২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জন্মদিনে শেবাগের অবসর

জন্মদিনে শেবাগের অবসর

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার ছিল বীরেন্দর শেবাগের ৩৭তম জন্ম দিন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর জন্য এ দিনটিকেই বেছে নিলেন তুখোড় ভারতীয় ওপেনার। গুঞ্জনটাই শেষ পর্যন্ত সত্যি হলো। সাবেক তারকাদের নিয়ে দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত হবে মাস্টার্স চ্যাম্পিয়ন্স লীগ (এমসিএল) টি২০, সেখানে অংশ নিতে অবসর নিচ্ছেন শেবাগ- সোমবার এমন খবর চাউর হয়। শেবাগের ঘনিষ্ঠজনের বরাত দিয়ে অনেক মাধ্যম আবার সেই খবর উড়িয়েও দেয়! দু’দিন এ নিয়ে তাই খোদ ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমেও ধোঁয়াশা ছিল। শেষ পর্যন্ত ‘বিদায়’ বললেন শেবাগ। এর মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটল ভারতীয় ক্রিকেটের ‘রোমাঞ্চকর’ এক ব্যাটিং অধ্যায়ের।

‘ভাবছি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়ে কেবল প্রথমশ্রেণীতে খেলব। হয়ত আমি সাবেক হয়ে গেছি! তবে দেশে ফিরেই সবকিছু অফিসিয়ালি জানাব।’ একদিন আগে দুবাইয়ে এমসিএলের অনুষ্ঠানে বলছিলেন শেবাগ। সেটিকেই সূত্র ধরে মঙ্গলবার ক্রিকেটের শক্তিশালী ওয়েসাইট ‘ক্রিকইনফো’, বিশ্বজুড়ে পরিচিত সংবাদ মাধ্যম ‘এএফপি’ এবং ভারতীয় গণমাধ্যমে অবসরের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়। তবে এ রিপোর্ট লেখার সময় শেবাগের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। কেবলই কি এমসিএলে খেলার জন্য অবসর? প্রশ্নটা গুরুত্বপূর্ণ। উত্তরটা, সম্ভবত ‘না’। কারণ গত আইপিএলেও শেবাগ জানিয়েছিলেন, এখনও জাতীয় দলের ফেরার আশায় তিনি। বিশেষ করে সাদা পোশাকের টেস্টে। সোমবার দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আসন্ন প্রথম দুই টেস্টের দল ঘোষণা করে ভারত। বিবেচিত হননি তিনি। বুঝলেন সময় হয়েছে ‘বিদায়’ বলার।

টাইমিংটা ‘এমসিএলে’র সঙ্গে মিলে যাওয়ায় অনেকে এটিকেই বড় করে দেখছেন। আসলে কি হয়েছিল দুবাইয়ে? দু’দিন আগেই শেবাগের অন্যতম সতীর্থ জহির কান ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়েছেন। জহির প্রসঙ্গেই এমসিএলের ওই অনুষ্ঠানে শেবাগ প্রসঙ্গ উঠে আসে। তিনি তখন বলেন, ‘আমি কিন্তু এখনও প্রথমশ্রেণীতে ম্যাচ খেলছি। দেশে ফিরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের কথা জানাব।’ ওই অনুষ্ঠানে খোদ আইসিসির নির্বাহী ডেভ রিচার্ডসন উপস্থিত ছিলেন। সাংদিকদের এক প্রশ্নে আগ বাড়িয়ে তিনিই শেবাগের অবসর নিয়ে মন্তব্য করে বসেন! তারপরই ঝড়ের বেগে খবরটা ছড়িয়ে পড়ে। অবশ্য সোমবার রাতে ভারতের প্রভাবশালী এক সংবাদ মাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘এখনো চূড়ান্ত ঘোষণা দেইনি। দিলে টুইট করে তা সবাইকে জানাব।’ গ্রেট শচীন টেন্ডুলকর-শেন ওয়ার্নের উদ্যাগে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এমসিএলে সুযোগ পেতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেয়া বাধ্যতামূলক।

