২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিদেশীদের নিরাপত্তায় সন্তুষ্ট চার দেশের রাষ্ট্রদূত

  • জঙ্গী হামলার আশঙ্কা বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য তারা দিতে পারেননি ॥ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

কূটনৈতিক রিপোর্টার ॥ বিদেশীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারের নেয়া পদক্ষেপে যুক্তরাষ্ট্র সন্তুষ্ট হলেও বাংলাদেশ এখনও শঙ্কামুক্ত নয় বলে জানিয়েছেন দেশটির রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট। বুধবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলীয় হাইকমিশনারদের বৈঠকের পর বেরিয়ে এসে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি। ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট, যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার রবার্ট গিবসন, কানাডার হাইকমিশনার বেনওয়া পিয়েরে লারামে ও অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার গ্রেগ উইলককের সঙ্গে প্রায় দেড় ঘণ্টা বৈঠক করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বৈঠক শেষে বেরিয়ে এসে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বার্নিকাট বলেন, বিদেশীদের নিরাপত্তা দিতে বাংলাদেশ সরকার যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে তাতে তারা সন্তুষ্ট। তবে বাংলাদেশে বিদেশীদের ওপর আরও হামলা হতে পারে- এমন সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকার কারণেই দূতাবাসের পক্ষ থেকে মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক করা হয়েছে। তাদের সতর্ক করা আমাদের দায়িত্ব। তাই আমরা তাদের সতর্ক করে দিচ্ছি। তবে তার অর্থ এই নয় যে, আমরা তাদের এ দেশে আসতে বা চলাফেরা করতে নিষেধ করছি। সরকার নিরাপত্তার যে ব্যবস্থা নিয়েছে, তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান মার্কিন রাষ্ট্রদূত।

বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, নিরাপত্তার বিষয় নিয়ে তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তারা বলেছেন প্রত্যন্ত এলাকায় বিদেশীরা এখন আর নিরাপত্তাহীনতা বোধ করছেন না এবং রাস্তায় পুলিশ দেখে তারা সন্তুষ্ট। সতর্কতা জারি করলেও যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা বা অস্ট্রেলিয়ার দূতরা সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য দিতে পারেননি বলে মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আমরা বার বার জানতে চেয়েছি কোথায় হামলা হতে পারে আমাদের জানান। হামলার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য তারা দিতে পারেননি। সরকার বিদেশীদের নিরাপত্তায় যে ব্যবস্থা নিয়েছে তা বজায় থাকবে বলে জানান তিনি।

দুই বিদেশী হত্যায় আইএস বা মৌলবাদী জঙ্গীগোষ্ঠীর জড়িত থাকার কোন সূত্র পাওয়া যায়নি জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এ পর্যন্ত আমরা যা পেয়েছি তা সাধারণ ষড়যন্ত্র। আমরা ঘটনা দুটির রহস্য উদ্ঘাটনের কাছাকাছি এসে পৌঁছেছি, খুব শ্রীঘ্রই আমরা আপনাদের তা জানাব।

গত ২৮ সেপ্টেম্বর ঢাকায় ইতালীয় নাগরিক সিজার তাভেলা হত্যাকা-ের পর ৩ অক্টোবর রংপুরে খুন করা হয় জাপানের নাগরিক কুনিও হোশিকে। দুটি ঘটনার পরই আইএস হত্যার দায় স্বীকার করে বলে খবর দেয় জঙ্গী তৎপরতা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ’। এই পরিস্থিতিতে হঠাৎ করে বাংলাদেশে জঙ্গী উত্থানের আশঙ্কা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।

তবে ওই দুই খুনে আইএসের সংশ্লিষ্টতার কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি জানিয়ে সরকার বলছে, বাংলাদেশে আইএস বা এ ধরনের কোন জঙ্গী সংগঠনের তৎপরতা নেই। সরকারের পক্ষ থেকে বিদেশীদের নিরাপত্তা নিয়ে কূটনীতিকদের আশ্বস্ত করা হলেও সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ কয়েকটি পশ্চিমা দেশ তাদের নাগরিকদের বাংলাদেশে চলাফেরায় সতর্কতা জারি করে।

এরই মধ্যে গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের হালনাগাদ করা ভ্রমণ সতর্কতায় বলা হয়, বাংলাদেশে পশ্চিমাদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার আরও ঘটনা ঘটতে পারে বলে নির্ভরযোগ্য তথ্য রয়েছে। এর পরদিন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বাংলাদেশ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতির কঠোর সমালোচনা করে বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার পুরোটা সময় যুক্তরাষ্ট্র একই আচরণ করে যাচ্ছে।