২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সমাজ ভাবনা

  • এবারের বিষয় ॥ রাজধানীর গণপরিবহন;###;নৈরাজ্যের অবসান চাই

এ্যাডভোকেট আবদুস সালাম

মহামান্য রাষ্ট্রপতির বক্তব্য দিয়ে শুরু করা যায়। তার মতে বর্তমানে রাজনীতি ব্যবসায়ীদের পকেটে ঢুকে পড়েছে। তার মন্তব্যের ব্যাখ্যাটি এভাবে করা যায়, দেশের তাবত আইন-কানুন, নিয়মনীতি রক্ষা, পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করার কথা রাজনৈতিক শক্তির। কিন্তু বাস্তবে তা হচ্ছে না। কেন হচ্ছে না তার অনেক কারণ বিদ্যমান। গত ১৮ অক্টোবর রাজধানীতে পরিবহন শ্রমিক-মালিকরা যে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে নগরবাসীকে নরক যন্ত্রণায় ফেলেছিল, সামান্যতম দায়িত্ববোধ থাকলে পরিবহনের সঙ্গে জড়িত লোকজন তা করতে পারত না।

গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির কারণে সরকার আলোচনাক্রমে ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করেছে। পরিবহন মালিকরা তা মেনে নেয়ার কথা বললেও, বাস্তবে তা মানছেন না বলেই ধারণা হয়। সে কারণেই নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে যাত্রীদের এ নিয়ে প্রশাসন ও পরিবহন ব্যবসায়ীদের মধ্যে এক ধরনের চোর-পুলিশ খেলা চলছে বলে মনে হলে কি দোষ দেয়া যাবে?

এক্ষেত্রে এই মুহূর্তে যা করণীয়, বিআরটিসির পর্যাপ্ত সংখ্যক উন্নত ও সাধারণ বাস সংগ্রহ করে প্রতিটি রুটে বিশেষত শহরের অভ্যন্তরীণ রুটে চালু করতে হবে। বিআরটিসির বাস বিভিন্ন সংস্থাকে ভাড়া দেয়ার বিষয়টিও পর্যালোচনা করতে হবে। কারণ সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য পরিবহন পুল ও কল্যাণ পরিদফতরের বাস রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়েরও নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা রয়েছে। প্রয়োজনে এর সংখ্যা বৃদ্ধি করতে পারে। একইভাবে যে সকল সংস্থার নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা নেই, তারা বেসরকারী যানবাহন ভাড়া নিয়ে স্টাফ আনা-নেয়ার কাজ চালাতে পারে। এভাবে বিআরটিসির ওপর সরকারী কর্মচারী ও বিভিন্ন সংস্থাকে স্টাফ বাস ভাড়া দেয়ার প্রবণতা রহিত করতে হবে।

মনে রাখতে হবে বিআরটিসি মূলত জনকল্যাণ ও সেবামূলক একটি প্রতিষ্ঠান। ‘না লাভ না লস’ ভিত্তিতে এই পরিবহন চলার কথা বলেই জানি। বেসরকারী যানবাহনের ওপর সরকারী নির্দেশনা কার্যকরী করতে হবে এবং বাস ভাড়ার চার্ট গাড়িতে লাগানোসহ পত্রিকাতে বিজ্ঞাপন আকারে ছেপে দিতে হবে যাতে জনসাধারণ সঠিক ভাড়ার তথ্য পেতে পারে। পাশাপাশি বিআরটিসি তথা সরকারী যানবাহন বৃদ্ধি করে পিক টাইমে এর সংখ্যা বৃদ্ধি করা ছাড়া এই নৈরাজ্য থেকে মুক্তির কোন পথ নেই বলে মনে করি।

ডিআইটি এ্যাভিনিউ, ঢাকা থেকে