২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

চিটাগাং সিমেন্ট মামলার যুক্তিতর্ক শুরু ২৫ অক্টোবর

  • ১৯৯৬ সালের শেয়ার কেলেঙ্কারি

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ ১৯৯৬ সালে শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির ঘটনায় আলোচিত চিটাগাং সিমেন্টের (বর্তমানে হাইডেলবার্গ সিমেন্ট) শেয়ার কারসাজি মামলার যুক্তিতর্ক শুরু হবে আগামী ২৫ অক্টোবর রবিবার। বুধবার পুঁজিবাজার নিষ্পত্তিতে গঠিত বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক হূমায়ুন কবীর এ দিন ধার্য করেন। বুধবার চিটাগাং মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য পূর্বনির্ধারিত সময় ছিল। তবে বাদী ও বিবাদী উভয়পক্ষই যুক্তিতর্কের জন্য সময় আবেদন করেন। এরই প্রেক্ষিতে আদালত সময় মঞ্জুর করে আগামী ২৫ অক্টোবর তারিখ নির্ধারণ করেন।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করবেন খুরশীদ আলম খান। অপরদিকে মামলার আসামি আবু তৈয়বের পক্ষে খন্দকার মাহবুব হোসেন, রকিবুর রহমান এবং এ এস শাহিদুল হক বুলবুলের পক্ষে মোহাম্মদ মহসিন রশিদ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করবেন। বিএসইসির আইনজীবী মাসুদ রানা খান বলেন, আজ (বুধবার) যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য সময় নির্ধারিত ছিল। তবে বাদী ও বিবাদী উভয় পক্ষ সময় চেয়ে আবেদন করায় আদালত তা মঞ্জুর করে ২৫ অক্টোবর দিন ধার্য করেছেন। আদালতে উপস্থিত ছিলেন মামলার আসামি ও ডিএসইর সাবেক প্রেসিডেন্ট রকিবুর রহমান, এ এস শাহিদুল হক বুলবুল, আসামি পক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ আলী, বিএসইসির উপ-পরিচালক এ এস এম মাহমুদুল হাসান, ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ মোঃ রফিকুল ইসলাম, মাসুদ রানা খান প্রমুখ।

মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে, আসামিরা ১৯৯৬ সালে চিটাগাং সিমেন্টের পরিচালক ছিলেন। ভারতীয় ও ইরানী বিনিয়োগকারীরা কোম্পানির শেয়ার কিনবে বলে আসামিরা মূল্য সংবেদনশীল তথ্য ছড়িয়ে শেয়ার মূল্য প্রভাবিত করেন। এ ব্যাপারে পরবর্তীকালে চিটাগাং সিমেন্টের পক্ষ থেকে সন্তোষজনক কোন জবাব পাওয়া যায়নি। এর পর কোম্পানির একজন পরিচালক বড় অঙ্কের শেয়ার হন্তান্তরের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তবে কী পরিমাণ ও কোন ব্যক্তি এ কাজ করেছেন তা ১৯৯৬ সালের তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই। এ ছাড়া বিএসইসির নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও রকিবুর রহমান এবং এএস শহিদুল হক বুলবুল পরিচালক পদ থেকে পদত্যাগ করেননি। যা সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স-১৯৬৯ এর ১৭ ধারা অনুসারে কারসাজি বলে মনে করে গঠিত তদন্ত কমিটি। ওই সময়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আমিরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে ১৯৯৬ সালের ২৬ ডিসেম্বর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে সরকার। তিন মাস পর ১৯৯৭ সালের ২৭ মার্চ তদন্ত কমিটি সরকারের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে বিষয়টি উঠে আসে। আর এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ১৯৯৭ সালের ৪ মে মহানগর মুখ্য হাকিম আদালতে মামলা করে বিএসইসি। মামলাটি পরবর্তীকালে বিচারের জন্য প্রথম অতিরিক্ত দায়রা আদালত ঢাকায় বদলি করা হয়। এই আদালতে থাকাকালীন মামলাটির বাদীর সাক্ষ্য শেষ হয়। পরবর্তীকালে মামলার আদালত পরিবর্তনের নির্দেশ এলে বাদী পক্ষের সম্মতিতে নিম্ন আদালতের আদেশের ওপর স্থগিত আদেশ দেন উচ্চ আদালত। এর পর বিএসইসির ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর মামলাটি এই আদালতে স্থানান্তর করা হয়।

নির্বাচিত সংবাদ