২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কয়লাভিত্তিক বিদ্যুত কেন্দ্র

পার্বতীপুরের বড়পুকুরিয়ায় প্রায় ২ হাজার ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে ২৭৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাবিশিষ্ট ৩ নম্বর বিদ্যুত কেন্দ্র স্থাপনের বিষয়টি নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। উল্লেখ্য, সেখানে ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন আরও দুটি বিদ্যুত কেন্দ্র রয়েছে। এগুলোতে সংশ্লিষ্ট খনি থেকে আহরিত কয়লা ব্যবহার করা হয় জ্বালানি হিসেবে। কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুত কেন্দ্র দুটি পরিবেশবান্ধবও। কেননা, ভূগর্ভে কয়লা পুড়িয়ে তাপ উৎপাদন করে খনিমুখেই উৎপাদন করা হয় বিদ্যুত। সেক্ষেত্রে তৃতীয় আরও একটি ইউনিট স্থাপিত হলে প্রকৃতি ও পরিবেশে তেমন বিরূপ প্রভাব পড়বে না। উপরন্তু বিদ্যুত উৎপাদন বেড়ে দাঁড়াবে ৫২৫ মেগাওয়াট। ২০১৮ সাল নাগাদ উৎপাদনে গেলে দেশের উত্তর-পশ্চিম জোনের বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ হবে অনেকাংশে, লো-ভোল্টেজ সমস্যা কমবে, সর্বোপরি জাতীয় গ্রিডে যোগ হয়ে কমবে ট্রান্সমিশন চাপ। তৃতীয় ইউনিটটি চালু রাখতে বছরে দরকার হবে প্রায় সাড়ে ৬ লাখ টন কয়লা। তবে বয়লার ও গ্যাস টারবাইন- দুটি ব্যবস্থাই থাকার ফলে কয়লার অভাবে বিকল্প পথও খোলা থাকবে। বড়পুকুরিয়ায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুত কেন্দ্রে উৎপাদনে নানা কারণে বিভিন্ন সময় যে সমস্যা দেখা দেয়নি তা নয়। অনেক সময় আশানুরূপ বিদ্যুত উৎপাদনও করা যায়নি। উপজাত হিসেবে প্রাপ্ত স্তূপীকৃত ছাই নিয়েও সময় সময় সমস্যা দেখা দিয়েছে। তবে আশার কথা এই যে, ছাই বর্তমানে ব্যবহৃত হচ্ছে সিমেন্ট উৎপাদনে। কিছু রফতানিও হচ্ছে।

দেশে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুত কেন্দ্র নিয়ে বিতর্ক আছে। অবশ্য বিতর্কটি চলছে বিশ্বজুড়েই। প্রকৃতি-পরিবেশ, সর্বোপরি জলবায়ু পরিবর্তনের সমস্যাজনিত কারণে বর্তমানে পরিবেশবান্ধব বিদ্যুত কেন্দ্র ও শিল্পকারখানা স্থাপনের কথা ভাবা হচ্ছে বেশ জোরেশোরে। তবে এটাও সত্য যে, সহজপ্রাপ্য ও সাশ্রয়ী বিধায় বিদ্যুত উৎপাদনে কয়লাই সর্বাধিক পছন্দনীয় উপাদান। জলবিদ্যুতের সুযোগ সীমিত এবং সৌরবিদ্যুত ব্যয়বহুল। প্রধানত এ কারণে চীন, ভারত, এমনকি জার্মানির মতো শিল্পোন্নত দেশও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুত উৎপাদন থেকে পিছু হটেনি। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশেরও পিছিয়ে থাকার কোন কারণ নেই।

কয়লাভিত্তিক বিদ্যুত কেন্দ্র স্থাপন নিয়ে দেশেই এক শ্রেণীর লোকের আপত্তি আছে। আপত্তি ও বিতর্ক রয়েছে কয়লা উত্তোলন পদ্ধতি নিয়েও। উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা আহরণ নাকি ভূগর্ভে খনন করে কয়লা উত্তোলন- এ বিতর্কেরও আদৌ কোন সমাধান হয়নি। এই প্রেক্ষাপটেই বিবেচনা করতে হবে শুধু কয়লাভিত্তিক বিদ্যুত কেন্দ্র নয়, বরং যে কোন শিল্পকারখানা স্থাপনের বিষয়টিও।

দেশের উন্নয়ন ও উত্তরোত্তর সমৃদ্ধির জন্য নতুন নতুন শিল্পকারখানা স্থাপনের বিষয়টি অবশ্যই অপরিহার্য। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুত কেন্দ্র স্থাপনের বিষয়টিও। তবে সেগুলো যেন অবশ্যই পরিবেশবান্ধব হয়, প্রকৃতি ও পরিবেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করে। বিদ্যুত কেন্দ্রসহ আধুনিক শিল্পকারখানায় ইটিপি স্থাপন তথা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও শোধন এবং এর পাশাপাশি নিরাপত্তা বিধান করা জরুরী। অত্যাবশ্যকীয় এসব শর্ত পূরণ করেই বড়পুকুরিয়া, রামপাল ও অন্যত্র বিদ্যুত কেন্দ্র এবং শিল্পকারখানা স্থাপন করা উচিত- এটা সময়ের দাবি।