২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ভিন্ন ম্যাচে আজ মাঠে নামছে দুই মোহামেডান

রুমেল খান, চট্টগ্রাম থেকে ॥ শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট দিয়ে চট্টগ্রামে শুরু হয়ে গেছে ফুটবল যজ্ঞ। এতে অংশ নিচ্ছে দেশ-বিদেশের আট ক্লাব। এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে প্রথম ম্যাচে আজ বিকেল সাড়ে ৪টায় শ্রীলঙ্কার সলিড স্পোর্টস ক্লাবের মুখোমুখি হবে ভারতের কলকাতা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। আর দ্বিতীয় ম্যাচে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বাংলাদেশের ঢাকা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব লিমিটেড মুখোমুখি হবে আফগানিস্তানের ডি স্পিন ঘার বাজান ফুটবল ক্লাবের। বাংলাদেশী তিন ক্লাবের মধ্যে আছে ঐতিহ্যবাহী মোহামেডান। যদিও প্রথমদিকে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) ক্যালেন্ডারে এই টুর্নামেন্টটি ছিল না। ফলে তড়িঘড়ি করেই ক্লাবগুলোকে প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে। এ জন্য অনেক সমস্যায়ও পড়েছে ঢাকা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। সবচেয়ে বড় সমস্যা- তিন বিদেশী খেলোয়াড় খেলানোর সুযোগ থাকলেও নানা জটিলতায় বিদেশী আছে মাত্র একজন। প্রস্তুতিও বেশিদিন ধরে নিতে পারেনি তারা। তারপরও অন্তত টুর্নামেন্টের শেষ চারে উন্নীত হওয়ার বিষয়ে আশাবাদী ২০১৪-১৫ মৌসুমে পেশাদার লীগে তৃতীয়স্থানে থেকে শেষ করা মোহামেডান। টুর্নামেন্টে অংশ নিতে দলটি এখন চট্টগ্রামে গিয়ে অনুশীলনে ঘাম ঝরাচ্ছে। অনুশীনের আগে কোচ কাজী জসিম উদ্দিন জোসি বলেন, ‘ক্লাবের ঐতিহ্য এবং সুনাম অনুযায়ী মোহামেডান সবসময় ভাল ফল করার চেষ্টা করে। ১৬ খেলোয়াড় নিয়ে এ কয়দিন নয় সেশন অনুশীলন করিয়েছি। পুরো টিমটা এখনও পাইনি। বিদেশী এলিটা বেঞ্জামিন খেলার কথা বলেও না বলে নিজ দেশে ফিরে গেছে। আপাতত আমাদের একজন বিদেশী আছে। সে হলো নাইজিরিয়ান মাইকেল। গিনির ইসমাইল বাঙ্গুরা ছিল আমাদের মূল স্ট্রাইকার। সে এবারের প্রিমিয়ার লীগে ১৭ গোল করেছে। ভিসা জটিলতার কারণে সে বাংলাদেশে এখনও আসতে পারেনি।’ দলের দুর্বলতা? ‘রক্ষণভাগের একটা সেট-আপ ছিল লীগে। সেটিও এখন নেই। একটা তৈরি ঘর। আর নতুন করে তৈরি ঘরের মধ্যে একটা তফাৎ থাকে। তারপরও আমি আশাবাদী। আমাদের স্থানীয় যে ফুটবলাররা আছে তারা আপ্রাণ চেষ্টা করে যাবে।’ জোসির আশাবাদ। বিদেশী দলগুলো সম্পর্কে তেমন কোন ধারণা নেই জোসির, ‘শুধু কলকাতা মোহামেডান ও ইস্টবেঙ্গলএ দুটি দল সম্পর্কে কিছুটা জানা আছে। আসলে টুর্নামেন্টে খেলার মতো মানসিক প্রস্তুতি কারওই ছিল না। যেহেতু এটি বাফুফের ক্যালেন্ডারে ছিল না। হঠাৎ করেই টুর্নামেন্টটা চলে এসেছে। তাই হঠাৎই প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে। প্রস্তুতি পর্যাপ্ত না থাকায় আর পুরনো খেলোয়াড়গুলো না থাকায় এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। সব খেলোয়াড়দের পেলে তাদের নিয়ে আরও এক দুইদিন অনুশীলন করলে হয় তো টিমের অবস্থাটা বোঝা যাবে।’

