২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নারীরাই কাজে থাকবে, দেশে কোন জঙ্গী থাকবে না

  • মিনা মিডিয়া এ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার ॥ শিশুদের মধ্যে ইতিহাস, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পর্কিত জ্ঞান ছড়িয়ে দেয়ার আহ্বান জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, শিশুদের মধ্যে ইতিহাস, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পর্কিত জ্ঞান ছড়িয়ে দিতে হবে। সম্প্রতি একটি জঙ্গী সংগঠন কর্তৃক গণমাধ্যকে হুমকি দিয়ে বার্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গণমাধ্যমে নারী রাখা যাবে না, নারীরা কর্মে থাকবে না; এটা তো তেঁতুল হুজুরদের কথা। তেঁতুল হুজুরের কথায় তো আর দেশ চলে না। হুঁশিয়ারি করে বলে দিচ্ছি নারীরাই কাজে থাকবে, দেশে কোন জঙ্গী থাকবে না।

মঙ্গলবার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে মীনা মিডিয়া এওয়ার্ড-২০১৫ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। গণমাধ্যমে শিশু অধিকার বিষয়ক সংবাদ প্রকাশে অবদান রাখায় ইউনিসেফ এ বছর ৪৫ জন গণমাধ্যম কর্মীকে পুরস্কার প্রদান করে। পুরস্কারপ্রাপ্তদের অধিকাংশই ঢাকার বাইরের আঞ্চলিক ও কমিনিউটি সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত। যার বড় অংশটিই নারীদের দখলে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, একাদশতম মীনা মিডিয়া এ্যাওয়ার্ড অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া জাগায়, এ বছর সবমিলিয়ে প্রায় ৬৫০টির বেশি প্রতিবেদন জমা পড়ে। সৃজনশীল ও সাংবাদিকতা দুইটি শ্রেণীতে প্রিন্ট, টেলিভিশন ও রেডিও মোট ৬ ক্যাটাগরিতে ৪৫ জনকে পুরস্কার প্রদান করা হয়।

যে কোন মূল্যে জঙ্গীদের উৎখাত করা হবে জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, যে কোন মূল্যে এদের দমন করা হবে। এদের শাসন করে কোন লাভ নেই, এদের ধ্বংস করে দিতে হয়; ধ্বংস করে দেয়া হবে। উগ্রপন্থী গোষ্ঠী কর্তৃক সাময়িক উৎপাত হচ্ছে, কিন্তু মনে রাখতে হবে অন্যায়ের কাছে মাথা নত করে দেশটাকে ইজারা দিতে পারি না। সবাইকে বলব জোট বাধেন, আমরা আপনাদের পাশে আছি।

রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দও লিঙ্গ বৈষম্যের ব্যাপারে অসচেতন উল্লেখ করে ইনু বলেন, রাজনৈতিক দল ও নেতাকর্মীদের লিঙ্গ বৈষম্যের ব্যাপারে যতটুকু সচেতন থাকার দরকার তারা ঠিক ততটুকু নয়। এ ঘাটতি দূর করা সম্ভব না হলে আমরা লিঙ্গ বৈষম্য থেকে বের হয়ে আসতে পারব না। তিনি আরও বলেন, মিনার চরিত্র হচ্ছে নারী-পুরুষকে সমানভাবে দেখা। বালক-বালিকাকে আলাদাভাবে না দেখা। এ চরিত্রের মধ্য দিয়ে শিশুদের মধ্যে এর মূল বার্তা পৌঁছে দিতে হবে। ইনু বলেন, মিনা এমন একটি চরিত্র যা বয়সন্ধিকাল প্রকাশ করে। যে বালিকারা পুরস্কার পেলেন; তাদের বলব- তারা বন্ধুত্ব করবে কিন্তু প্রেম ও বিয়ে করবে না। এমন চিন্তা তাদের মধ্যে ঢুকতে হবে। শিশুদের মধ্যে তিনটি বিষয় ছড়িয়ে দিতে হবে।

অংশগ্রহণকারী এবং পুরস্কারপ্রাপ্তগণকে অভিনন্দন জানিয়ে ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রতিনিধি লুইস ভনো বলেন, প্রতিবছর এ প্রতিযোগিতাটি নিজেই নিজের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে যাচ্ছে। প্রতিবছর আমরা আগের চেয়ে ১০০টিরও বেশি প্রতিবেদন জমা পড়ে, যা শিশু অধিকার প্রতিষ্ঠা করার জন্য আপনাদের একনিষ্ঠতাকে তুলে ধরে। আপনাদের অসামান্য কাজের স্বীকৃতি দিতে পেরে আমরা গর্বিত।

‘মীনা’ সামাজিক পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে সমগ্র দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে এনিমেটেড কার্টুন চরিত্র হিসেবে পরিচিত। চরিত্রটি শিশু অধিকার সমুন্নত রাখার কাজে অনবদ্য ভূমিকা পালন করে চলছে। শিশুদের কণ্ঠস্বর হিসেবে পরিচিত মীনা। তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, ইউনিসেফের শুভেচ্ছা দূত আরিফা জামান মৌসুমি, জুয়েল আইচ ও ইউনিসেফ বাংলাদেশের সহকারী প্রধান লুইস ভনো পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে ক্রেস্ট ও সনদপত্র তুলে দেন।