১০ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কৃষি প্রক্রিয়াকরণ শিল্পে কর্মসংস্থানের হাতছানি

  • উদ্যোক্তা তৈরিতে কাজ করছে বাপা-ইইউ

হামিদ-উজ-জামান মামুন ॥ কৃষি প্রক্রিয়াকরণ শিল্পে হাতছানি দিচ্ছে ব্যাপক কর্মসংস্থানের। এ সুযোগকে কাজে লাগাতে উদ্যোক্তা উন্নয়নে বিপ্লব ঘটাতে কাজ করছে বাংলাদেশ কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ এ্যাসোসিয়েশন (বাপা) ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এ লক্ষ্যে বর্তমানে দুটি প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। এ সব প্রকল্পের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং কাক্সিক্ষত জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। সেই সঙ্গে এ প্রকল্পের আরও উদ্দেশ্য হলো বাপার (বাপা) সদস্যদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে চুক্তিবদ্ধ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে চারটি টার্গেট ক্লাস্টারের মধ্যে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের জন্য কাজ করছে বাপা। এসব এলাকর ২০০ ক্ষুদ্র উদ্যোক্ততা সৃষ্টি, মহিলাদের জন্য ৫০০০ কর্মসংস্থান সৃষ্টি, যেখানে শতকরা ৫০ ভাগ উপজাতীয়দের অন্তর্ভুক্তি এবং ২০০০ শিক্ষানবিসের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।

সূত্র জানায়, নানা প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও ২০১৪ সালের এপ্রিলে বাপা ইউরোপীয় ইউনিয়নের এসএমই প্রতিযোগিতাপূর্ণ মহাপ্রকল্প আত্মপ্রকাশ করে। এ প্রকল্পের অধীনে প্রতিষ্ঠিত চারটি ক্লাস্টার হচ্ছে- ঢাকা-সাভার-গাজীপুর, রাজশাহী-বগুড়া-পাবনা-নাটোর, নারায়ণগঞ্জ এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম (উপজাতীয়) ও চট্টগ্রাম অঞ্চল। উল্লেখিত ক্লাস্টারগুলোতে টেকসই কৃষি এসএমই উন্নয়নের জন্য মাঠপর্যায়ে জরিপ করা হয়, যা উদ্যোক্তাদের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও প্রকল্প পরিকল্পনার জন্য তথ্য প্রদান, নিয়ন্ত্রণ ও মূল্যায়নে অত্যন্ত ফলপ্রসূ ভূমিকা রাখছে।

বাপা ইউরোপীয় ইউনিয়ন এসএমই প্রতিযোগিতাপূর্ণ মহাকর্মসূচী দুটি প্রকল্পের সমন্বয়ে গঠিত যেগুলো হলো সক্ষমতা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার মাধ্যমে বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত ক্লাস্টারগুলোতে কৃষিতে টেকসই ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাতাদের উন্নয়ন এবং আমাদের দেশের কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ এ্যাসোসিয়েশনের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করা, যাতে কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের কর্মচাঞ্চল্য বৃদ্ধি পায়। প্রকল্পের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হলো ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের কৃষিতে টেকসই উন্নয়ন এবং কর্মএলাকার জনগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে তিনটি পৃথক সেশনে প্রশিক্ষণ দান। বাংলাদেশ দক্ষতা উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে এ ধরনের প্রশিক্ষণ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

প্রকল্পের আওতায় কর্মএলাকায় যে সকল প্রশিক্ষক ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণদান করবেন তাদের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। তিনটি প্রশিক্ষকদের জন্য প্রশিক্ষণ (টিওটি-ট্রেইনর ওব ট্রেইনিজ) এর মধ্যে একটি হলো শিল্প মূল্যায়নের কর্মসূচীর ক্ষেত্রে টিওটি। টিওটি কর্মসূচীর লক্ষ্য হলো প্রশিক্ষক পুল সৃষ্টি করা, যারা স্ব স্ব কৃষিখাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের ক্ষেত্রে শিক্ষানবিসদের প্রশিক্ষণ দান করবেন।

