১৬ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শিক্ষকের সঙ্গে প্রতারণা ॥ রাজশাহীতে দু’পক্ষের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া

স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী॥ বাঘা উপজেলার মীরগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কুরবান আলীর চাকরির মেয়াদ আরও দুই মাস থাকলেও তাকে জোর করে বাধ্যতামূলক অবসর গ্রহণের আবেদনে স্বাক্ষর নেয়া হয়েছে। এ নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে শিক্ষক কুরবান আলী চারঘাট মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

বাঘা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুস সবুর জানান, উপজেলার মীরগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কুরবান আলীর চাকরির মেয়াদ শেষ হবে আগামী ২২ ডিসেম্বর। তবে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির কয়েকজন সদস্যসহ এলাকার কয়েকজন প্রভাবশালী তাকে জোর করে অবসর গ্রহণের জন্য চাপ সৃষ্টি করে।

মঙ্গলবার শিক্ষক কুরবানী আলীকে মীরগঞ্জ বাজারে ডেকে নেন ভানুকর গ্রামের গাজিউর রহমানসহ কয়েকজন ব্যক্তি। পরে স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক কাজিম উদ্দিনের ফার্মেসিতে বসিয়ে জোর করে অবসর গ্রহণের একটি আবেদনপত্রে শিক্ষক কুরবান আলীর নিকট থেকে স্বাক্ষর নেয় গাজিউর রহমান, কাজিম উদ্দিন ও আনিসুর রহমান।

বুধবার ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয় মীরগঞ্জ বাজারে আত্মীয়স্বজন নিয়ে উপস্থিত হয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন শিক্ষক কুরবান আলী। পরে এলাকাবাসী ঘটনাটি জানতে পারলে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন। একপর্যায়ে স্বাক্ষর আদায়কারীদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে বাঘা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

শিক্ষক কুরবান আলী জানান, তাকে প্রলোভন দেখিয়ে বাধ্যতামূলক অবসর গ্রহণের আবেদনপত্রে স্বাক্ষর করিয়ে নেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে স্বাক্ষর করা আবেদনপত্রটি উদ্ধার করেছে।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ফজলুল হক জানান, ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার সকালে। তিনি জানান, গাজিউর রহমান, কাজিম উদ্দিন ও আনিসুর রহমান মিলে শিক্ষক কুরবান আলীর নিকট থেকে স্বাক্ষর নিয়েছে বলে শুনেছেন। জোর করে স্বাক্ষর নেয়ার সত্যতা স্বীকার করে বাঘা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুস সবুর জানান, শিক্ষকের অভিযোগটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।