২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নিরঙ্কুশ জয় লিবারেলদের

  • কানাডায় কনজারভেটিভদের এক দশকের শাসনের অবসান ॥ নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেন হারপার

কানাডার পার্লামেন্ট নির্বাচনে জাস্টিন ট্রুডোর নেতৃত্বাধীন লিবারেল পার্টি নিরঙ্কুশ জয়লাভ করেছে। পার্লামেন্টে তৃতীয় অবস্থানে থেকে প্রচার শুরু করে দলটি সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দেশটিতে কনজারভেটিভদের প্রায় এক দশকের শাসন অবসান হতে যাচ্ছে। খবর এএফপি ও বিবিসির।

৪৩ বছর বয়সী ট্রুডো দেশটির প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী পিয়েরে ট্রুডোর ছেলে। পিয়েরেকে আধুনিক কানাডার জনক হিসেবে মান্য করা হয়। ট্রুডো বেশ জনপ্রিয় ছিলেন। জাস্টিনও এমন জনপ্রিয় হবেন বলে তার সমর্থকেরা আশা করছেন। কানাডার অনেক নাগরিক এই নির্বাচনকে হারপারের ব্যবস্থাপনা রীতির ওপর একটি গণভোট বলে মনে করছেন। একপেশে শাসনের অভিযোগ তুলে অনেকে সমালোচনাও করেন তার। তবে দেশের অর্থনীতি সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে সংগ্রাম করে যাচ্ছিলেন হারপার। ট্রুডোর নির্বাচনী প্রচারের অন্যতম অঙ্গীকার ছিল উচ্চবিত্তের জন্য কর বাড়ানো ও মধ্যবিত্তের জন্য কর কমানো।

ট্রুডো কানাডায় নতুন পরিবর্তন আনার কথা বলেছেন। ইলেকশন কানাডা জানিয়েছে, হাউস অব কমন্সে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয় পেয়েছে ট্রুডোর দল। প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে, অন্টারিও, কুয়েবেক ও পশ্চিমাঞ্চলের প্রদেশগুলোতে লিবারেল দল ভালো করেছে। আটলান্টিকের উপকূলীয় প্রদেশগুলোতে লিবারেল পার্টি ৩২টি আসনে জয় পেয়েছে। এ অঞ্চলে তাদের জনপ্রিয়তা আগে থেকেই। এবার তা আরও বেড়েছে। নির্বাচনে জয় নিশ্চিত হওয়ার পর ট্রুডো বলেন, প্রকৃত পরিবর্তনের লক্ষ্যেই কানাডীয়রা ভোট দিয়েছেন। তার দল কানাডায় কেবল সরকারের পরিবর্তন আনবে না। ভালো সরকার দেবে। সোমবার রাতে বিজয়ী ভাষণে ট্রুডো বলেন, কানাডা আগে যেমন উদারপন্থী ছিল, এখন আবার সে রকম হয়ে যাচ্ছে। এখন কানাডায় সত্যিকারের বদল আসবে। ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ দলের প্রধানমন্ত্রী স্টিফের হারপার নির্বাচনে আগাম পরাজয় স্বীকার করে নিয়ে দলটির নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। কানাডার নির্বাচনী ইতিহাসে এবারই সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে প্রচার চালানো হয়েছে। জরিপে দলগুলোর মধ্যে ব্যবধান ছিল সামান্যই। ফলে এটিই দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন বলে অভিহিত করেছিলেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। এদিকে হারপার বলেছেন, তিনি ইতোমধ্যে ট্রুডোকে অভিনন্দন জানিয়েছে। তিনি বলেন, কনজারভেটিভরা নির্বাচনের ফল দ্বিধাহীনভাবে মেনে নেবে। হারপারের ওই ঘোষণার কিছু সময় পরই ট্রুডো তার সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, কানাডার জনগণ একটি পরিষ্কার বার্তা দিয়েছে- পরিবর্তনের এখনই সময়। খুব কমসংখ্যক মানুষই ভাবতে পেরেছিল লিবারেলরা এতবড় জয় অর্জন করবে।

লিবারেলরা ৩৩৮টি আসনের মধ্যে ১৮৪ আসন পেয়েছে, যা নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার চেয়ে ১৪টি আসন বেশি। অথচ এই দলটিই ২০১১ সালের নির্বাচনে মাত্র ৩৬টি আসন পেয়েছিল। পার্লামেন্টে তৃতীয় স্থানে থাকা কোন দলের পরের নির্বাচনেই সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয় পাওয়ার ঘটনা দেশটির ইতিহাসে এবারই প্রথম। ২০০৮ সালে মন্ট্রিয় থেকে নির্বাচিত হন ট্রুডো। পাঁচ বছর পর তিনি উদারপন্থী রাজনীতিতে আসেন। তিনি কানাডার মধ্যবিত্ত শ্রেণীর কাছে বেশি জনপ্রিয়। এবারের নির্বাচনে বামপন্থী নিউ ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এনডিপি) ৪৪টি আসনে জয় পেয়েছে। আগের পার্লামেন্টেই দলটির আসন ছিল এর দ্বিগুণেরও বেশি। কানাডার পার্লামেন্টে মোট আসন ৩৩৮টি। জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে এই আসনের আইন প্রণেতারা নির্বাচিত হন। পরবর্তী সময়ে পার্লামেন্টের সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হন প্রধানমন্ত্রী।