টুর্নামেন্টে খেলতে প্রতি ক্লাবই চেষ্টা চালিয়েছে অন্য ক্লাব থেকে খেলোয়াড় ধার করে নিজেদের শক্তি বাড়াতে। মোহামেডানেও শামিল হয়েছে সেই প্রচেষ্টায়। টিম বিজেএমসির ফরোয়ার্ড নাবিব নওয়াজ জীবন এবং মুক্তিযোদ্ধার ডিফেন্ডার ফয়সাল মাহমুদকে নিয়েছে তারা। দলের অধিনায়ক-ডিফেন্ডার অরূপ কুমার বৈদ্য বলেন, ‘আমরা ভাল খেলে দর্শকদের আনন্দ দেয়ার চেষ্টা করব।’

২০১২ সালে আফগান ক্লাব ডি স্পিন ঘারের জন্ম। এ সময়ের মধ্যে প্রিমিয়ার লীগ শিরোপা জেতার কৃতিত্ব দেখিয়েছে তারা। আফগান কোচ ওয়াহিদুল্লাহ বলেন, ‘সাফে আফগানস্তান চ্যাম্পিয়ন। সেই মর্যাদা ধরে রাখতে আমরা আঞ্চলিক এই টুর্নামেন্টেও চ্যাম্পিয়ন হতে চাই। জাতীয় দলের ছয় খেলোয়াড় এই দলে আছে। এখানে আসার আগে আমরা চারটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছি। আশা করি এই প্রস্তুতি আমাদের এখানে ভাল খেলার বিষয়ে সহায়ক হবে। টুর্নামেন্টে অবশ্যই আমরা চ্যাম্পিয়ন হব।’ আফগান দলপতি সাইদ মোহাম্মদ হাশমী বলেন, ‘আমাদের দলটা ভাল। এমন একটা টুর্নামেন্টে আমাদের আমন্ত্রণ জানানোর জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ।’ কলকাতা মোহামেডানের কোচ সুব্রত ভটাচার্য বলেন, ‘ক’দিন আগেই আমরা লীগ খেলে এসেছি। ফলে আমরা খেলার মধ্যেই আছি।’ দলটির তিন বিদেশী ও এক স্বদেশী ফুটবলার ভিসা জটিলতার কারণে দলের সঙ্গে যোগ দিতে পারেননি। জাতীয় অনুর্ধ ২৩ দলের পাঁচ ফুটবলার আছেন দলটিতে। এছাড়া দলের তিন ফুটবলার এখন আইএসএল-এ খেলছে। শ্রীলঙ্কার সলিড এসসির কোচ এমআর জাসমিন বলেন, ‘লীগ চ্যাম্পিয়ন হয়েই এখানে এসেছি। এই আসরের শিরোপা জিততে সর্বাত্মক চেষ্টা করব। আমাদের প্রথম ম্যাচের প্রতিপক্ষ ঢাকা মোহামেডান ভাল দল। তাদের সমীহ করছি।’ দলে আছে ৩ বিদেশী ও ৫ জাতীয় ফুটবলার। প্রায় ১২৫ বছরের পুরনো ক্লাব কলকাতা মোহামেডান। শেখ কামাল টুর্নামেন্ট থেকে কলকাতা মোহনবাগান ক্লাব নাম প্রত্যাহার করায় পরে মোহামেডানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। টুর্নামেন্টে তাদের প্রথম খেলা শ্রীলঙ্কা সলিডের বিপক্ষে। কিন্তু প্রতিপক্ষ ছাপিয়ে কাল ঢাকা মোহামেডান প্রসঙ্গেও কথা বলেন কলকাতা মোহামেডান কোচ সুব্রত ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, ‘দুই মোহামেডানের লড়াই নিয়ে অনেকের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ দেখতে পাচ্ছি। সেটা হতেই পারে। তবে মাঠে কোন বন্ধুত্ব নেই। আমরা এখানে বেড়াতে আসিনি। আমরা চ্যাম্পিয়ন হতেই এসেছি।’ এখন দেখার বিষয়, আজকের দুই ম্যাচে দুই ‘সাদা-কালো’ দল কেমন ফল করে।