২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মিশ্র আবহাওয়া ॥ মৌসুমী জ্বরের প্রকোপ রাজধানীতে

নিখিল মানখিন ॥ দেশে বিরাজ করছে ঠা-া ও গরমের মিশ্র আবহাওয়া। বর্ষার বিদায়ের পর এবং শীতকালের আগমনের আগে প্রতিবছর দেশে এমন আবহাওয়া বিরাজ করে থাকে। এমন আবহাওয়ায় রাজধানীতে সর্দি-কাশি জ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে। নগরীর অনেক হাসপাতাল ও ক্লিনিকে এমন মৌসুমী জ্বরে আক্রান্তরা ভিড় জমাচ্ছে। রোগীর কাশি অনেক সময় রূপ নিচ্ছে শ্বাসকষ্টে। কেউ কেউ আক্রান্ত হচ্ছে নিউমোনিয়ায়। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ধরনের মৌসুমী জ্বর নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু

নেই। প্রতিবছরই এমন সময় সর্দি-কাশি জ্বরের প্রকোপ দেখা দেয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এ জ্বরের চিকিৎসা লাগে না। এ জ্বরে আক্রান্ত হলে মাথা ব্যথা হতে পারে। তিন দিন পর্যন্ত এ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া ঠিক হবে না। প্যারাসিটামল খাওয়া যেতে পারে। জ্বরে আক্রান্ত রোগীর গা হালকা ঠা-া পানি দিয়ে দিনে কয়েকবার মুছে দিতে হবে। তিন দিন পরও জ্বর না কমলে, ডাক্তারদের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে। রোগীকে স্বাভাবিক খাবার দেয়া অব্যাহত রাখতে হবে। ছোঁয়াচে হওয়ায় এ ধরনের জ্বর থেকে সাবধান থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, এক সপ্তাহ আগে বাংলাদেশ থেকে বিদায় নিয়েছে দক্ষিণ পশ্চিম মৌসুমী বায়ু (বর্ষা)। গত কয়েক দিন ধরে দেশের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার হ্রাস অব্যাহত রয়েছে। তাপমাত্রা হ্রাস পেলেও শীতকালের ঠা-া অনুভূত হতে সময় লাগবে। তবে রাতের তাপমাত্রা অনেক হ্রাস পেয়েছে। মধ্য রাত থেকে সকাল পর্যন্ত হালকা শীত অনুভূত হয়ে থাকে। পাশাপাশি দিনের বেলায় থাকে মাঝারি ধরনের রোদ, অনুভূত হয় গরম। নবেম্বরের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত দেশে শীত ও গরমের মিশ্র আবহাওয়া বিরাজ করবে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়বিদরা।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিবছরই মিশ্র আবহাওয়ায় মৌসুমী জ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে নগরীতে সর্দি-কাশি জ্বরে আক্রান্তের হিড়িক পড়েছে। একজন আক্রান্ত হলে পরিবারের কোন সদস্যই রেহাই পাচ্ছে না। সব বয়সের মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে কিছু ওষুধপত্র সেবন করলে কয়েকদিনের মধ্যেই সমস্যা কেটে যাবে। রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে মৌসুমী জ্বরে আক্রান্তের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। বাংলাদেশ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ও বিএমএর সিনিয়র সহ-সভাপতি ডাঃ আব্দুর রউফ সর্দার বলেন, সর্দি-কাশি জ্বরে আক্রান্ত রোগীদের ভিড় বেড়েছে। প্যারাসিটামল ও এ্যান্টিহিস্টাসিন খেলেই এটি ভাল হয়ে যায়। ছোঁয়াচে হওয়ার কারণে অতি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের না হওয়াই ভাল। বিশ্রামে থাকতে হবে। হাঁচি দেয়ার সময় রুমাল বা কাপড় দিয়ে নাক-মুখ ঢেকে নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তিনি আরও বলেন, ঋতু পরিবর্তনের কারণে এমনটি হয়ে থাকে। নগরীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালেও (মিটফোর্ড হাসপাতাল) সর্দি-কাশি জ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা আগের তুলনায় শতকরা ২০ ভাগ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালেও মৌসুমী জ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়েও এসব রোগে আক্রান্ত রোগীর ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডাঃ এবিএম আব্দুল্লাহ জনকণ্ঠকে জানান, আগের তুলনায় মৌসুমী জ্বরে আক্রান্ত রোগীর ভিড় বেড়েছে। আমার ব্যক্তিগত চেম্বারেও এ ধরনের রোগীর আগমন বেড়েছে। সব বয়সের মানুষই আক্রান্ত হচ্ছে। চেম্বারে প্রতিদিন ১৪ থেকে ১৯ জন রোগী আসছে। তিনি জানান, এটি ভাইরাসজনিত রোগ। আর ভাইরাসবাহিত এসব রোগ অন্য আরেকটি রোগে আক্রান্ত হতে সহায়তা দেয়। আবহাওয়ার বিরূপ আচরণের কারণে এসব রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি দেখা যাচ্ছে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। রোদে ঘোরাফেরা কমাতে হবে। বাইরের খোলা জায়গার খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। বেশি পরিমাণে বিশুদ্ধ পানি খাওয়া উচিত। নিয়মিত শরীর মুছে দেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

