২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সময় এখন নোভাক জোকোভিচের

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ ২৮ বছর বয়স। ইতোমধ্যেই ১০ গ্র্যান্ডসøাম টুর্নামেন্ট জয়ের স্বাদ পেয়েছেন নোভাক জোকোভিচ। চলতি বছরের পুরোটা সময়ই টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান দখলে রেখেছেন তিনি। সবমিলিয়ে ১৬৯ সপ্তাহ বিশ্ব টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ের এক নাম্বার দখলে রাখার রেকর্ড তার। ২০১১ সালে প্রথমবারের মতো একই বছরে তিন গ্র্যান্ডসøাম টুর্নামেন্ট জিতেন তিনি। পারফর্মেন্সের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন এখনও। চলতি বছরেও তিন মেজর টুর্নামেন্টের শিরোপা নিজের শোকেসে তুলেন তিনি। সেইসঙ্গে টেনিসের উন্মুক্ত যুগে তৃতীয় খেলোয়াড় হিসেবে একই বছরে সব গ্র্যান্ডসøাম টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠার রেকর্ড গড়েন নোভাক জোকোভিচ। তাই প্রশ্নটা এখন টেনিসবোদ্ধাদের মনে ঘুরপাক খাচ্ছে প্রতিনিয়তই। দুইদিন আগে সাংহাই ওপেনের শিরোপা জিতে নোভাক জোকোভিচ যখন সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন। তখন এক সাংবাদিক তো এই প্রশ্নই ছুড়ে দিলেন জোকোভিচের সামনে! তাকে হারাতে প্রতিদ্বন্দ্বীকে কী করতে হবে? উত্তরে জোকোভিচ বলেন, ‘প্রশ্নটা খুবই ভাল কিন্তু আমার কাছে এর কোন উত্তর নেই।’ গত বছরটা টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ থেকেই মৌসুম শেষ করেছিলেন জোকোভিচ। আর চলতি বছর শুরু করেন প্রথম মেজর টুর্নামেন্ট অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জয়ে। সর্বশেষ মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানেই টানা দুই শিরোপা জয় তার। চায়না ওপেনের পর সাংহাই মাস্টার্স। প্রতিপক্ষকে পাত্তাই দিচ্ছেন না তিনি। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ৭৩ ম্যাচে জয় পেয়েছেন জোকোভিচ। বিনিময়ে হার মাত্র পাঁচটিতে। দশ গ্র্যান্ডসøামের মালিক ইউএস ওপেনের পর থেকে একটি সেটেও হার মানেননি। শুধু তাই নয়, এই সময়ের মধ্যে টেনিসের জীবন্ত কিংবদন্তি রজার ফেদেরার, রাফায়েল নাদাল, এ্যান্ডি মারে এবং জো উইলফ্রেইড সোঙ্গার মতো খেলোয়াড়দের দিয়েছেন পরাজয়ের তিক্ত অভিজ্ঞতা। সাংহাই ওপেন জিতে চলতি মৌসুমে নবম শিরোপা নিজের শোকেসে তুলেছিলেন তিনি। আর ২০১১ সালে এই মৌসুমের মতোই সমান তিন গ্র্যান্ডসøামসহ দশ শিরোপা জয়ের রেকর্ড গড়েছিলেন জোকোভিচ। কিন্তু সে বছরের চেয়ে এই মৌসুমটাকেই তার ক্যারিয়ারের সেরা বলছেন নোভাক। এ বিষয়ে তার অভিমত হলো, ‘এটাই আমার ক্যারিয়ারের সেরা মৌসুম। এ বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। এবার সবকিছুই যেন দারুণভাবে কাজ করছে। অসাধারণ সাফল্য পেয়ে এবং দারুণভাবে কোর্টে খেলার সুযোগ পেয়ে আমি সত্যিই সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞ।’ ২০০৫ সালে রজার ফেদেরার মাত্র চার ম্যাচে হেরেছিলেন। সে বছর তিনি দুটি গ্র্যান্ডসøাম টুর্নামেন্ট জিতেছিলেন। কিন্তু তার দুর্ভাগ্য ছিল মৌসুমের শেষে ইনজুরিতে ভোগতে হয়েছিল ফেড এক্সপ্রেসকে। কিন্তু এক্ষেত্রে জোকোভিচ ব্যতিক্রম। পুরো মৌসুমজুড়ে দারুণভাবে লড়াই করে গেলেও চোট তাকে মোটেই আঘাত করতে পারেনি।

