২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অশেষ ভোগান্তি

ম্যাক্সওয়েল রিবেরু

বাংলাদেশ ১৬ কোটি মানুষের বসবাস। ঢাকা রাজধানী হওয়ায় এই শহরে গাড়ি-ঘোড়ার ভিড়, মানুষের ভিড়, এমনকি আবাসন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সবই ঢাকাকেন্দ্রিক। ঢাকার সিংহভাগ মানুষই গণপরিবহনে যাতায়াত করে। দিনদিন অতিরিক্ত প্রাইভেট গাড়ির কারণে অনেক বেশি যানজটের মধ্যে বসে থেকে সময় নষ্ট করতে হচ্ছে। গণপরিবহন সর্বসাধারণের জন্য একটি উত্তম যাতায়াত মাধ্যম। গণপরিবহনের বিকল্প ব্যবস্থা আর কোন পরিবহনের সঙ্গে তুলনা করা যায় না। বর্তমান পরিস্থিতিতে গণপরিবহনে যাতায়াতে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। এর সংখ্যা কম থাকায় সাধারণ চাকরিজীবী মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও বাসে কিংবা অন্য কোন পরিবহনে উঠতে পারছে না। যারা উঠতে পারছে, তারা খুব কষ্ট করে ঝুলে ঝুলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নিজ নিজ গন্তব্যস্থলে পৌঁছে যাচ্ছে। উঠেও শান্তি নেই। উঠেই গুনতে হচ্ছে বাড়তি ভাড়া। বিশেষ করে বিগত কয়েকদিন ধরে দেখা যাচ্ছে যে, বাসে অতিরিক্ত মাত্রায় পরিবহন মালিক, ড্রাইভার ও হেলপারদের সঙ্গে যাত্রীদের ভাড়া নিয়ে ঝামেলা হচ্ছে। পাঁচ টাকার ভাড়া দশ টাকা দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। যারা পারছে তারা হেলপারের সঙ্গে ঝগড়া বা মারামারিও করছে, আর যারা না পারছে তারা চুপচাপ দশ টাকার নোট দিয়ে দিচ্ছে। এতে করে নিরীহ চাকরিজীবী মানুষ কষ্ট ভোগ করছে। অনেক সাধারণ এনজিও চাকরিজীবীরা বলছেন, ‘সরকারী বেতন বেড়েছে, তাই বাসের ভাড়াও বেড়েছে। কিন্তু আমাদের তো বেতন বৃদ্ধি পায়নি’। এতে করে বোঝা যায়, গণপরিবহনে মানুষের ভোগান্তির কমতি নেই। গণপরিবহনে নেই ভাল কোন বসার সিট, সিটে নোংরা ও ছারপোকার বাসা, গাড়ির স্বল্পতা, জায়গায় জায়গায় থেমে থাকা, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা, এসব মিলে সাধারণ মানুষ আজ চরম ভোগান্তির স্বীকার হচ্ছে। আর কতদিন এভাবে আমরা সাধারণ জনগণ কষ্ট করে যাতায়াত করব! এই সমস্যার কি কোন সমাধান নেই? আমরা কার কাছে এর সঠিক উত্তর পাব?

বর্তমান সরকার অনেক চেষ্টা করছে এসব সমস্যা থেকে কিভাবে মুক্তি পাওয়া যায়। কিন্তু সরকারের এই উদ্যোগের কার্যকরী কোন প্রভাব এখনও পর্যন্ত পড়েনি। সরকার যদি সঠিক পরিকল্পনা এবং কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে এর সমাধান করে তাহলে মানুষ একটু রেহাই পেতে পারে।

লক্ষ্মীবাজার, ঢাকা থেকে