বাপা সূত্র জানায়, ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা গুলো হলো- দারিদ্রতা, বেকারত্ব এবং দক্ষতাসম্পন্ন জনশক্তির অভাব। এ বিশাল জনগোষ্ঠীর দক্ষতা যদি শিক্ষানবিস এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উন্নত করা যায় সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ স্থানীয় ভোক্তাবাজার সৃষ্টি এবং বিদেশে কৃষিজাত প্রত্রিয়াকরণ পণ্য রফতানি করে আয় বৃদ্ধি করতে পারবে। এভাবে অধিকতর শ্রমবান্ধব শিল্পের মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। এখাতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা নিজেদের দৈহিক শ্রম ও সামান্য পুঁজি বিনিয়োগ করে উপকৃত হবে, যা এ কৌশলের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। কৃষিপণ্য প্রক্রিজাতকরণ খাতে মোট শ্রম জনশক্তির শতকরা ২০ ভাগ নিয়োজিত এবং মোট তৈরি পণ্যের ক্ষেত্রে এই খাত শতকরা ২২ ভাগ অবদান রাখে। বাংলাদেশে কৃষি উৎপাদিত শিল্পে সুস্থ প্রতিযোগিতার অভাব, স্বল্প উৎপাদনশীলতা এবং অদক্ষ জনশক্তি প্রধান অন্তরায় হিসেবে বিবেচিত। এক্ষেত্রে ব্যবসাবান্ধব কৌশল ও পরিবেশ উভয়ের প্রয়োজন অনস্বীকার্য। ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষি উদ্যোক্তাদের প্রয়োজন বড় বড় উদ্যোক্তাদের সঙ্গে সংযোগ সাধন এবং সরকারী প্রকৃত পৃষ্ঠপোষকতা। যেহেতু এই সেক্টরে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী নিয়োজিত সেহেতু তাদের যদি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রযুক্তিগত দক্ষতার উন্নয়ন ঘটানো যায় তাহলে তারা উৎপাদিত পণ্য ভালভাবে প্রক্রিয়াজাত করতে পারবে এবং এর ফলে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে কৃষিপণ্যের চাহিদা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাবে। বাংলাদেশের কৃষিজাত উৎপাদিত পণ্য বিশ্বেও বেশ কয়েকটি দেশে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে রফতানি হচ্ছে। উৎপাদিত পণ্যের প্রক্রিয়াজাতকরণে তথা আরও গুণগতমান বাড়ানো গেলে এ খাতেই প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব বলে মনে করা হয়। এই কর্মসূচীর সর্বোপরি প্রধান লক্ষ্য হলো কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দারিদ্র্যতা নিরসন। বাপা যে চারটি ক্লাস্টার নির্ধারণ করেছে সেসব এলাকার ২০০ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা সৃষ্টি, মহিলাদের জন্য ৫০০০ কর্মসংস্থান সৃষ্টি অথবা শতকরা ৫০ ভাগ উপজাতীয়দের অন্তর্ভুক্তি এবং ২০০০ শিক্ষানবিসের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের মহাপ্রতিযোগিতাপূর্ণ কর্মসূচীর প্রধান লক্ষ্য হলো চারটি যেমন- উদ্যোক্তাদের উন্নয়ন যা ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি ঘটাবে, পণ্যের বিক্রয় বৃদ্ধি পাবে, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং ব্যবসা- বাণিজ্যের প্রসার ঘটাবে। এ সকল লক্ষ্যের মাধ্যমে কৃষিজাত পণ্যের প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে ব্যাপক উন্নয়ন ঘটবে, শিক্ষানবিস এবং দক্ষ জনশক্তির মধ্যে সেতুবন্ধন ঘটবে এবং ব্যবসায়িক ধারণায় সৃজনশীল চিন্তা ও চেতনার উদ্ভদ হবে। ফলে টেকসই পদ্ধতি ও নতুন নতুন আন্তর্জাতিক বাজার সৃষ্টি হবে, যা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে আনবে এক যুগান্তকারী বিপ্লব।