সুযোগ কাজে লাগাতে চান ভেনাস

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ বর্তমানে ডব্লিউটিএ র‌্যাঙ্কিংয়ের ১৪ নম্বরে আছে বিশ্বের সাবেক এক নাম্বার ভেনাস উইলিয়ামস। চলতি বছরটা দারুণ কাটছে ৩৫ বছর বয়সী এ মার্কিন টেনিস তারকার। এবার উহান ওপেন জয় করে নিজেকে আবারও যে কোন খেলোয়াড়ের বিপক্ষে বিশ্বের অন্যতম বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন। কিন্তু মৌসুম শেষে ডব্লিউটিএ ফাইনালে অংশ নেয়ার জন্য থাকতে হবে সেরা আটে। ২০০৯ সালের পর আর অংশ নিতে পারেননি ক্রমেই র‌্যাঙ্কিংয়ে নিচে নেমে যাওয়ার কারণে। তবে এবার সুযোগটা এখনও আছে। চলতি মাসের শেষদিকে এবার সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিতব্য ডব্লিউটিএ ফাইনালসে অংশ নেয়ার জন্য অবশ্য আগামী সব আসরেই দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখাতে হবে তাকে। সিঙ্গাপুরের আসরে খেলার দৌড়ে অবশ্য ভেনাস ১১তম অবস্থানে আছেন বর্তমানে। এ সুযোগটা কাজে লাগাতে মরিয়া ভেনাস। হংকং ওপেন জয় করে সে পথে এগিয়ে যেতে চান।

২০১০ সালে সর্বশেষবার ডব্লিউটিএ ট্যুর চ্যাম্পিয়নশিপসে সুযোগ করে নিয়েছিলেন। কিন্তু বাঁ পায়ের হাঁটুর সমস্যায় নিজেকে প্রত্যাহার করে নেন ভেনাস। তারপর থেকে আর নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি। ফলে অংশ নেয়ার সুযোগও হয়নি মর্যাদার এ টুর্নামেন্টে। বিশ্বের শীর্ষ ৮ খেলোয়াড় নিয়ে প্রতি বছরের শেষে এ আসরটি দিয়ে মৌসুমের সমাপ্তি টানা হয়ে থাকে। ১৪ নাম্বারে থাকলেও এখন পর্যন্ত সুযোগের দ্বারটা উন্মুক্ত আছে। এ বিষয়ে ভেনাস বলেন, ‘প্রতিযোগিতাটা সত্যিই খুব কঠিন। অনেক শীর্ষ তারকা আছেন। কিন্তু আমি অনুভব করছি যে আমার খুব ভাল সুযোগ আছে সেখানে যাওয়ার। সে সুযোগটা কাজে লাগাতে চাই।’ উহান ওপেনে ৭ বারের গ্র্যান্ডসøামজয়ী ভেনাস এবার ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিলেন ২২ বছর বয়সী তরুণ উদীয়মান স্প্যানিশ তারকা গারবিন মুগুরুজার। ওই ম্যাচের মাঝপথে ইনজুরির কারণে সরে দাঁড়ান মুগুরুজা। ততক্ষণ পর্যন্ত প্রথম সেট জয় এবং দ্বিতীয় সেটে এগিয়ে থাকায় চ্যাম্পিয়ন হয়ে যান ভেনাস।