২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বরিশালে ভূমিদস্যুর থাবায় পুকুর খাল ভরাট

স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল ॥ নগরীর খালগুলো ভরাটের পাশাপাশি একে একে ভরাট হয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী পুকুরগুলো। ইতোমধ্যে নগরীর অসংখ্য পুকুরের নাম-নিশানা পর্যন্ত হারিয়ে গেছে। ভূমিদস্যুদের থাবায় শত বছরের পুরনো অসংখ্য পুকুর ভরাট হয়ে গেছে। মাত্র ১৪-১৫ বছরের ব্যবধানে একে একে পুকুর ভরাট করে বাড়িঘর ও বহুতল মার্কেট নির্মাণ করা হয়েছে। এমনকি সরকারী বিভিন্ন দফতরের ভবন পর্যন্ত পুকুর ভরাট করে নির্মাণ করা হয়েছে। সূত্রমতে, নগরীর ভরাট পুকুরগুলোর মধ্যে কাউনিয়া ব্রাঞ্চ রোডের দ্বিতীয় পুকুরটি ২০১২ সালের ৮ জানুয়ারি এক রাতেই ভরাট করা হয়। একই প্রক্রিয়ায় ভরাট করা হয়েছে শ্রীনাথ চ্যাটার্জী লেনের দুটি পুকুর। বঙ্গবন্ধু উদ্যান সংলগ্ন এলাকার একটি পুকুর ভরাট করে নির্মাণ করা হয়েছে মডেল স্কুল এ্যান্ড কলেজ। আমানতগঞ্জে ইসলামিয়া কলেজের পুকুরটি ভরাট করা হয়েছে তিন বছর আগে। মল্লিক রোডের পুলিশ ক্লাব সংলগ্ন বিশাল পুকুরটির অর্ধেক হজম হয়ে গেছে। জানা গেছে, পুকুরের মতোই ভরাট ও দখল হয়ে গেছে নগরীর খালগুলো। এক সময়ে নগরীর সঙ্গে আশপাশের এলাকার যোগাযোগ মাধ্যম ছিল খালগুলো। এর মধ্যে অন্যতম জেল খাল, ভাটিখানার খাল, ভাটার খাল, সাগরদী খাল, লাকুটিয়া খাল, আমানতগঞ্জ খাল, কাউনিয়া ও বটতলা খাল দিয়ে বড় বড় নৌকায় মানুষ যাতায়াত করার পাশাপাশি পণ্য আনা-নেয়া করত। সে সব খালের দু’পাড়েই নানা স্থাপনা তৈরি করে ভূমিদস্যুরা জবর দখল করে নিয়েছে। কীর্তনখোলা নদী ভরাট হয়ে পোর্ট রোড ও লঞ্চঘাট সংলগ্ন এলাকায় যে চর জেগে উঠেছে তা দখল করে মিনি শহর তৈরি করেছেন ভূমিগ্রাসীরা। রসুলপুর ও মোহম্মদপুর নামে দুটি চরে বসতি গড়ে উঠেছে এক যুগেরও বেশি আগে। পোর্ট রোড থেকে কীর্তনখোলা নদীর সঙ্গে সংযোগ রক্ষাকারী খালটির জমি দখল করেই স্থানীয় একটি ব্যবসায়ী সমিতি গড়ে তুলেছেন বহুতল ভবন। এ ব্যাপারে পরিবেশবাদীরা একাধিকবার সভা, সমাবেশ ও মানববন্ধন করেও কোন প্রতিকার পাননি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিআইডব্লিউটিএর স্থানীয় একাধিক কর্মকর্তা জানান, কীর্তনখোলা নদীর তীর ঘেঁষে নগরীর ত্রিশ গোডাউন বধ্যভূমি এলাকা থেকে বেলতলা ে খেয়াঘাট পর্যন্ত বিশাল এলাকাজুড়ে ৩৬ দশমিক ৫ একর সম্পত্তি বর্তমানে বেদখল রয়েছে। ত্রিশ গোডাউন সংলগ্ন বাংলাদেশ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, যমুনা অয়েল কোম্পানি, বালুর মাঠ বস্তি, চাঁদমারী, কেডিসি, ভাটারখাল বস্তি, বরিশাল সিটি কর্পোরেশন, পোর্ট রোড মৎস্য বাজার ও বেলাতলা খেয়াঘাটের ডকইয়ার্ডসহ বিভিন্ন এলাকায় দখল করে রাখা সাড়ে ৪শ’ দখলদারের একটি তালিকা ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসনের কাছে জমা দেয়া হয়েছে।