২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অবৈধ গ্যাস সংযোগ ছিন্ন করতে টাস্কফোর্স গঠন চায় পেট্রোবাংলা

  • সারাদেশে শুধু গৃহস্থালিতে দেড় লাখ অবৈধ সংযোগ আছে

রশিদ মামুন ॥ রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গিয়ে তিন স্তরের টাস্কফোর্স গঠন করতে চায় পেট্রোবাংলা। পেট্রোবাংলার হিসাবে সারাদেশে গৃহস্থলিতে প্রায় দেড় লাখ অবৈধ গ্যাস সংযোগ আছে। কেন্দ্রীয়ভাবে ঢাকায় থাকবে শক্তিশালী টাস্কফোর্স আর জেলা এবং উপজেলায় অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণে পৃথক পৃথক টাস্কফোর্স কাজ করবে। পেট্রোবাংলা সূত্র বলছে, ইতোমধ্যে প্রস্তাবিত টাস্কফোর্সের খসড়া প্রণয়ন করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের সহায়তা চেয়ে দেশের অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে স্বল্প-মধ্য এবং দীর্ঘস্থায়ী পরিকল্পনা হাতে নিতে মন্ত্রণালয়ের সহায়তা চেয়ে সম্প্রতি পেট্রোবাংলা চেয়ারম্যান চিঠি দিয়েছেন।

চিঠিতে বলা হয়েছে, গত ৩০ জুলাই বিদ্যুত জ্বালানি এবং খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে টাস্কফোর্স গঠনের সুপারিশ গৃহীত হয়। ওই সিদ্ধান্তের আলোকে টাস্কফোর্স গঠনের খসড়া তৈরি করেছে তারা। এতে সমন্বিতভাবে অভিযান পরিচালনার ওপরে জোর দেয়া হয়েছে।

চিঠিতে পেট্রোবাংলা চেয়ারম্যান ইসতিয়াক আহমদ উল্লেখ করেন, গ্যাস বিতরণকারী কোম্পানির ঠিকাদারদের মাধ্যমে অবৈধ সংযোগ বিস্তৃত হচ্ছে। যা সম্প্রতি ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। বিভিন্ন এলাকায় স্থাপিত গ্যাস বিতরণ পাইপ লাইন উচ্ছেদে সংশ্লিষ্ট জেলা এবং পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে কাক্সিক্ষত সহায়তা না পাওয়ায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় তেমন ফল পাওয়া যাচ্ছে না। উপরন্তু সংযোগ এবং পাইপ লাইন অপসারণ করতে গিয়ে স্থানীয়দের বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে।

এ অবস্থায় নির্বাহী হাকিমের তত্ত্বাবধানে পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় গ্যাস বিতরণ কোম্পানির প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি সমন্বিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার সঙ্গে সঙ্গে গ্যাস আইন ২০১০ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় দ- প্রদান করতে হবে। এ জন্য আগস্টের শেষ দিকে পেট্রোবাংলা একটি পরিকল্পনা জ্বালানি বিভাগে জমা দিয়েছে। ওই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সহায়তা প্রয়োজন। চিঠিতে জ্বালানি বিভাগকে সমন্বয় করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বিতরণ কোম্পানিগুলোর সূত্র জানায়, সারাদেশে এমন লাখ লাখ কিলোমিটার অবৈধ গ্যাস সংযোগ রয়েছে। কোন অভিযানেই অবৈধ সংযোগ স্থাপনকারীদের দমানো যাচ্ছে না। স্থানীয় পর্যায়ে বিতরণ কোম্পানির ঠিকাদাররা অবৈধ সংযোগ স্থাপন করে দেয়। এর সঙ্গে প্রভাবশালীরা প্রতিমাসে বখরা তোলেন। একজন গ্রাহক বৈধভাবে গ্যাস সংযোগ পেতে যা ব্যয় করেন তার কয়েকগুণ বেশি ব্যয় করেন অবৈধ সংযোগ পেতে। দেশে রান্নাঘরের জ্বালানি সঙ্কট সামলাতে গেলে প্রতিমাসে অন্য জ্বালানি ব্যবহারে ব্যয় বেশি হওয়ায় এখনও গ্যাসের প্রতি মানুষের আগ্রহ বেশি।

পেট্রোবাংলা এর আগে যে হিসাব দিয়েছে তাতে বলা হয়েছিল, সারাদেশে গৃহস্থালিতে প্রায় দেড় লাখ অবৈধ গ্যাস সংযোগের কারণে বছরে প্রায় ১৩০ কোটি টাকার রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হয় সরকার। পেট্রোবাংলা এবং বিতরণ কোম্পানিগুলোর হিসাবে দেখা গেছে, ২০১০-এর পর দেশে নতুন গ্যাস সংযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়। পরবর্তী সময়ে গৃহস্থালিতে সংযোগ উন্মুক্ত করা হয়। কিন্তু নতুন পাইপ লাইন নির্মাণ করে সংযোগ প্রদানের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ রয়েছে। ফলে গৃহস্থালিতে নতুন এলাকা গ্যাস বিতরণের আওতায় আসছে না।

তিতাস গ্যাস বিতরণ কোম্পানি সূত্র জানায়, আবাসিক এলাকায় গৃহস্থালির অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গিয়ে তাদের বিপাকে পড়তে হয়েছে। এলাকাবাসী সংঘবদ্ধভাবে তাদের ওপর হামলাও করছে। এর পরও প্রতিমাসেই তারা অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। সূত্র বলছে, কোন কোন ক্ষেত্রে বিতরণ কোম্পানির স্থানীয় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ লাগিয়ে দিচ্ছেন। এক্ষেত্রে তারাই ওই সব গ্যাস বিল আদায় করছেন এবং গ্যাস সংযোগ দেয়া বাবদ মোটা অঙ্কের অর্থ উৎকোচ গ্রহণ করছে।

গ্যাস চুরি প্রতিরোধে পেট্রোবাংলা এবং জ্বালানি মন্ত্রণালয় নানা উদ্যোগ নিলেও কোনটিই কার্যকর হয়নি। উপরন্তু সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ভবিষ্যতে গ্যাস সংযোগ আর দেয়া হবে না। গ্যাসের মজুদও দিন দিন ফুরিয়ে আসছে। সরকার বিকল্প হিসেবে এলপিজিকে জনপ্রিয় করার চেষ্টা করছে। কিন্তু এক্ষেত্রে সরকারী উদ্যোগ আলোর মুখ দেখছে না। বিভিন্ন সময়ে সরকার এলপিজি প্লান্ট স্থাপনের কথা বললেও কাজ চলছে খুবই ধীরগতিতে। ফলে মানুষকে অবৈধভাবে সংযোগ নেয়া থেকে বিরত করা যাচ্ছে না।

পেট্রোবাংলা চেয়ারম্যান মন্ত্রণালয়ে প্রেরিত চিঠিতে বলেন, সমন্বিতভাবে অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গত ২৫ জুন বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে একটি বৈঠক আহ্বান করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে ওই বৈঠক অনিবার্য কারণে বাতিল করা হয়। পুনরায় বৈঠকটির আয়োজন করে দ্রুত টাস্কফোর্স গঠন করা জরুরী। না হলে মাঠপর্যায়ে গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে ব্যাপক উদ্যোগ বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না বলে মনে করছেন পেট্রোবাংলার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।