১৯ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পাহাড়ে বিদেশী সন্ত্রাসী

দীর্ঘদিন ধরে পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সীমান্ত এলাকার দুর্গম স্থানে সন্ত্রাসীদের অপতৎপরতা চলছে। এদের দমনে সেনাবাহিনী বিভিন্ন সময়ে অভিযানও পরিচালনা করেছে। সম্প্রতি সীমান্ত এলাকায় মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতার খবরও শোনা যাচ্ছে যা উৎকণ্ঠা বাড়ায়। গত কয়েকদিন ধরে দুর্গম পাহাড়ী এলাকায় বিজিবির সঙ্গে মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন আরাকান আর্মির ব্যাপক গোলাগুলিতে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এই বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলো এলাকার সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে চোরাচালানসহ নানা অপকর্মই কেবল করছে না, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের জন্য নানাভাবে হুমকিও সৃষ্টি করছে। বাংলাদেশের মাটি বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ব্যবহার করতে না দেয়ার ঘোষণা সরকার অনেক আগেই দিয়েছে। সে অনুযায়ী ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী ঘাঁটি উচ্ছেদসহ তাদের সব তৎপরতা বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছে সরকার। কিন্তু মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী সীমান্তবর্তী দুর্গম স্থানে ঘাঁটি গেড়ে নানা অপকর্মে জড়িত রয়েছে। রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি আরাকানীদের একটি গোষ্ঠী আরাকান আর্মি নামে সন্ত্রাসী তৎপরতা চালু রেখেছে বাংলার মাটিতে। এলাকাগুলো অত্যন্ত দুর্গম। সে কারণে এসব এলাকার ওপর দু’দেশেরই পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে তা নয়। যদিও ইতোমধ্যে ১১০ কিলোমিটারের মতো দুর্গম এলাকায় বিজিবির উপস্থিতি নিশ্চিত করা গেছে। দীর্ঘদিন ধরে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে ফাঁকি দিয়ে আসছে আরাকান আর্মির সদস্যরা। বিজিবি আরাকান আর্মির ১০টি ঘোড়া আটক করার পর তারই জের ধরে বান্দরবান সীমান্তে গুলিবিনিময় হয়। চোরাচালানের জন্য ঘোড়াগুলো ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এ ছাড়া অস্ত্রধারী এই সন্ত্রাসীরা বান্দরবান ও রাঙ্গামাটির সীমান্তবর্তী মানুষদের বিপথগামী করার লক্ষ্যে জোরপূর্বক পপিচাষসহ নানামুখী অপকর্ম চালাতেও বাধ্য করছে। কেউ বাধা দিলে বা বিরোধিতা করলে নির্মম আচরণ করা হয়। তবে সম্প্রতি বিজিবির টহল দলের তৎপরতায় সন্ত্রাসীরা নিরীহ মানুষের ওপর চাপ দেয়া ও নির্মম আচরণ থেকে পিছু হটেছে। বিজিবি সীমান্তকে নিরাপদ রাখার জন্য সচেষ্ট। একই সঙ্গে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বা সীমান্ত এলাকায় অন্য দেশের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা দমনেও কঠোর অবস্থান নিয়েছে। পপিচাষে বাধা দেয়ার কারণে বিজিবির উপর ক্ষুব্ধ সন্ত্রাসীরা। বান্দরবানের অরক্ষিত সীমান্ত এলাকায় মিয়ানমারের কমপক্ষে তিনটি বিচ্ছিনতাবাদী সশস্ত্র গ্রুপ রয়েছে। এরা মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে শান্তি চুক্তিতে সই করেনি। মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের দুর্গম সীমান্ত রয়েছে ২৮৪ কিলোমিটার। যার মধ্যে প্রায় ২৩০ কিলোমিটার অরক্ষিত। এর মধ্যে ৫০ কিলোমিটার টহল দেয় বিজিবি। বাকি অরক্ষিত সীমান্ত পথেই চলে সন্ত্রাসীদের এই তৎপরতা। আরাকানের সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর অপতৎপরতা দমনে মিয়ানমার ও বাংলাদেশের যৌথ অভিযান জরুরী।