১৯ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বাদীর নারাজি আবেদন খারিজের বিরুদ্ধে শুনানি শেষ ॥ ৯ নবেম্বর আদেশ

  • সাত খুন মামলা

নিজস্ব সংবাদদাতা, সিদ্ধিরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, ২০ অক্টোবর ॥ বহু আলোচিত ৭ খুন মামলায় এজাহারভুক্ত ৫ আসামীকে অভিযোগপত্র থেকে অব্যাহতি দেয়ায় বাদীর নারাজির আবেদন খারিজের বিরুদ্ধে রিভিশন মামলার শুনানি সম্পন্ন হয়েছে। আদালত আগামী ৯ নবেম্বর আদেশের দিন ধার্য করেছে। মঙ্গলবার দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেন এ আদেশ দেন। আদালত মামলার বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর কেএম ফজলুর রহমান।

মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী এ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন সাংবাদিকদের জানান, আলোচিত এই হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এজাহারভুক্ত ৫ আসামীকে গ্রেফতার বা জিজ্ঞাসাবাদ ছাড়াই অভিযোগপত্র দাখিল করেছেন। ভারতের একটি আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী এই মামলার প্রধান আসামী নূর হোসেনকে দেশে ফেরত এনে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই হত্যাকা-ের পেছনে আসলে কারা জড়িত, কারা টাকার জোগান দিয়েছে তা খুঁজে বের করা প্রয়োজন। আদালতে এসব বিষয়ে যুক্তিতর্ক তুলে ধরা হয়েছে।

অভিযোগপত্র (চার্জশীট) থেকে অব্যাহতি পাওয়া আসামীরা হলো- সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন মিয়া, থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আমিনুল হক রাজু, ঠিকাদার হাসমত আলী হাসু, ব্যবসায়ী ইকবাল হোসেন ও সদ্য আওয়ামী লীগে যোগদানকারী আনোয়ার হোসেন আশিক।

এদিকে, মামলার বাদী নিহত প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম অভিযোগ করেন, নূর হোসেন দেশে আসার পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই হত্যাকা-ের মূল পরিকল্পনাকারী ও অর্থের জোগানদাতা কারা তা বের হয়ে আসবে। তাই আমি আদালতের কাছে আবেদন করেছিলাম নূর হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুনরায় মামলার তদন্ত করা হোক। তিনি বলেন, আমি চাই প্রকৃত দোষীরাই শাস্তি পাক। তিনি প্রশ্ন করেন, কি কারণে এজাহারভুক্ত ৫ আসামীকে বাদ দেয়া হলো? আর কেনই বা তাদের বাড়িতে একদিনও পুলিশ যায়নি, তাদের কেন জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি। তিনি আদালতের কাছে মামলার পুন:তদন্তের দাবি করেন। ৭ খুনের পর আমাদের নিরাপত্তায় পুলিশ থাকলেও গত সপ্তাহ থেকে পুলিশ প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে। আমরা এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। তিনি অভিযোগ করেন, ইয়াসিনসহ অন্য আসামীরা মামলা থেকে অব্যাহিত পাওয়ার পর এলাকায় এসে আমাদের লোকজনের উপর হামলা, মারধর ও মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর কেএম ফজলুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, এই মামলায় ২২ জন আসামী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী এবং ১৯ জনের সাক্ষ্য শেষে সঠিকভাবেই এই অভিযোগপত্র দেয়া হয়েছে। বাদীপক্ষ মামলাটির সময়ক্ষেপণ করার জন্য বার বার নারাজি আবেদন করছেন। আমরা বাদীর নারাজি খারিজ করে আদালতে মামলাটির বিচারকার্য শুরু করার আবেদন জানিয়েছি।