২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

এনজিওরা আরও দুই বিদেশী সংগঠনের সমর্থন যোগাড় করল

নাজনীন আখতার ॥ দেশের এনজিওগুলোর পর এবার তিনটি বিদেশী সংগঠন জাতীয় সংসদে উত্থাপিত ‘বৈদেশিক অনুদান (স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম) রেগুলেশন বিল-২০১৫’ প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে। এ আইনটি কার্যকর হলে তা বাংলাদেশে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর কাজকে বাধাগ্রস্ত করবে উল্লেখ করে প্যারিস ও জেনেভাভিত্তিক ওই সংগঠনগুলো বিলটি প্রত্যাহারে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে চাপ প্রয়োগ করতে বলেছে।

গত ১৬ অক্টোবর ওয়ার্ল্ড অর্গানাইজেশন এগেনস্ট টর্চার (ওএমসিটি), অবজারভেটরি ফর প্রটেকশন অব হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার্স এবং এফআইডিএইচ যৌথভাবে এ মত প্রকাশ করে।

তবে বিলটি প্রসঙ্গে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেছেন, দেশটা সার্বভৌম, এখানে এনজিও নিয়ন্ত্রণ বা শাসন চলবে না। ভুয়া এনজিওর ব্যাপারেও কঠোর হতে হবে। তিনি আরও বলেন, নতুন বিশ্ব রাজনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই আইন করা হবে।

উল্লেখ্য, গত ১ সেপ্টেম্বর এনজিওদের কার্যক্রম যাতে সঠিক ও মানুষের স্বার্থে হয় এ জন্য বিলটি জাতীয় সংসদে উত্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী। পরে বিলটি পরীক্ষার জন্য সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়। বেসরকারী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন (এনজিও) কার্যক্রম বর্তমানে পরিচালিত হয় ১৯৭৮ ও ১৯৮২ সালের দুটি অধ্যাদেশ দিয়ে। সামরিক শাসনামলের অধ্যাদেশ দুটি একত্র করে নতুন আইন করতে বিলটি উত্থাপন করা হয়। বিদেশী অনুদান নেয়ার ক্ষেত্রে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করে এবং অনুমোদন ছাড়া প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন না করার বিধান রাখা হয়েছে বিলটিতে।

বিলে বলা হয়েছে, একটি এনজিও ১০ বছরের জন্য নিবন্ধন পাবে। তবে আইন অমান্য করলে যে কোন সময় নিবন্ধন বাতিল বা স্থগিত করা যাবে।

বিদেশী ওই দুটি সংগঠন বিলটি প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে বলে, নতুন এই বিলটি বাংলাদেশের মানবাধিকার সংগঠনগুলোর ওপর খড়গ হিসেবে ঝুলে থাকবে। এই আইন কার্যকর হলে সংগঠনগুলো মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনার প্রতিবেদন তৈরির জন্য বিদেশী অনুদান প্রাপ্তি ও নিবন্ধনের ক্ষেত্রে জটিলতায় পড়বে।

বিলটির ওপর গত ৩০ সেপ্টেম্বর মতামত দেয়ার জন্য আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি বেশ কিছু বেসরকারী সংগঠনকে জাতীয় সংসদে আমন্ত্রণ জানায়। সেই সময় বিলটির বেশ কিছু অংশের কঠোর বিরোধিতা করে সংগঠনগুলো। সংসদে উত্থাপিত খসড়া আইনের ওপর আট দফা লিখিত মতামত দিয়ে তারা জানান, এতে এনজিওবিষয়ক ব্যুরোর নিজস্ব ক্ষমতার বাইরে অহেতুক এখতিয়ারের সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এই আইনের ফলে প্রবাসী বাংলাদেশীসহ অন্যদের জনহিতকর ও স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম নিরুৎসাহিত হতে পারে। অবৈধ অর্থ প্রবাহ এবং কর ফাঁকির আশঙ্কা বৃদ্ধি পাবে। এনজিওবিষয়ক ব্যুরোর নিজস্ব সক্ষমতার বাইরে অতিরিক্ত কাজের চাপ বৃদ্ধির ঝুঁকি সৃষ্টি হবে।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যানাল বাংলাদেশ (টিআইবি), ব্র্যাক, আইন ও সালিশ কেন্দ্র, সাক্ষরতার জন্য প্রচারাভিযান, নিজেরা করি, বেলা, এফএনবি, এডাব, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন, এ্যাকশন এইড, অক্সফাম, কেয়ার আদিবাসী ফোরাম, পিপ ট্রাস্ট, ওয়াটার এইড, কনসার্ন ওয়ার্ল্ড ওয়াইড, এসিএফ, সেভ দ্য চিলড্রেনের প্রতিনিধিরা আলোচনায় অংশ নেন। আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। কমিটির সদস্য আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, মোঃ তাজুল ইসলাম চৌধুরী, আবদুল মতিন খসরু, সাহারা খাতুন ও মোঃ শামসুল হক টুকু এতে অংশ নেন।

এনজিও প্রতিনিধিরা তাদের মতামতে আরও বলেছে, খসড়া আইনের এনজিও নিবন্ধন ও নবায়নের কোন নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ নেই। তারা ৯০ দিনের মধ্যে নিবন্ধন এবং ৪৫ দিনের মধ্যে নবায়ন করার বিধান রাখার প্রস্তাব দিয়েছে। প্রকল্প শেষ হওয়ার পর খরচের ভাউচার সংরক্ষণের বিধান সংশোধন করার সুপারিশ করেছে এনজিওগুলো। তারা ৫ বছরের জন্য ভাউচার সংরক্ষণের বিধান রাখার প্রস্তাব করেছে। এছাড়া পার্বত্য এলাকার এনজিওদের তত্ত্বাবধানের জন্য আলাদা কমিটির বিরোধিতা করে এনজিও প্রতিনিধিরা বলেছেন, সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বা পার্বত্য জেলা পরিষদের কাছে ন্যস্ত করার বিধান রাখা যেতে পারে। প্রস্তাবিত আইনে প্রকল্প প্রস্তাব পরিবর্তন ও সংশোধনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের আপত্তির বিধানে দ্বিমত করে এনজিওগুলো বলেছে, এর ফলে প্রকল্পের মৌলিক বৈশিষ্ট্য ক্ষুণœ হতে পারে। এনজিও খাতের সাবলীল বিকাশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

নির্বাচিত সংবাদ
এই মাত্রা পাওয়া