২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

প্রতিটি ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নিতে ভুল করেছে বিএনপি

  • চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা হায়দার আলী

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বিএনপি প্রতিটি ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নিতে ভুল করেছে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার হায়দার আলী। তিনি দলের বর্তমান দুরবস্থার জন্য বিএনপির কিছু কেন্দ্রীয় নেতার সাংগঠনিক দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, তাদের জন্যই আজ এ অবস্থা। বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘জাতীয়তাবাদী প্রজন্ম-৭১’ নামক একটি সংগঠন আয়োজিত ‘রাজনীতিতে অস্থিরতা : গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

হায়দার আলী বলেন, আন্দোলন করতে হলে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হয়। কিন্তু আন্দোলন করতে গিয়ে বিএনপি প্রতিটি জায়গায় ভুল করেছে। কারণ, প্রকৃত পক্ষে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর পরই আন্দোলন শুরু করার কথা ছিল। কিন্তু সেই আন্দোলন বিএনপি শুরু করল এক বছর পরে। আর এটা ছিল বিএনপির প্রথম ভুল। বিএনপির দ্বিতীয় ভুল ছিল আন্দোলনের ঘোষণা করে ওই আন্দোলন থেকে সরে আসা। কারণ, আন্দোলন চললে সরকার অবশ্যই নির্বাচন দিতে বাধ্য হতো। তিনি বলেন, এ বছর জানুয়ারি মাস থেকে টানা আন্দোলনে বিএনপির নৈতিকভাবে বিজয় হয়নি, পরাজয় হয়েছে। আর বিএনপির আন্দোলনে পরাজয়ের কারণেই বর্তমানে ‘দেশে ভয়াবহ বাকশালী শাসন চলছে।’ বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ও পরে ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা ঘুমিয়ে ছিলেন। আর তার খেসারত এখন জনগণকে দিতে হচ্ছে।

উল্লেখ্য, অনুষ্ঠানের শুরুতে বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ ও সহ-স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন বক্তব্য রেখে হলরুম ছেড়ে চলে গেলে ব্যারিস্টার হায়দার আলী তার বক্তব্যের সময় বিষয়টি দর্শকদের নজরে এনে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, নিজের বক্তব্য শেষ হয়ে গেলে অন্যের বক্তব্য শুনবেন না, এই যদি হয় অবস্থা তাহলে এসব নেতাকে দিয়ে কিভাবে দলের কল্যাণ হবে।

হায়দার আলী বলেন, অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে বিএনপি নেতাকর্মীদের কারও যেন কোনও দায়িত্ব নেই। সবাই নিজেদের স্বার্থ নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন। ‘জাতীয়তাবাদী প্রজন্ম ৭১’ একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভার আয়োজন করে। কিন্তু বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা তাদের বক্তব্য দিয়ে একে একে চলে যান। এভাবে নেতারা যখন দায়িত্বকে অবহেলা করেন তখনই বোঝা যায় তাদের সাংগঠনিক দক্ষতা কতটুকু। এ ধরনের নেতাদের কারণে এখন প্রমাণ হয়েছে বিএনপি সাংগঠনিকভাবে কতটা শক্তিশালী। বিএনপি শক্তিশালী এখন তা বললে ভুল হবে। কারণ এখন বিএনপির দুর্বলতারই প্রমাণ মিলেছে। তিনি বলেন, আলোচনা সভার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমানের। কিন্তু তিনি ঢাকার বাইরে অবস্থান করার কারণে আলোচনা সভায় উপস্থিত হননি। তাই আমাকেই প্রধান অতিথি হিসেবে নাম ঘোষণা করা হয়। কিন্তু যাকে প্রধান অতিথি করা হয়েছিল তার তো এখানে উপস্থিত থাকা প্রয়োজন ছিল।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি ঢালী আমিনুল ইসলাম রিপনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বিএনপির সহ-তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব প্রমুখ।

বিএনপি নেতাদের পূজাম-প দর্শন : রাজধানীর বিভিন্ন পূজাম-প দর্শন করেছেন বিএনপির সিনিয়র নেতারা। বিকেল ৪টায় রামকৃষ্ণ মিশনে গিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান পূজাম-প পরিদর্শন ও হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকদের সঙ্গে কুশলবিনিময় করেন। এ ছাড়াও বিএনপির আরেক স্থায়ী কমিটির সদস্য সন্ধ্যার পর বনানী পূজাম-প পরিদর্শন করেন।