১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ভারতে রফতানিতে বাধা অশুল্ক জটিলতা ॥ বাণিজ্যমন্ত্রী

  • ভারতের বাজারে বাংলাদেশ প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্য রফতানি করে

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ দুটি ছাড়া বাকি সব পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়া সত্ত্বেও অশুল্ক বাধার কারণে ভারতে আশানুরূপ রফতানি হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। বুধবার দুপুরে রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে বিশ্বব্যাংক আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি। সম্প্রতি বিশ্বব্যাংক প্রকাশিত ‘ডায়াগনস্টিক ট্রেড ইন্টিগ্রেশান স্টাডিতে’ এ বিষয় তুলে ধরা হয় অনুষ্ঠানে। এ গবেষণায় বাংলাদেশের বাণিজ্য সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে সুবিধা প্রাপ্তির জন্য বিস্তারিত পথ-নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, ভারতের বাজারে বাংলাদেশের প্রায় ৬ হাজার পণ্য শুল্কমুক্ত রফতানি সুবিধা পায়। কিন্তু দেশটিতে বাংলাদেশের রফতানির প্রবৃদ্ধি ১২ শতাংশ। এর থেকেও বেশি রফতানির প্রবৃদ্ধি অর্জন করা সম্ভব। অশুল্ক জটিলতার কারণেই ভারতে বাংলাদেশ আশানুরূপ রফতানি করতে পারছে না। বর্তমানে ভারতের বাজারে বাংলাদেশ প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্য রফতানি করে। আমরা ভারত সরকারের সঙ্গে কথা বলছি যেন অতি দ্রুত এ সমস্যার সমাধান করা যায়। ২০৪১ সালে বাংলাদেশ উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হবে- মন্তব্য করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ রফতানিতে এগিয়ে যাচ্ছে। পোশাকশিল্পে বাংলাদেশের উন্নয়ন চোখে পড়ার মতো। বর্তমানের তুলনায় বাংলাদেশ পোশাক রফতানিতে আর ২০ শতাংশ এগিয়ে গেলেও দেশ কোথায় পৌঁছবে তা হয়ত অনেকে ভাবতেই পারছেন না। দেশকে এগিয়ে নিতে সবাইকে একসঙ্গে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্য সচিব হেদায়াতুল্লাহ আল মামুন। তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতি এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণে কাজ চলছে। এসব বিষয়ে বিভিন্ন ধাপে কার্যক্রম পরিচালনা করছি। ২০২১ ভিশন বাস্তবায়ন খুব বেশি দূরে নয়।

বিশ্বব্যাংকের গবেষণায় বলা হয়েছে, রফতানিতে তৈরি পোশাকের শক্ত অবস্থানের কারণে ১৯৯৫ থেকে ২০১২ সালে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের রফতানির পরিমাণ দ্বিগুণ হয়েছে। বিশেষ করে ২০০৯ থেকে পোশাক রফতানিতে বাংলাদেশ চীনের পরেই দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। এ খাত আরও সম্প্রসারণসহ পণ্য বৈচিত্র্যকরণের মাধ্যমে রফতানি আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। এতে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশ যদি চীনের তৈরি পোশাক রফতানির ২০ শতাংশ বাজার দখল করতে পারে, তবে এদেশের রফতানি দ্বিগুণের বেশি হয়ে ২৯ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়াবে। এতে দেশে ৫৪ লাখ নতুন কর্মসংস্থান এবং ১ কোটি ৩৫ লাখ পরোক্ষ কর্মস্থানের সুযোগ হবে। রফতানি বাড়াতে আঞ্চলিক ও বিশ্ববাজারে পণ্য বহুমুখীকরণ, রফতানি অবকাঠামো সৃষ্টি, শ্রমিক ও ভোক্তা উন্নয়ন অপরিহার্য। স্টাডিটিতে উল্লেখ করা হয়েছে, উন্নত প্রযুক্তির আবশ্যকতা রয়েছে এমন রফতানিমুখী খাতে বিদেশী বিনিয়োগের প্রচুর সুযোগ রয়েছে, বিশেষ করে ওষুধ শিল্প, বাইসাইকেল ও জাহাজ নির্মাণ শিল্পে। বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য প্রতিবেশী দেশ ভারত, চীনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের পাশাপাশি জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ এশিয়ার অন্য দেশের সঙ্গেও যোগাযোগ বৃদ্ধি করতে হবে। সর্বোপরি বিনিয়োগ বাড়াতে জমির সহজলভ্যতা, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত সংযোগ, চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, ঢাকা-চট্টগ্রাম রেল যোগাযোগসহ বিভিন্ন বিষয়ে নজর দিতে হবে।