতের বিষয়। তবে আমার মতে সময় লাগার কথা নয়।

আপীল বিভাগ গত ৩০ সেপ্টেম্বর জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মুজাহিদ ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর যুদ্ধাপরাধ মামলার চূড়ান্ত রায় প্রকাশ করলে পরদিন দুই আসামির বিরুদ্ধে মৃত্যু পরোয়ানা জারি করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ওই দিনই কারা কর্তৃপক্ষ ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে মুজাহিদ এবং গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে সাকা চৌধুরীকে মৃত্যু পরোয়ানা পড়ে শোনায়, শুরু হয় রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদনের দিন গণনা। নিয়মানুযায়ী রায় পড়ে শোনানোর পর ১৫ দিনের মধ্যে রিভিউ আবেদন করা যায়। ওই সময় শেষ হওয়ার একদিন আগে গত ১৪ অক্টোবর দুই যুদ্ধাপরাধীর পক্ষে রিভিউ আবেদন করা হয়।

নিয়ম অনুযায়ী, রিভিউ নিষ্পত্তির আগে তাদের দ- কার্যকর করা যাবে না। আর রিভিউ খারিজ হয়ে গেলে সেই রায়ের অনুলিপি কারাগারে যাবে এবং কারা কর্তৃপক্ষ সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আসামিদের ফাঁসি কার্যকর করবে। বর্তমানে উচ্চ আদালতে অবকাশ চলছে, তবে শুনানির জন্য অবকাশকালীন বেঞ্চ রয়েছে। অবকাশের পর ১ নবেম্বর থেকে নিয়মিত আদালত বসবে।