২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

খালেদার দুই দুর্নীতি মামলার পরবর্তী শুনানি ২৯ অক্টোবর

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণ ও জেরার জন্য আগামী ২৯ অক্টোবর দিন ঠিক করেছেন আদালত। বুধবার জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার তিন সাক্ষীকে আসামিপক্ষের জেরা ও নতুন চার সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক আবু আহমদ জমাদার পরবর্তী এ দিন ঠিক করেন।

এ দিন জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় আদালতে সাক্ষ্য দেন সোনালী ব্যাংকের ক্যান্টনমেন্ট শাখার কেশিয়ার ওয়ালিদ আহমেদ, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক কুষ্টিয়া শাখার সিনিয়র অফিসার মামুন উজ জামান, মেট্রোমেকার্স এ্যান্ড ডেভলপমেন্ট লিমিটেডের সাবেক সিনিয়র অফিসার সাইফুল ইসলাম এবং দুদকের সহকারী-পরিচালক চৌধুরী এম এন আলম। এ নিয়ে এই মামলায় মোট ১৭ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হলো।

এর আগে, সকাল ১০টা ৩৫ মিনিট থেকে বেলা ১১টা ১০ মিনিট পর্যন্ত এ মামলার তিন সাক্ষীকে জেরা করেন খালেদাসহ অন্য আসামির আইনজীবীরা। তারা হলেন- স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক মতিঝিল শাখার তৎকালীন ম্যানেজার নওশাদ মাহমুদ, রিলেশনশিপ ম্যানেজার আমিনুল ইসলাম ও কাস্টমার সার্ভিস ম্যানেজার অলোক কান্তি। মামলার প্রধান আসামী খালেদা জিয়া চিকিৎসার জন্য লন্ডনে থাকায় আদালতে হাজির হতে পারেননি। তার পক্ষে আইনজীবী এ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া, জয়নুল আবেদীন মেজবা ও তাহেরুল ইসলাম তৌহিদ হাজিরা প্রদান করেন।

এদিকে, খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার যে সাক্ষ্য নেয়া হয়েছে তা বাতিল চেয়ে আপীল বিভাগে রিভিউ পিটিশন দাখিল করা হয়েছে বলে অপর একটি আবেদন দাখিল করেন তার আইনজীবীরা।

চ্যারিটেবল ট্রাস্ট: ২০১১ সালের ৮ অগাস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াসহ চার জনের বিরুদ্ধে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা দায়ের করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক হারুনুর রশিদ। তেজগাঁও থানার এ মামলায় ক্ষমতার অপব্যবহার করে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ আনা হয় আসামিদের বিরুদ্ধে। ২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি খালেদা জিয়াসহ চারজনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।

এ মামলার অপর আসামিরা হলেন- খালেদার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছের তখনকার সহকারী একান্ত সচিব ও বিআইডব্লিউটিএর নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান। এদের মধ্যে হারিছ চৌধুরী মামলার শুরু হতেই পলাতক। তার বিরুদ্ধে গেফতারি পরোয়ানাও রয়েছে। খালেদাসহ বাকি দুই আসামি জামিনে রয়েছেন।

অরফানেজ ট্রাস্ট: জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টে অনিয়মের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় অন্য মামলাটি দায়ের করে। এতিমদের সহায়তার জন্য একটি বিদেশি ব্যাংক থেকে আসা ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয় এ মামলায়। দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক হারুন উর রশিদ ২০১০ সালের ৫ অগাস্ট বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া, ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে এ মামলায় অভিযোগপত্র দেন।

মামলার অপর আসামিরা হলেন- মাগুরার সাবেক সাংসদ কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী এবং প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান। তারেক রহমান উচ্চ আদালতের জামিনে গত ছয় বছর ধরে বিদেশে অবস্থান করছেন। রবিবার খালেদা জিয়ার সঙ্গে সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদও জামিন পান। বাকি দুজন পলাতক।