২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ডিজিটাল ভূমি জরিপেও দুর্নীতি

নিজস্ব সংবাদদাতা, জামালপুর॥ প্রাথমিক পর্যায়ে পাইলট প্রকল্পের আওতায় জামালপুরে ডিজিটাল ভূমি জরিপ কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। জরিপ কাজ চলাকালে ভূমি মালিকদের কাছ থেকে চাওয়া হচ্ছে অর্থ, আর তা না পেলে জমি খাস কিংবা একজনের জমি অন্যজনের নামে রেকর্ড করে দিচ্ছে জরিপকর্মীরা। সংঘাত আর মামলা জটিলতায় পড়ে ভোগান্তির আশঙ্কা করছে এসব ভূমির মালিকরা। ইতোমধ্যে জরিপ কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলও করছে ভুক্তভোগীরা।

জামালপুর সদরের বেলবেলিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমির পরিমাণ ৫২ শতাংশ। ডিজিটাল ভূমি জরিপকর্মীরা ৫২ শতাংশ জমির মধ্যে ওই বিদ্যালয়ের নামে ৩৫ শতাংশ জমি রেকর্ড করে। বাকি ১৭ শতাংশ জমি অবৈধ লেনদেনের বিনিময়ে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের নামে রেকর্ড করে দেয় জরিপকর্মীরা।

এ বিষয়ে বেলবেলিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি তজিমুদ্দিনসহ কমিটির সদস্যরা বার বার ভূমি জরিপকর্মীদের সঙ্গে কথা বলতে চাইলেও তারা কমিটির সদস্যদের পাত্তাই দেয়নি।

শুধু বেলবেলিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ই নয়, ডিজিটাল ভূমি জরিপকর্মীদের সীমাহীন দুর্নীতির কারণে ইতোমধ্যে জরিপ কাজ শেষ হওয়া ৩৪টি মৌজার একই চিত্র।

প্রকল্পের আওতায় জামালপুর সদর, রাজশাহীর মোহনপুর এবং বরগুনার আমতলী উপজেলায় ডিজিটাল ভূমি জরিপের কাজ চলছে। তিন বছর মেয়াদী এই প্রকল্পে জামালপুর সদরের ১৫ ইউনিয়নের ২৯৯টি মৌজার মধ্যে ২৯৮ মৌজায় ডিজিটাল ভূমি জরিপ হওয়ার কথা রয়েছে, যার জমির পরিমাণ ১ লাখ ২৭ হাজার ২৩৪ একর।

১৩ সার্ভেয়ারের সঙ্গে ৩ জন করে মৌসুমী জরিপকর্মী নিয়ে মাঠ পর্যায়ে ৫২ জরিপকর্মী কাজ করছে। তিন বছর মেয়াদী প্রকল্পের ইতোমধ্যে ২৯ মাস চলে গেলেও কাজ হয়েছে মাত্র ৩৪টি মৌজায়। আর ৩৪টি মৌজায় জরিপ কাজ চলাকালে ভূমি মালিকদের কাছে অর্থ দাবি করছে জরিপ কাজে নিয়োজিত কর্মীরা। যেসব ভূমি মালিক টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেছে জরিপকর্মীরা তাদের জমি অন্যের নামে কিংবা খাস হিসেবে রেকর্ড করে দিচ্ছে। এতে করে ভবিষ্যতে সংঘাত আর মামলা জটিলতায় পড়ে ভোগান্তির আশঙ্কা করছে ভূমির মালিকরা।

এদিকে দেশের তিন উপজেলায় জরিপের প্রচার কাজ করছে উত্তরণ নামে একটি এনজিও। এই এনজিও যে সকল মৌজায় ভূমি জরিপের কাজ হবে সেখানে ব্যাপক প্রচার করার কথা থাকলেও অনেক ভূমি মালিক তাদের প্রচারের কথা জানে না বলে অভিযোগ করেছেন।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে উত্তরণ জামালপুরের এরিয়া ম্যানেজার মিতা রহমান জানান, যারা আমাদের প্রচারণার বিষয়টি জানে না বলে অভিযোগ করেছেন তারা হয়তো এই জেলার অথবা ওই মৌজার নাগরিক নয়, সে জন্যই আমাদের প্রচারণার বিষয়টি তাদের জানা নেই।

অপরদিকে, জামালপুর জজ আদালতের আইজীবীরা বলছেন ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইবুন্যাল গঠন হওয়ার পর প্রায় ২০ হাজার মামলা দায়ের হলেও এখন পর্যন্ত একটি মামলারও বিচার নিষ্পত্তি হয়নি। তার ওপর ডিজিটাল ভূমি জরিপ কাজে এভাবে দুর্নীতি হলে মামলার সংখ্যা আরও কয়েকগুণ বৃদ্ধি পারে। আর এতে করে চরম ভোগান্তির শিকার হবে ভূমি মালিকরা।

জামালপুর জোনাল সেলেটমেন্ট অফিসের সহকারী সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা সরদার মোঃ মোস্তফা কামাল জানান, জরিপ কাজে কোন দুর্নীতি হলে আপীল করার সুযোগ রয়েছে। এক্ষেত্রে ভূমি মালিকরা অভিযোগ করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ ব্যাপারে জামালপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জানান, ডিজিটাল ভূমি জরিপের কাজ চলমান থাকা অবস্থায় কিছু অনিয়মের কথা শোনা যাচ্ছে। ভূমি মালিকরা লিখিত অভিযোগ দিলে এসব অভিযোগ তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।