২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পরিবহন নৈরাজ্য

রাজধানীতে রবিবার ভ্রাম্যমাণ আদালত কর্তৃক এক পরিবহন শ্রমিককে শাস্তি দেয়ার জের হিসেবে পরিবহন শ্রমিকরা আকস্মিক ধর্মঘটের ডাক দিলে বিপুলসংখ্যক যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েন। যাত্রীদের জিম্মি করে এ ধরনের কর্মকা- সমর্থনযোগ্য নয়। আইন সবার জন্য সমান। তাই আদালতের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ এবং বিরোধিতা করে মহানগরীর রাজপথে অচলাবস্থার সৃষ্টি করা অবশ্যই নিন্দনীয়। গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরী এবং ঢাকার আশপাশের পাঁচ জেলায় গণপরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধির ঘোষণা দেয় সরকার। সে অনুযায়ী চলতি মাসের প্রথম দিন থেকেই বর্ধিত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। শুরু থেকেই পরিবহন মালিক-শ্রমিকের বিরুদ্ধে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ ওঠে। এরপর থেকে বিআরটিএ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছে। জরিমানার পাশাপাশি কারাদণ্ড দেয়া বন্ধ করার জন্য পরিবহন মালিক সমিতির নেতারা চাপ দিয়ে আসছিল। এই বিষয়টিও অনভিপ্রেত। অপরাধ করলে বিধি অনুযায়ী শাস্তি প্রদানই স্বাভাবিক নিয়ম। ভাড়া বাড়ানোর প্রেক্ষিতে অতীতের মতো এবারও লক্ষ্য করা গেছে কোন কোন গণপরিবহন যাত্রীদের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়েও বেশি হারে ভাড়া আদায় করছে। একই অনিয়মের পুনরাবৃত্তি ঘটা দুঃখজনক ও অনাকাক্সিক্ষত।

রাজধানীর গণপরিবহনের অব্যবস্থাপনা দুঃসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে অনেক আগেই। কোথাও যাওয়ার জন্য নাগরিকদের রাস্তায় নেমেই এক বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। গন্তব্যে যাওয়ার জন্য তাড়া আছে কিন্তু যানবাহনের তীব্র সঙ্কট। অফিসে যাওয়া, বাচ্চার স্কুল, বিয়ে-দাওয়াত, পার্টিতে যাওয়া, এমনকি রোগী নিয়ে হাসপাতালে যাওয়া- প্রয়োজনীয় কোন গন্তব্যেই যে সময়মতো পৌঁছানো যাবে তার কোন গ্যারান্টি নেই। বাসে উঠতে গেলে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। ট্যাক্সিক্যাব অপ্রতুল, ভাড়াও অতিরিক্ত। সিএনজি চালিত অটোরিক্সা মিটারবহির্ভূত অধিক ভাড়া নিয়েও প্রয়োজনীয় গন্তব্যে যেতে নারাজ। এর বাইরে বিকল্প যানবাহনও অপ্রতুল। এ অবস্থায় মানুষজনের ভোগান্তির কোন সীমা-পরিসীমা নেই।

গণপরিবহনের এসব দুরবস্থা এবং যাত্রীদের সীমাহীন দুর্ভোগ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট মহল জ্ঞাত নন এটা আমাদের কাছে বিশ্বাসযোগ্য মনে হয় না। তারপরও কেন মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে সুপরিকল্পনা এবং যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হয় না তা আমাদের বোধগম্য নয়। আমরা আগেও বলেছি, মালিক-যাত্রী-পরিবহন শ্রমিক- সব পক্ষেরই স্বার্থের সুরক্ষা সরকারকে দিতে হবে। এই সুরক্ষাদানের বিষয়টিও হতে হয় ভারসাম্যপূর্ণ ও জনমুখী। যাত্রীসাধারণ যেখানে অসংগঠিত, অসহায়, সেখানে মালিক শ্রেণী প্রভাবশালী ও সংঘবদ্ধ। তাই সরকারকেই পরিবহন সেক্টরে সুষ্ঠু নীতির প্রয়োগ ঘটাতে হবে। যাত্রীসুবিধার দিকটিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। প্রভাবশালী ক’জন রাজনীতিক রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। ফলে গণপরিবহনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরকারী দফতরগুলোর ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু ব্যবসায়িক স্বার্থের কাছে জনস্বার্থ উপেক্ষিত হচ্ছে কিনা সেটাই দেখার বিষয়।

পরিবহন নৈরাজ্য নিরসনে সরকার আইনসম্মত উপায়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করছে এটা স্বস্তিকর হবে। কোটি রাজধানীবাসীর সুবিধার দিকে লক্ষ্য রেখে আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। মনে রাখতে হবে যাত্রীদের কাছ থেকে প্রাপ্ত ভাড়ার টাকার ওপরেই টিকে আছে গোটা পরিবহন সেক্টর। তাই মানুষকে দুর্দশায় ফেলে অনৈতিক উপায়ে কোন মুনাফা করার সুযোগ নেই। দেশের আইন মান্য করা প্রতিটি নাগরিকের আবশ্যিক দায়িত্ব।