২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

গাইবান্ধার শীতের ফসল সরিষা কচু ও মরিচ

আবু জাফর সাবু, গাইবান্ধা ॥ গাইবান্ধার শীতের অন্যতম ফসল সরিষা, কচু ও মরিচ। হেমন্তের শুরুতেই শীতের প্রারম্ভেই ইতোমধ্যে এই ফসলগুলোর উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিশেষ করে চরাঞ্চলগুলোতে সরিষা এবং মরিচ ফলতেও শুরু করেছে। এছাড়া বিশেষ জাতের কচু ইদানীং চরাঞ্চলে উৎপাদন করা হচ্ছে। চরাঞ্চলের বাইরেও এই জেলায় বৈয়া কচু একটি অন্যতম জনপ্রিয় ফসল।

জেলার তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র নদী তীরবর্তী চরাঞ্চলে নদীবাহিত পলির বেলে-দোআঁশ মাটিতে ব্যাপকভাবে সরিষা চাষ হচ্ছে। উঁচু এলাকার জমির চাইতে চরাঞ্চলের উর্বর জমিতেই এ বছর সরিষা চাষে সাফল্যে আশানুরূপ সরিষা উৎপাদন হচ্ছে বলে জানা গেছে। ফলে মঙ্গাপ্রবণ এসব এলাকার দরিদ্র কৃষকরা রবি মৌসুমে সরিষা চাষ করে অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। আগে যে সমস্ত জমিতে ভুট্টা চাষ করা হতো সেই জমিতেই এখন সরিষা চাষ করা হচ্ছে। সরিষার বাড়ন্ত ফুলে ভরা গাছগুলো দেখে অধিক সরিষা উৎপাদনে আশান্বিত হয়ে উঠছেন কৃষকরা। এছাড়াও শীতের রবি মৌসুমে মরিচ, ছিটানো পেঁয়াজ, মিষ্টি কুমড়া, ডাল, ভুট্টা, ধনিয়া পাতা, আলু ও মিষ্টি আলু, বাদামসহ বিভিন্ন জাতের ফসল উৎপাদিত হচ্ছে জেলার চরাঞ্চলগুলোতে।

চরাঞ্চলে বৈয়া কচুর ফলন ভাল না হলেও পাতা সর্বস্ব এক জাতের কচু ব্যাপকহারেই চাষ হচ্ছে। তবে গাইবান্ধার অন্যান্য অঞ্চলে শীত মৌসুমে বৈয়া কচু, মুখী, বাক্স বা কাঠ কচু এবং বুনো কচু এখন ব্যাপকভাবেই চাষ হচ্ছে।

অপেক্ষাকৃত নিচু জমিতে বাক্স বা কাঠ কচু এবং উঁচু জমিতে বৈয়া ও মুখী জাতের কচু চাষ করা হচ্ছে। সম্প্রতি বৈয়া ও মুখী জাতের কচুর চাহিদা ও মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় এই দুই জাতের কচু চাষের দিকেই চাষীরা বেশি মাত্রায় ঝুঁকে পড়ছে। অল্প সময়ে ও কম খরচে কচু চাষ করা সম্ভব হয়। এছাড়া কচুতে রোগবালাইও অত্যন্ত কম। ফলে সব্জিচাষীদের মধ্যে কচু চাষের চাহিদা বেড়েছে। এখন ভিটে বাড়ির আশপাশে কচু চাষ করা হচ্ছে।

কচুচাষীরা জানান, কচু চারা রোপণের ৬ মাসের মধ্যেই তা কাটা সম্ভব হয়। ৪ মাস হতেই কচু কেটে তা বিক্রি করা যায়। তাছাড়া চারা রোপণের পর কোন কীটনাশক ও সার প্রয়োগ করার প্রয়োজন নেই। চারা রোপণ করে রাখলেই কোন বাড়তি খরচ ছাড়াই এমনি এ ফসল বেড়ে ওঠে।

গাইবান্ধার ফুলছড়ি, সাঘাটা, সুন্দরগঞ্জ ও সদর উপজেলার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে এখন শীত মৌসুমে ব্যাপকহারে মরিচের চাষ হচ্ছে। অনুর্বর বালুময় ভূমিতে মরিচ চাষ করে কৃষকরা লাভবানও হচ্ছেন। আর এই বেচাকেনাকে কেন্দ্র করে ব্রহ্মপুত্র নদীর কোলঘেঁষে চরাঞ্চলের সবচেয়ে বড় হাট ফুলছড়ি এখন মরিচের হাট নামে খ্যাতি অর্জন করেছে। চরাঞ্চলের জমিগুলোতে কৃষকরা মরিচ চাষে উৎসাহী হয়ে ওঠায় নদী তীরবর্তী গ্রামীণ হাটগুলোতে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। তাই হাটগুলোতে এখন সারা বছর কাঁচা, পাকা এবং শুকনা মরিচের ব্যবসা জমে উঠেছে। কম খরচ ও শ্রমে অধিক লাভবান হওয়ায় জেলার ১শ’ ২২টি চরের মানুষের কাছে মরিচ একটি লাভজনক ফসল হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।