২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দক্ষ শ্রমিক বিদেশে পাঠাতে পারলে রেমিটেন্স কয়েকগুণ বাড়বে

  • সংলাপে অভিমত

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ প্রবাসী শ্রমিকদের একটি বড় অংশই অদক্ষ। এমনকি ইংরেজীও ঠিকমতো বলতে পারেন না। সে কারণেই তারা অন্য অনেক দেশের শ্রমিকদের তুলনায় বেতনও কম পান। এই শ্রমিকদের দক্ষ করে বিদেশে পাঠাতে পারলে দেশে প্রবাসী আয়ের (রেমিট্যান্স) পরিমাণ কয়েক গুণ বেড়ে যাবে। দক্ষ জনশক্তি রফতানি করতে পারলে ২০২০ সালের মধ্যে ২৫ দশমিক ৩৯ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স আয় সম্ভব। রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে বুধবার অভিবাসী শ্রমিকদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকরণ ও সামাজিক সুরক্ষা নিয়ে আয়োজিত এক সংলাপে এমনই মত দিয়েছেন বক্তারা।

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) এবং বেসরকারী গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) এই সংলাপের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান, বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশ শাখার প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হুসাইন, আইএলও বাংলাদেশ অফিসের কান্ট্রি ডিরেক্টর শ্রীনিভাস বি রেড্ডি, সিপিডির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সেন্ট্রাল ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর প্রফেসর মোস্তাফিজুর রহমান। আয়োজক সিপিডি ও ইন্টারন্যাশনাল লেবার অর্গাইনেশন।

পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, আমাদের শ্রমিকদের দক্ষতা নিয়ে সমস্যা নেই। তাদের সমস্যা হলো ভাষা। একই কাজ আমাদের লোকেরাও করে, শ্রীলঙ্কার লোকেরাও করে। কিন্তু শ্রীলঙ্কার লোকটা আমাদের লোকের চেয়ে ৬০Ñ৭০ শতাংশ বেশি বেতন পায়। কারণ সে ইংরেজীতে ভাল কথা বলতে পারে। তিনি আশা করেন, ২০২০ সালে দেশে আড়াই হাজার কোটি টাকার প্রবাসী আয় আসবে। পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে অভিবাসী শ্রমিকেরা সব সময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছেন। এ কারণে প্রতিবছরই বাড়ছে বৈদেশিক মুদ্রার পরিমাণ। আগামী ২০২০ সালের মধ্যে এটি ২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাবে। বর্তমানে রেমিট্যান্স আয়ের পরিমাণ ১৫ বিলিয়ন ডলার। ১১ দশমিক দুই মিলিয়ন মানুষ বিদেশে কাজ করছেন। আগামীতে এ সংখ্যা আরও বাড়বে। তিনি বলেন, শুধু ইংরেজী ভাষায় দক্ষতার অভাবে দেশের অভিবাসী শ্রমিকেরা অন্য দেশের চেয়ে বৈদিশিক মুদ্রা কম আয় করছেন। এটি আমাদের বড় একটি সমস্যা। এছাড়া কারিগরি দক্ষতা বাড়াতে হবে। কেননা, একজন দক্ষ শ্রমিক যে পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারবেন তার চেয়ে অনেক কম বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারবেন অদক্ষ শ্রমিকেরা। এ বিষয়ে আমাদের যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিতে হবে। বক্তব্যের শুরুতে তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উদাহরণ টেনে বলেন, আমেরিকা, মালয়েশিয়ার মতো দেশগুলোকে কিন্তু অভিবাসীরাই বিশ্বের বুকে উন্নত করে তুলেছেন। এ সময় তিনি ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ এলিট শ্রেণীতে প্রবেশ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন। মন্ত্রী বলেন, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে কৃষি অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারে। এক্ষেত্রে চায়না উদাহরণ হিসেবে সবার কাছে স্বীকৃত। তাই প্রতিটি বিষয় প্রাধান্য দিয়ে সঠিক পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে হবে।

সিপিডির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে ফিলিপিন্সের লোকেরা বাংলাদেশীদের চেয়ে চার গুণ বেশি বেতন পান। কারণ তারা অনর্গল ইংরেজী বলতে পারেন। সেজন্য তারা মধ্যম সারির পদে কাজ পান। আর বাংলাদেশীরা শ্রমিকের কাজ করেন। আমরা যদি আধা দক্ষ (সেমিস্কিলড) জনশক্তিও বিদেশে পাঠাই, তাহলেও আমাদের রেমিট্যান্স কয়েক গুণ বেড়ে যাবে। প্রবাসীদের অদক্ষতার বিষয়টি স্বীকার করে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, আমাদের প্রবাসী শ্রমিকেরা কম আয় করেন। কারণ তারা ততটা দক্ষ নন। সে কারণে আমরা তাদের প্রশিক্ষণের ওপর জোর দিচ্ছি। ইতোমধ্যে বেশকিছু পদক্ষেপও নেয়া হয়েছে। দেশে কয়েকটি ক্ষেত্রে বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্ব ব্যক্তিদের (সিআইপি) সম্মানিত করা হয়। প্রবাসী বাংলাদেশীদেরও দেয়া হয় সিআইপি সম্মাননা।