১১ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

হাতিয়ায় তিন গ্রাম পুরুষশূন্য

  • নিরাপত্তার অভাব ॥ ইউনিয়নের সীমানা নির্ধারণ নিয়ে গোলযোগ

সংবাদদাতা, হাতিয়া, নোয়াখালী ॥ স্কুলের পাঠদান, টিকাদান কর্মসূচী, মসজিদের আজান বন্ধসহ সব ধরনের যোগাযোগবিহীন ভীতিকর গ্রামে পরিণত হয়েছে নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার ১নং হরণী ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর, তেগাছিয়া, টাংকির ঘাট। পুরুষহীন এ তিনটি গ্রামের মানুষ সন্ত্রাসীদের হাতে জিম্মি গত এক সপ্তাহ ধরে। নিরাপত্তার অভাবে যেখানে সরকারী সকল ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করে রেখেছে কর্তৃপক্ষ সেখানে সাধারণ মানুষের অবস্থা কেমন হতে পারে? এ প্রশ্ন বাসিন্দাদের।

১নং হরণী ইউনিয়নের স্বাস্থ্য সহকারী বেলায়েত হোসেন জানান, শনিবার মোহাম্মদপুর গ্রামের টিকাদান কর্মসূচীর নির্ধারিত সময়ে কার্যক্রম চালালে বহিরাগত সন্ত্রাসী এসে তাকে বের করে দেয়। তাদের নির্দেশ ছাড়া ওই এলাকায় টিকাদান কর্মসূচী চালাতে গেলে হত্যার হুমকিও দেয়। পরে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে তিনি টিকাদান কর্মসূচী বন্ধ রেখে চলে আসেন। একই ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাফর উদ্দিন জানান, সন্ত্রাসীরা শনিবার থেকে তার স্কুলের সামনে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অবস্থান নেয়ায় তিনিসহ তার অন্য সহকারীগণ ভয়ে বিদ্যালয়ে যান না। এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আনা পর্যন্ত বিদ্যালয়ে শিক্ষকরা না যাওয়ার জন্য নির্দেশ দেন। সম্প্রতি হাতিয়া উপজেলার হরণী ইউনিয়নের পশ্চিমাংশের সঙ্গে রামগতি উপজেলার সীমানা বিরোধ চলে আসছে। উচ্চ আদালতের রায়ে ঐ এলাকাটি হাতিয়ার সীমানার মধ্যে পড়ায় গত সপ্তাহ থেকে সেখানে ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজ শুরু হয়। শনিবার হঠাৎ রামগতি উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের উত্তেজিত জনতা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদের কর্মীদের ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহকারীদের অবরুদ্ধ করে রাখে এবং স্থানীয় সেন্টারবাজার ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় ব্যাপক লুটতরাজ চালায়। পরে হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু হাসনাত মোঃ মঈন উদ্দিন অতিরিক্ত পুলিশ নিয়ে ঘটনার চার ঘণ্টা পর নির্বাচন অফিসের কর্মীদের উদ্ধার করে সকল কার্যক্রম বন্ধ রেখে হাতিয়ায় নিয়ে আসেন। এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়। কিন্তু তার পরদিন দুর্গাপূজার অজুহাতে অতিরিক্ত পুলিশ প্রত্যাহার করে নিলে সন্ত্রাসীরা আবার ঐ এলাকা অবরোধ করে রাখে। ইতিমধ্যে তারা বেশ কয়েকটি বাড়িতে ও বাজারে হামলা করে। তাদের ভয়ে এ তিনটি গ্রামের সকল পুরুষ অন্যত্র পালিয়ে রয়েছে। এ ব্যাপারে মঙ্গলবার দুপুরে পাঁচ সহস্রাধিক জনতা একত্রিত হয়ে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়ে হরণী ইউনিয়নের মাইজদী বাজারে মানববন্ধন করে। মানববন্ধনে তারা অনতিবিলম্বে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানায়।

এই মাত্রা পাওয়া