২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

গফরগাঁওয়ে ডাক্তারের বিরুদ্ধে গৃহবধূ ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ

নিজস্ব সংবাদদাতা, গফরগাঁও ২১ অক্টোবর ॥ ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে জাকিয়া খাতুনকে (৪০) ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার রাতে উপজেলার উস্থি ইউনিয়নের কান্দিপাড়া বাজার পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রে।

বুধবার দুপুরে উপজেলার পাগলা থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

উপজেলার উস্থি ইউনিয়নের কান্দাপাড়া গ্রামের আবু সাহিদের স্ত্রী জাকিয়া খাতুন গত ২ মাস পূর্বে গর্ভবতী হয়ে পড়েন। গর্ভের সন্তান নষ্ট করার জন্য সোমবার কান্দিপাড়া পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রে আসেন। এ সময় পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার গৃহবধূ জাকিয়া খাতুনের কাছে গর্ভের সন্তান নষ্টের জন্য ৬ হাজার টাকা দাবি করেন। তখন জাকিয়া নিজেকে নিতান্তই গরিব মানুষ বলে জানালে মেডিক্যাল অফিসার রাজন দত্ত ৪ হাজার টাকা দাবি করেন। পরে গত মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে জাকিয়া ১ হাজার টাকা নিয়ে মেডিক্যাল অফিসার রাজনের কাছে গেলে তিনি সন্তান নষ্টের জন্য কমপক্ষে আড়াই হাজার টাকা লাগবে বলে জানান। পরে জাকিয়া দুপুর ১টার দিকে বাড়ি চলে আসেন। এদিকে দুপুর ২টার দিকে গৃহবধূ জাকিয়ার মুঠোফোনে ফোন করে মেডিক্যাল অফিসার রাজন দ্রুত টাকা নিয়ে পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রে আসতে বলেন। এ অবস্থায় জাকিয়া বাধ্য হয়ে ১ হাজার টাকা দাদন নিয়ে পুনরায় বিকেল পৌনে ৪টার দিকে ওই ডাক্তারের কাছে যান। এরপর থেকে গৃহবধূ জাকিয়া নিখোঁজ ছিল।

নিহত গৃহবধূ জাকিয়ার মেয়ে জোনাকী আক্তার অভিযোগ করে বলেন, লোকলজ্জার ভয়ে আমার মা নিজের গর্ভের সন্তান নষ্ট করার জন্য মঙ্গলবার বিকেল পৌনে ৪টার দিকে ডাক্তার রাজন দত্তের কাছে যান। এরপর সন্ধ্যা ৭টার দিকে মায়ের ফোনে ফোন করে নাম্বরটি ব্যস্ত পাওয়া যায়। পরে আবারও ফোন দিলে মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। তার দাবি তার মাকে ধর্ষণ শেষে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর ঘাড় মটকিয়ে ও বাঁম হাত ভেঙ্গে পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রের পেছনের কলাবাগানে কালাপাতা ও কলা গাছ দিয়ে লাশ ডেকে রাখে রাজন ডাক্তার।

পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রের উপসহকারী মেডিক্যাল অফিসার রাজন দত্ত হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

উপজেলার পাগলা থানার ওসি চাঁন মিয়া বলেন, গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রের উপসহকারী কমিউিনিটি মেডিক্যাল অফিসার রাজন দত্তসহ ওই কেন্দ্রের কেউ আমাদের সন্দেহের বাইরে নন।

নির্বাচিত সংবাদ
এই মাত্রা পাওয়া