২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সন্তুষ্ট : বার্নিকাট

অনলাইন রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশে বিদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপে যুক্তরাষ্ট্র সন্তুষ্ট বলে জানিয়েছেন দেশটির রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট। তবে, এখনও তারা শঙ্কামুক্ত নন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বুধবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের সঙ্গে চার দেশের দূতের বৈঠকের পর বেরিয়ে এসে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের বার্নিকাট, যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার রবার্ট গিবসন, কানাডার হাইকমিশনার বেনওয়া পিয়ের লারামি ও অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার গ্রেগ উইলককের সঙ্গে প্রায় দেড় ঘণ্টা আলোচনা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

পরে বেরিয়ে এসে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, বিদেশিদের নিরাপত্তা দিতে বাংলাদেশ সরকার যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে তাতে তারা সন্তুষ্ট।

তবে বাংলাদেশে বিদেশিদের ওপর ‘আরও হামলা হতে পারে’- এমন সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকার কারণেই দূতাবাসের পক্ষ থেকে মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

বার্নিকাট বলেন, তাদের সতর্ক করা আমাদের দায়িত্ব। তাই আমরা তাদের সতর্ক করে দিচ্ছি। তবে তার মানে এই নয় যে আমরা তাদের এদেশে আসতে বা চলাফেরা করতে নিষেধ করছি।

সরকার নিরাপত্তার যে ব্যবস্থা নিয়েছে, তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামাল বলেন, নিরাপত্তার বিষয় নিয়ে তাদের সাথে আলোচনা হয়েছে। তারা বলেছেন প্রত্যন্ত এলাকায় বিদেশিরা এখন আর ইনসিকিউর ফিল করছেন না এবং রাস্তায় পুলিশ দেখে তারা সন্তুষ্ট।

সতর্কতা জারি করলেও যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা বা অস্ট্রেলিয়ার রাষ্ট্রদূতরা বাংলাদেশ সরকারকে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেননি বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, আমরা বারবার জানতে চেয়েছি কোথায় হামলা হতে পারে আমাদের জানান। হামলার স্পেসিফিক কোনো তথ্য তারা দিতে পারেননি।

সরকার বিদেশিদের নিরাপত্তায় যে ব্যাবস্থা নিয়েছে, তা বজায় থাকবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

দুই বিদেশি হত্যায় আইএস বা মৌলবাদী জঙ্গি গোষ্ঠীর জড়িত থাকার কোনো ‘ক্লু’ পাওয়া যায়নি জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এ পর্যন্ত আমরা যা পেয়েছি সিম্পলি কন্সপিরেসি। আমরা ঘটনা দুটির কাছাকাছি এসে পৌঁছেছি, খুব শিগগিরই আমরা আপনাদের তা জানাব।

গত ২৮ সেপ্টেম্বর ঢাকায় ইতালীয় নাগরিক চেজারে তাভেল্লা হত্যাকাণ্ডের পর ৩ অক্টোবর রংপুরে খুন করা হয় জাপানের নাগরিক কুনিও হোশিকে। দুটি ঘটনার পরই আইএস হত্যার দায় স্বীকার করে বলে খবর দেয় জঙ্গি তৎপরতা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘সাইট ইন্টিলিজেন্স গ্রুপ’। এই পরিস্থিতিতে হঠাৎ করে বাংলাদেশে জঙ্গি উত্থানের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।

তবে ওই দুই খুনে আইএসের সংশ্লিষ্টতার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি জানিয়ে সরকার বলছে, বাংলাদেশে আইএস বা এ ধরনের কোনো জঙ্গি সংগঠনের তৎপরতা নেই।

সরকারের পক্ষ থেকে বিদেশিদের নিরাপত্তা নিয়ে কূটনীতিকদের আশ্বস্ত করা হলেও সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ কয়েকটি পশ্চিমা দেশ তাদের নাগরিকদের বাংলাদেশে চলাফেরায় সতর্কতা জারি করে।

সর্বশেষ গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের হালনাগাদ করা ভ্রমণ সতর্কতায় বলা হয়, বাংলাদেশে পশ্চিমাদের উপর সন্ত্রাসী হামলার আরও ঘটনা ঘটতে পারে বলে ‘নির্ভরযোগ্য তথ্য’ রয়েছে।

এর পরদিন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বাংলাদেশ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতির কঠোর সমালোচনা করে বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার পুরোটার সময় যুক্তরাষ্ট্র একই আচরণ করে যাচ্ছে।