রোগতত্ত্ব, রোগ নির্ণয় ও রোগ গবেষণা কেন্দ্রের (আইইডিসিআর) জ্যেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক মুশতাক হোসেনও সাবধানে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি জানান, সর্দি-কাশি জ্বর নিয়ে আতঙ্কের কিছুই নেই। চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে কিছু ওষুধপত্র সেবন করলে কয়েকদিনের মধ্যেই সমস্যা কেটে যাবে। আতঙ্কের কিছু নেই। তবে আক্রান্ত রোগীর প্রয়োজনীয় চিকিৎসার বিষয়ে অবহেলা করা যাবে না। ভাইরাসবাহিত অসুখে আক্রান্ত হলে বাইরে বের হওয়া ঠিক হবে না। পেটের পীড়া ও শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে সরাসরি চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। জ্বরে আক্রান্ত রোগীর গা হালকা ঠা-া পানি দিয়ে দিন কয়েকবার মুছে দিতে হবে। এ সময় মাথা ব্যথা হতে পারে। জ্বর সাধারণত ১০১ ডিগ্রী ফারেনহাইট হলে বড়দের প্যারাসিটামল ট্যাবলেট ও শিশুদের প্যারাসিটামল সিরাপ খাওয়াতে হবে। জ্বর হলে স্বাভাবিক খাবার খেতে হবে। নাক পরিষ্কার রাখতে হবে। হাঁচি-কাশি দেয়া এবং নাক দিয়ে পড়া পানি মুছতে পরিষ্কার রুমাল বা কাপড় ব্যবহার করতে হবে। রোগটি ছোঁয়াচে বলে এক্ষেত্রে সাবধানও থাকতে হবে। কিছুতেই ফ্রিজে রাখা ঠা-া বা পচা-বাসি খাবার খাওয়া যাবে না। জ্বর তিন থেকে চারদিন ধরে অব্যাহত থাকলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে বলে তিনি জানান।

রাজধানীর সোহ্রাওয়ার্দী হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডাঃ উত্তম কুমার বড়ুয়া জনকণ্ঠকে জানান, আমাদের হাসপাতালের বহির্বিভাগে আগত সর্দি-কাশি জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ চিকিৎসাধীন রয়েছে। গরম ও শীতের মধ্যবর্তী সময়ে প্রতিবছরই সর্দি-কাশি জ্বরে আক্রান্ত রোগীরা হাসপাতালে ভিড় জমায়। তবে এ জাতীয় সমস্যা নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। এ রোগে আক্রান্তদের অধিকাংশই প্রাথমিক চিকিৎসাতেই সুস্থ হয়ে উঠে। শিশুদের বিষয়ে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন অধ্যাপক ডাঃ উত্তম কুমার বড়ুয়া।

নির্বাচিত সংবাদ
এই মাত্রা পাওয়া