২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কাদের সিদ্দিকীর মনোনয়নপত্র হাইকোর্টে বৈধ ঘোষণা

  • আপীল করবে রাষ্ট্রপক্ষ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ নির্বাচন কমিশনে অবৈধ হওয়ার পর টাঙ্গাইল-৪ আসনের উপ-নির্বাচনে বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকীর মনোনয়নপত্র হাইকোর্টে এসে টিকে গেল। ফলে ১০ নবেম্বর অনুষ্ঠিত উপ নির্বাচনে অংশ নিতে আপাতত আর কোন বাধা থাকল না কাদের সিদ্দিকীর। বুধবার বিচারপতি মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি কাজী মোঃ ইজারুল হক আকন্দের হাইকোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চ কাদের সিদ্দিকীর আবেদন গ্রহণ করে নির্বাচন কমিশনের খারিজাদেশ স্থগিত করেন। আদেশের পাশাপাশি রুলও জারি করেছেন আদালত। আদালতে কাদের সিদ্দিকীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলী। সঙ্গে ছিলেন রাগীব রউফ চৌধুরী। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। নির্বাচন কমিশনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী তৌহিদুল ইসলাম।

টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসন থেকে দশম সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন কাদের সিদ্দিকীর ভাই লতিফ সিদ্দিকী। পবিত্র হজ নিয়ে বিরূপ মন্তব্যের কারণে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর লতিফ সিদ্দিকী সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন গত ১ সেপ্টেম্বর। এর ফলে ওই আসন শূন্য হয়। গত ৩ সেপ্টেম্বর গেজেট প্রকাশ করে সংসদ সচিবালয়। এরপর নির্বাচন কমিশন এ আসনে উপ-নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে। সে মোতাবেক আগামী ১০ নবেম্বর এখানে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

অন্য দলের পাশাপাশি এতে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রার্থী হিসেবে কাদের সিদ্দিকী ও তার স্ত্রী নাসরিন সিদ্দিকী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। কিন্তু ঋণখেলাপের অভিযোগে গত ১৩ অক্টোবর রিটার্নিং কর্মকর্তা মোঃ আলীমুজ্জামান তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেন। এরপর গত শুক্রবার এই দুই নেতা রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইসিতে আপীল আবেদন করেন। রবিবার বিকেলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের নির্বাচন কমিশন কাদের সিদ্দিকীর আপীল খারিজ করে রায় দেন। রিটার্নিং অফিসার এবং নির্বাচন কমিশনের আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন কাদের সিদ্দিকী। এ রিটের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট নির্বাচন কমিশনের আদেশ স্থগিত করে রুল জারি করেন। কাদের সিদ্দিকীর মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত কেন আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চাওয়া হয় রুলে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচন কমিশন সচিবসহ ৫ জনকে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে আদেশে।

হাইকোর্টের আদেশের পর কাদের সিদ্দিকী এক প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, আমি ন্যায়বিচারে বিশ্বাসী। হাইকোর্টের কাছে ন্যায় বিচার পেয়েছি। এখন জনগণের কাছে যেতে চাই তাদের রায়ের জন্য। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছিলাম। বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারেও আত্মপক্ষ সমর্থনের যে সুযোগ দেয়া হয়েছে, শুধু জিঘাংসার কারণে আমাকে সেই সুযোগ দেয়া হয়নি।

আদেশের পর এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, ঋণখেলাপী হিসেবে কাদের সিদ্দিকীর নাম বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি তালিকায় রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক যতক্ষণ পর্যন্ত তার নাম ওই তালিকা থেকে বাদ না দেবে ততক্ষণ পর্যন্ত তিনি ঋণখেলাপী। যার কারণে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে ইসি। তিনি বলেন, হাইকোর্টের এই আদেশের বিরুদ্ধে আপীল করা হবে। আপীলে হাইকোর্টের আদেশ বহাল থাকলে তিনি নির্বাচন করতে পারবেন, আর যদি তা বাতিল হয়ে যায় তাহলে নির্বাচন করার সুযোগ হারাবেন।

কাদের সিদ্দিকীর আইনজীবী ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী বলেন, ঋণের সুদ মওকুফ করে মূল টাকা সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ১০ বছর মেয়াদে সম্প্রতি পুনর্তফসিল করেছে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংক যথাযথ প্রক্রিয়ায় অনুমোদন দিয়েছে। যে কোন ঋণ পুনর্তফসিলকরণের পর সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে ঋণখেলাপী হিসেবে গণ্য করা যায় না। যেহেতু তিনি পুনর্তফসিলের কোন শর্ত এখনও ভঙ্গ করেননি ফলে কাদের সিদ্দিকী আর খেলাপী নন। ফলে তার মনোনয়নপত্র বৈধ।

নির্বাচিত সংবাদ