২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দীর্ঘ মেয়াদী কর্মসূচীর সুফল বইছে উত্তরে

জাহাঙ্গীর আলম শাহীন, লালমনিরহাট ॥ মঙ্গা ও দুর্ভিক্ষ এক অর্থ নয়। অর্থনীতিতে এর পার্থক্য ও প্রভাব আছে পৃথক পৃথক। বিকল্প কর্মসংস্থান, কৃষক ও কৃষির উদ্ভাবনী শক্তি। উত্তরের জেলাগুলো হতে স্থায়ীভাবে মরা কার্তিকের মঙ্গা উধাও হয়েছে। আশ্বিন-কার্তিক মাসে এখন মঙ্গা নামের অভিশাপের দেখা মেলে না। মঙ্গা নামের অভিশাপ হতে উত্তরাঞ্চলের মানুষ এখন মুক্ত।

ষড়ঋতুর দেশ বাংলাদেশ। বিশ্ব পরিবেশ বিপর্যয়ের ছোঁয়া এই দেশেও লেগেছে। ঋতুবৈচিত্র্যে এখন তেমন প্রভাব নেই। বর্ষায় বর্ষার দেখা নেই। বসন্ত যেন হারিয়ে গেছে। শরতকালে কুয়াশার সৌন্দর্য হারিয়েছে।

বাংলাদেশের মূলভূখ-ে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলে অর্থনৈতিক পার্থক্য রয়েছে। রয়েছে জনগণের ক্ষমতায়নে পার্থক্য।

উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, নদীভাঙ্গন ও অলস জীবনযাপন দিনে দিনে মানুষকে আর্থিকভাবে দুর্বল করে তোলে। বিশেষ করে আশ্বিন কার্তিক মাসে উত্তরাঞ্চলে কৃষি শ্রমিকের হাতে কোন কাজ ছিল না। তখন কৃষি শ্রমিকের ন্যূনতম খাদ্য কেনার ক্ষমতা ছিল না। বাজারে খাদ্য সরবরাহ ছিল। কিন্তু দিনমজুর ও কৃষি শ্রমিকের কাছে নগদ অর্থের যোগান ছিল না। এই অবস্থায় গ্রামে গ্রামে খাদ্যভাব দেখা দিয়েছে। মানুষ এই অর্থনৈতিক অবস্থাকে মঙ্গা হিসেবে চিহ্নিত করে। তাই মঙ্গা ও দুর্ভিক্ষ এক নয়। দুর্ভিক্ষের চিত্র ভিন্ন। অর্থ ও খাদের সঙ্কট এবং যোগান না থাকাকে অর্থনীতির ভাষায় দুর্ভিক্ষ বলে।

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে আশ্বিন কার্তিক মাসে মৌসুমী কাজের অভাবে বিশাল জনগোষ্ঠী আর্থিক সঙ্কটে পড়ে। তখন বাজারে খাদ্য সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকলেও অর্থ সঙ্কটের কারণে পারিবারিক চাহিদা মতো খাদ্য কিনতে পারেনি। সাধারণত গ্রামের দরিদ্র মানুষ অর্ধাহারে অনাহারে থাকতে হয়। বর্তমানে মহাজোট সরকার পর পর দুই দফায় সরকার গঠন করে। তারা উত্তরের মানুষের মঙ্গা দূর করতে র্দীঘ মেয়াদী পরিকল্পনা করে। তারা এই মঙ্গার কারণ ও সূচক চিহ্নিত করতে পেরে মঙ্গা দূর করতে ৪০ দিনের কর্মসৃজন কর্মসূচী, কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা), কাজের বিনিময়ে অর্থ (কাবিটা), টিআর, জিআর, বয়স্কভাতা, বিধবাভাতা প্রভৃতি চালু করে।

নির্বাচিত সংবাদ
এই মাত্রা পাওয়া