২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জয় পেল শুধু বরিশাল

  • ওয়ালটন ১৭তম জাতীয় ক্রিকেট লীগ;###;শতক পেলেন মেহরাব জুনিয়র, জাকির, শান্ত ;###;৫ উইকেট নিলেন সোহাগ

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ ওয়ালটন ১৭তম জাতীয় ক্রিকেট লীগের (এনসিএল) চতুর্থ রাউন্ডে জয় পেল শুধু বরিশাল বিভাগই। বরিশালের কাছে ১৫০ রানে হারল সিলেট বিভাগ। সিলেটের জাকির হোসেন শতক করেছেন। কিন্তু হার থেকে সিলেটকে রক্ষা করতে পারেননি। ৫ উইকেট নিয়ে সোহাগ গাজী যে ধসে দিয়েছেন। বাকি তিন ম্যাচই হয়েছে ড্র। ঢাকা মেট্রোর মেহরাব হোসেন জুনিয়র অবশ্য শতক হাঁকিয়েছেন। আর রংপুরের ১১ ক্রিকেটারই বোলিং করেছেন। রাজশাহীর নাজমুল হোসেন শান্তও শতক করেছেন।

প্রথম স্তর ॥ বিশাল টার্গেটের (৪৭০ রান টার্গেট) সামনে খেলতে নেমে খুলনার কাছে হারতেই বসেছিল ঢাকা বিভাগ। ১৮৯ রানে ৭ উইকেট হারিয়েই বসে। কিন্তু শেষপর্যন্ত আর কোন উইকেট না হারিয়ে ২৩৩ রান করতেই দিন শেষ হয়ে যায়। সেই সঙ্গে ম্যাচও হয় ড্র।

ঢাকা মেট্রো-রংপুরের মধ্যকার ম্যাচটি নিষ্প্রাণ ড্র’ই হলো। তৃতীয় দিনই বোঝা যাচ্ছিল, ম্যাচ ড্র হতে পারে। শেষ বেলায় রংপুরের সামনে যখন ২৯৬ রানের টার্গেট দাঁড় হলো, ম্যাচ তখনই ড্র হয়ে গেল। ৩ উইকেট হারিয়ে রংপুর ৭২ রান করতেই দিন শেষ হয়ে গেল। তবে রংপুরের দ্বিতীয় ইনিংস শুরু হওয়ার আগে অনেক আকর্ষণই মিলল। মেহরাব হোসেন জুনিয়র শতক পেলেন। আগেরদিন ৮৭ রানে অপরাজিত ছিলেন। চতুর্থদিন ১০৯ রান করে আউট হলেন। দলও ৭ উইকেটে দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৫২ রান করে ইনিংস ঘোষণা করল। তবে সবচেয়ে আকর্ষণীয় হয়েছে রংপুরের ১১ জনই বোলিং করলেন!

দ্বিতীয় স্তর ॥ প্রথম ইনিংসে বরিশাল এতই খারাপ করল, ম্যাচে হেরে যাওয়ার শঙ্কাই তৈরি হলো। অথচ ম্যাচ শেষপর্যন্ত জিতল বরিশালই। দ্বিতীয় ইনিংসে ৭ উইকেটে ৪৬৪ রান করে ইনিংস ঘোষণা করে ২৯৭ রানেই যে সিলেটকে অলআউট করে দিয়েছে বরিশাল। ৪৪৮ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে জাকির হোসেন (১৩৭*) একাই লড়াই করে গেলেও অন্য ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় হারই হলো। সোহাগ গাজী (৫/১১২) অবশ্য বল হাতে সিলেটের ব্যাটসম্যানদের তোপের মধ্যেই রেখেছেন।

