১৩ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

গণপরিবহন না গণকষ্ট!

খন্দকার মাহ্বুবুল আলম

গণপরিবহন হচ্ছে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেক্টর। এ সেক্টরের সঙ্গে দেশের জাতীয় অগ্রগতির সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষত: রাজধানীসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ জেলা শহরগুলোতে এ সেক্টরের নানা দৈন্যদশা চলছে, যা নিয়ে যাত্রী সাধারণের ভোগান্তির শেষ থাকে না। কালক্রমে দেশের অনেক বিষয়ে আশু সমাধান যেমন মিলেছে এবং মিলছে, তেমনি আরও নানা বিষয়ে সুষ্ঠুু পরিকল্পনার অভাবে আশু সমাধান মিলছে না। পরিবহন সেক্টর তার অন্যতম। গণপরিবহন এখন গণকষ্টের নাম।

এখানে গাড়ির মালিক থেকে শুরু করে যাত্রীসাধারণ সবাই বিরাজমান সমস্যাগুলোতে আক্রান্ত। এ কথা আমাদের ভুলে গেলে চলবে না যে, সব সমস্যার মূলে রয়েছে অধিক জনসংখ্যা বৃদ্ধি। অতীতের তুলনায় জনসংখ্যা বৃদ্ধি খানিকটা রোধ করা সম্ভব হলেও তা আশানুরূপ নয়। কারণ জনসংখ্যা একবার বৃদ্ধি পেলে তা জ্যামিতিক হারে বাড়তে থাকে। সেই চাপানুপাতে পরিবহন সেক্টরের যানবাহন সংখ্যা অত্যন্ত কম। ১৫ অক্টোবর জাতীয় দৈনিক জনকণ্ঠে প্রকাশিত এক শীর্ষ প্রতিবেদনে জানা যায়, ‘প্রায় দুই কোটি মানুষের জন্য ঢাকার রাস্তায় চলছে ১৭ হাজারের কম গণপরিবহন, যা বিদ্যমান জনসংখ্যার চাপানুপাতে অবশ্যই অপ্রতুল এবং যা আন্তর্জাতিক মানদ-ের মধ্যেই পড়ে না।

কোন জাতি শ্ঙ্খৃলা (নিয়মনীতি) ছাড়া উন্নতি লাভ করতে পারে না। এই শৃঙ্খলা বা নিয়মনীতি মানুষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ফিরিয়ে আনতে হবে। অন্যথায় আমরা সমৃদ্ধি লাভ করতে পারব না। গণপরিবহনের ক্ষেত্রেও নিয়ম-শৃঙ্খলার অভাব বিদ্যমান।

একদিকে গণপরিবহনের সংখ্যা কম, অন্যদিকে বহুমুখী ও অন্যান্য পরিবহনজনিত যানজটের সমস্যা। যে কারণে গণপরিবহনের মালিক পক্ষ ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও ব্যবসায়িক লোকসান গোনার ভয়ে যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি করছে না। ফলে অবস্থা যা হবার তাই হচ্ছে। গণপরিবহন সঙ্কটের দরুন যাত্রীসাধারণের ভোগান্তি দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তারা সময়মতো যানবাহন পাচ্ছে না। অনেকক্ষণ অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে বিলম্বে কোন গণপরিবহনের দেখা মিললেও ওঠার সাধ্য থাকে না। যাত্রীসাধারণের ঠাসাঠাসিতে তিলধারণের জায়গা থাকে না এসব গণপরিবহনে। জেলখানার হাজতী বন্দীদেরও এমন ঠাসাঠাসি করে প্রিজনভ্যানে নেয়া হয় না, যা গণপরিবহনের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে।

অনেক সময় যাত্রীসাধারণের কেউ কেউ কাজের তাড়া অনুভবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাদুড়ঝোলা ঝুলে গন্তব্যে যেতেও কসুর করেন না। পরিবহনের ভিতরে যারা থাকেন, ঠাসাঠাসির কারণে মুক্তভাবে অনায়াসে দম ফেলতে পারেন না। একজনের পায়ের নিচে অন্যজনের পা দলন এবং বচসা থেকে নানা ঝুটঝামেলা তো আছেই, তার ওপর পরিবহন (বাস) হেলপারের বাড়াবাড়ি, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, যাত্রীদের সঙ্গে তাদের অসৌজন্যমূলক আচরণ বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে ফেলে দেয়। সব মিলিযে যাত্রীসাধারণকে নিত্য এই নরক যন্ত্রণা ভোগ করতে হয়। যাত্রী হয়রানির এই চিত্র নিত্যদিনের। এসব সমস্যা দেখার যেন কেউ নেই।

গণপরিবহন সেক্টরের বিভিন্ন সমস্যার মূল কারণ হচ্ছে সড়ক ব্যবস্থাপনা। এ ক্ষেত্রে যানজট হচ্ছে বড় সমস্যা। যানজট সমস্যা নিরসন ব্যতিরেকে গণপরিবহনের সংখ্যা বৃদ্ধির কোন সুযোগ থাকতে পারে বলে মনে হয় না। এ ক্ষেত্রে যানজট নিরসন করতে হলে সংশ্লিষ্ট সড়কগুলোর যানচলাচলোপযোগী প্রশস্ততা বৃদ্ধি করতে হবে। সেই সুযোগ আদৌ আছে কি? অনেক সড়কের দু’পাশ ঘেঁষেই বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে উঠেছে। এগুলো সরানো না হলে সড়কসমূহের প্রশস্ততা সম্ভব নয়। কয়েক লেনে যানচলাচলোপযোগী সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তোলা না হলে যানজটজনিত দুর্ভোগ এড়ানো সম্ভব নয়। দীর্ঘ যানজটের কারণে অনেক রোগীকে যথাসময়ে হাসপাতালে নেয়া সম্ভব হয় না। ফলে অনেক রোগীর মৃত্যু এই যানজটের মধ্যে এ্যাম্বুলেন্সেই ঘটে থাকে। যা অত্যন্ত দুঃখজনক। অফিসগামী লোকজন যথাসময়ে অফিস ধরতে পারেন না। কত গুরুত্বপূর্ণ কাজ যথাসময়ে মানুষ সারতে পারেন না দুঃসহ যানজটের কারণে। এছাড়া গণপরিবহনগুলোতে সিট ক্যাপাসিটির অতিরিক্ত যাত্রী ওঠানোও বন্ধ করা দরকার। গণপরিবহনের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে এ সমস্যার সমাধান মিলবে। এ জন্য প্রয়োজন অধিক যান বা গণপরিবহন চলাচল উপযোগী সড়ক ব্যবস্থা। এ জন্য সুষ্ঠু নীতিমালা প্রণয়ন এবং দ্রুত এর বাস্তবায়ন প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্টদের জরুরীভিত্তিতে এগিয়ে আসা দরকার। হালিশহর, চট্টগ্রাম থেকে