অবসরে যাওয়া এক ঝাঁক রথী-মহারথীকে নিয়ে আগামী জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হবে এমসিএল। টুর্নামেন্টের অফিসিয়াল হোম পেজে কয়েকটি জার্সির ছবি দিয়ে সেগুলোর পেছনে এ্যাডাম গিলক্রিস্ট, কুমার সাঙ্গাকারা, ব্রায়ান লারা, ওয়াসিম আকরাম, জ্যাক ক্যালিস ও মাহেলা জয়াবর্ধনের নাম লেখা ছিল। একটি জার্সিতে ছিল কেবল ‘প্রশ্নবোধক’ চিহ্ন! দুই বছর আগে ২০১৩ সালের মার্চে হায়দরাবাদে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্ট এবং একই বছর জানুয়ারিতে কলকাতায় পাকিস্তানের বিপক্ষে সর্বশেষ ওয়ানডে খেলেন শেবাগ। ২০১২Ñএর অক্টোবরের পর আর টি২০তে জায়াগ হয়নি। মাত্র ১০৪ টেস্টে ৮,৫৮৬ রান নিয়ে ভারতের সর্বকালের সেরা ব্যাটসম্যানদের তালিকায় পঞ্চম স্থানে শেবাগ। দেশটির হয়ে দু-দুটি ট্রিপল সেঞ্চুরি হাঁকানো একমাত্র ব্যাটসম্যানও তিনি।

২৫১ ওয়ানডেতে শেবাগের রান সংখ্যা ৮,২৭৩। ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ২১৯, যা তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে। এছাড়া ডানহাতি অফস্পিনে টেস্টে ৪০ ও ওয়ানডেত শিকার করেছেন ৯৬ উইকেট। ১৯৯৯ সালে অভিষেকের পর মূলত রঙিন পোশাকের সীমিত ওভারের ম্যাচেই খেলতেন। কিন্তু ২০০১ সালে সুযোগ পেয়ে টেস্টে ব্যাটিংয়ের ধারণাটাই পাল্টে দেন। ২০০২ সালে তৎকালিন কোচ জন রাইট ও অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলীর হাত ধরে দিল্লীর এই ব্যাটসম্যানের সাদা পোশাকে ওপেনিংয়ের সুযোগ ঘটে। ৮৪ রান করে পাওয়া সুযোগটাকে কাজে লাগান। ওপেনার হিসেবে তার ব্যাটিং গড় ৮২.২৩Ñ যা যে কোন ব্যাটসম্যনের সর্বোচ্চ।

২০০৩-২০০৪ ছিল শেবাগের ক্যারিয়ারের সোনালি সময়। ৯ টেস্টে করেছিলেন ১০৪০ রান। যার মধ্যে ছিল এমসিজি টেস্টের এক দিনেই ১৯৫ রানের মতো বিরল কৃতিত্ব। সেই বছরই প্রথম ভারতীয় হিসেবে ট্রিপল সেঞ্চুরি হাঁকান শেবাগ। মুলতানে পাকিস্তানের বিপক্ষে করেন ৩০৯ রান। ২০০৮Ñএ চেন্নাইয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলেন ৩১৯ রানের মহাকাব্যিক ইনিংস। এছাড়া ক্যারিয়ারে ২শ’ উর্ধ ইনিংস রয়েছে চারটি। টেস্টে মুম্বাইয়ে দু-বার, গল, কানপুর, কলকাতা, কলম্বো ও আহমেদাবাদের ম্যাচজয়ী দুরন্ত সেই ইনিংসগুলো এখনও শেবাগের স্মৃতিতে জ্বলজলে। ২০০৮ সালেই এ্যাডিলেডে টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে তার করা ১৫১ রানে ভর করে জয় সম এক ড্র পেয়েছিল ভারত। টেস্টে মোট ২৩ সেঞ্চুরিরর ১৪টিকেই ১৫০-এর ওপরে নিয়ে গিয়েছিলেন দিল্লীতে জন্ম নেয়া এই ড্যাশিং উইলোবাজ। দখল করেছিলেন আইসিসি র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান।

২০১২ সালে শেবাগ নবম ভারতীয় হিসেবে শততম টেস্ট খেলার কৃতিত্ব দেখান। এতট না হলেও রঙিন পোশাকে ঔজ্জ্বল্য কম ছড়াননি। ১৫ সেঞ্চুরিরর ১৪টিতেই জিতিয়েছেন ভারতকে। প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরি পান ২২ বছর বয়সে, ৬৯ বলে। ২০১১Ñএ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে হাঁকান ডাবল সেঞ্চুরি। ২০০৭ টি২০ এবং ২০১১ ওয়ানডে বিশ্বকাপজয়ী ভারত দলের গর্বিত সদস্য। ২০০৩-১২ সালের মধ্যে ১২ ওয়ানডে এবং ৪ টেস্টে দলকে নেতৃত্বও দিয়েছেন বীরেন্দর শেবাগ।