অনায়াসেই চট্টগ্রাম-রাজশাহীর ম্যাচটি ড্র হয়ে গেল। দুই দলের এক ইনিংস করে শেষ হলেও দ্বিতীয় ইনিংস কারওই শেষ হলো না। নাজমুল হোসেন শান্তর ১০১ রানের সঙ্গে মুশফিকুর রহীমের অপরাজিত ৫০ রানে ৬ উইকেটে রাজশাহী ২৭৩ রান করতেই দিন শেষ হয়ে যায়।

স্কোর ॥ প্রথম স্তর ॥ খুলনা-ঢাকা ম্যাচ

খুলনা প্রথম ইনিংস ১১৭/১০; ইমরুল ২৭, নুরুল ২৬; মাসুম ৪/১১ ও দ্বিতীয় ইনিংস ৫০৬/৭ (ইনিংস ঘোষণা); নুরুল ১৮২*, মেহেদী ১০৪, বিজয় ১০০; মাসুম ৩/১৪৭)।

ঢাকা প্রথম ইনিংস ১৫৪/১০; জয়রাজ ৬৫; মুস্তাফিজ ৪/৪৬ ও দ্বিতীয় ইনিংস তৃতীয় দিন ৩৭/২ ও চতুর্থদিন ২৩৩/৭; ১২৪ ওভার (সাইফ ৬৪*, মজিদ ৬০; মিরাজ ৩/৭০)। ফল ॥ ম্যাচ ড্র।

রংপুর-ঢাকা মেট্রো ম্যাচ ॥ ঢাকা মেট্রো প্রথম ইনিংস ২৪২/১০; আসিফ ৫৬; তানভির ৪/৮১ ও দ্বিতীয় ইনিংস তৃতীয় দিন ১৭৯/২; মেহরাব জুনিয়র ৮৭*, মাহমুদুল্লাহ ৪৮* ও চতুর্থদিন ৩৫২/৭; (ইনিংস ঘোষণা) ১২০ ওভার (মেহরাব জুনিয়র ১০৯, আসিফ ৭৭*, মাহমুদুল্লাহ ৫২; তানভির ৩/৭৩)।

রংপুর প্রথম ইনিংস ২৯৯/১০; তানভির ৭৮; শরিফুল্লাহ ৪/৯৪ ও দ্বিতীয় ইনিংস ৭২/৩; ২৪ ওভার (আরিফুল ৩১*)।ফল ॥ ম্যাচ ড্র।

দ্বিতীয় স্তর ॥ বরিশাল-সিলেট ম্যাচ ॥ বরিশাল প্রথম ইনিংস ১৫৫/১০; আল আমিন ৩৬; নাসুম ৪/৩২ ও দ্বিতীয় ইনিংস ৪৬৪/৭; ইনিংস ঘোষণা; আল আমিন ১৫৭, সালমান ১৪৬; রাহাতুল ৩/৮৩)।

সিলেট প্রথম ইনিংস ১৭২/১০; রুম্মন ৬৯; সোহাগ ৩/২৪ ও দ্বিতীয় ইনিংস তৃতীয় দিন ৫৪/২; জাকির ৯ ও চতুর্থদিন ২৯৭/১০; ১১৪.২ ওভার (জাকির ১৩৭*, কাপালী ৫৬; সোহাগ ৫/১১২)।

ফল ॥ বরিশাল ১৫০ রানে জয়ী।

চট্টগ্রাম-রাজশাহী ম্যাচ ॥ রাজশাহী প্রথম ইনিংস ২০৮/১০; শান্ত ৬৩; সাজ্জাদ ৫/৬৩ ও দ্বিতীয় ইনিংস তৃতীয় দিন ৯৭/২; শান্ত ৩৯* ও চতুর্থদিন ২৭৩/৬; ১১২ ওভার (শান্ত ১০১, মুশফিক ৫০*; মেহেদী ২/৫২)। চট্টগ্রাম প্রথম ইনিংস ৩৫০/১০; তাসামুল ১৩৪*, তামিম ৬২, ইরফান ৫৩; সানজামুল ৮/১০৬)।