২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ননী ও তাহের ফজলুর রহমানকে গুলি করে হত্যা করে

  • যুদ্ধাপরাধী বিচার

স্টাফ রিপোর্টার ॥ একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতারকৃত নেত্রকোনার রাজাকার ওবায়দুল হক তাহের ও আতাউর রহমান ননীর বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের ২২তম সাক্ষী শান্ত মিয়া বলেছেন, একাত্তরের ১৭ আগস্ট রাজাকাররা বাউশি বাজারে আক্রমণ করে। ৪-৫ জন লোককে আটক করে। পরে এদের মধ্যে ফজলুর রহমানকে ননী ও তাহের গুলি করে হত্যা করে। মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চে সাক্ষী এসব কথা বলেছেন। প্রসিকিউটর মোখলেসুর রহমান বাদল ও প্রসিকিউটর সাবিনা ইয়াসমিন খান মুন্নি সাক্ষীকে জবানবন্দীতে সহায়তা করেন। অন্যদিকে, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতারকৃত ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনের জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য এম এ হান্নানকে তদন্ত সংস্থার অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে। ননী ও তাহেরর বিরুদ্ধে ২২তম সাক্ষী তার জবানবন্দীতে বলেন, আমার নাম শান্ত মিয়া (৬১)। গ্রাম: মৌআটি, থানা: বারহাট্টা, জেলা: নেত্রকোনা। সাক্ষী বলেন, একাত্তরের ১৭ আগস্ট সকালে বাউশি বাজারে ২০Ñ২৫ জন রাজাকার আক্রমণ করে। আমি সেদিন ওই বাজারেই ছিলাম। রাজাকাররা ৪Ñ৫ জন লোককে আটক করে। আটককৃতদের মধ্যে হান্নান চৌধুরী ও আব্দুল হাইকে তারা মারপিট করে।

সাক্ষী শান্ত মিয়া বলেন, রাজাকাররা আটকৃতদেরকে রঞ্জন সাহার দোকানের সামনে নিয়ে যায়। সেখানে আওয়ামী লীগ নেতা ফজলুর রহমান উপস্থিত ছিল। ননী ও তাহের ফজলুর রহমানকেও আটক করে। এবং বেয়োনেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে তাকে জখম করে। পরবর্তীতে বাউশি বাজার থেকে আটককৃতদের নির্যাতনের পর ছেড়ে দেয়। কিন্তু ফজলুর রহমানকে ননী ও তাহের পাক আর্মিদের হাতে তুলে দেয়। পাক আর্মিরা তার ওপর অমানুষিক নির্যাতন করে। পরে ননী ও তাহের ফজলুর রহমানকে ত্রিমোহনী ব্রিজের কাছে নিয়ে যায় এবং গুলি করে হত্যা করে। ট্রাইব্যুনালের ডকে আসামিরা শনাক্ত।

সেফহোমে জিজ্ঞাসাবাদ ॥ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতারকৃত ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনের জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য এম এ হান্নানকে তদন্ত সংস্থার অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানা যায়। গত ১৪ অক্টোবর চেয়ারম্যান বিচারপতি আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্য বিশিষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ তাকে সেফ হোমে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অনুমতি প্রদান করেন।