২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শেখ কামাল ফুটবলে আমার ক্লাব খেলছে না, তাই আমি দর্শক ॥ মামুনুল

স্পোর্টস রিপোর্টার, চট্টগ্রাম থেকে ॥ ‘শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট’-এ খেলছে না দেশসেরা ফুটবল দল শেখ জামাল ধানম-ি ক্লাব। দলের সবাই এখন ছুটিতে। নিজের ঘরের মাঠে এমন আয়োজনে খেলা তো হচ্ছেই না, এমন কি ম্যাচ দেখতে এসে এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে আসন পর্যন্ত পাননি মামুনুলরা (মামুনুল ইসলাম, নাসির উদ্দিন চৌধুরী, শাখাওয়াত হোসেন রনি)। বাধ্য হয়ে সাংবাদিকদের প্রেসবক্সের এক কোণে বসেই খেলা দেখেন চট্টগ্রামের ছেলে মামুনুল, ‘জাতীয় দল তো আর এখানে আসেনি। আমরা সবাই ছুটিতে আছি। আমি বাসাতেই বসেছিলাম। ভাবলাম মাঠ থেকে ঘুরে আসি। কিন্তু এখানে এসে বরং খারাপই লাগছে!’ মামুনুল আরও বলেন, ‘যে কোন রানিং ফুটবলারের জন্যই দর্শক আসনে বসে খেলা দেখা হতাশার ব্যাপার। তাছাড়া এত বছর পর একটা আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্ট হচ্ছে তাও আবার নিজের বাড়ির মাঠ চট্টগ্রামে। কিন্তু আমি মাঠে নেই এখানে ঘুরে বেড়াচ্ছি। তাই খুব খারাপ লাগছে!’

এই টুর্নামেন্টে কেন খেলছে না শেখ জামাল? ‘এটা টুর্নামেন্ট আয়োজক (চট্টগ্রাম আবাহনী লিমিটেড) আর আমাদের ক্লাব কর্মকর্তাদের বিষয়। আমরা ক্লাবে চাকরি করি। ক্লাব খেললে আমরা খেলতাম। তবে বলতে পারি বঞ্চিতই হলাম। দর্শকরাও বঞ্চিত হচ্ছেন ভালো মানের ফুটবল দেখা থেকে। আয়োজকরা এ টুর্নামেন্ট দিয়ে ফুটবল জাগরণ ঘটানোর কথা বলছেন। অথচ দেশের চ্যাম্পিয়ন ক্লাব এবং দেশের সেরা ফুটবলারদের বাইরে রেখে- এটা অদ্ভুত নয় কি?’ শেখ জামাল ছাড়া অন্য ক্লাবের হয়েওতো খেলতে পারতেন? ‘না, ক্লাব আমাদের ছাড়েনি। সুতরাং নিজের ইচ্ছা থাকলেও সেটি সম্ভব না। চুক্তি অনুযায়ী আমরা চাইলেই অন্য ক্লাবে খেলতে পারি না। ধারে খেলতে পারি। কিন্তু সবার আগে আমাকে নিজের ক্লাবের অনুমতি নিতে হয়। সেক্ষেত্রে আমার ক্লাব সভাপতিই সব। আর কেউ সেভাবে চেষ্টা করেনি মনে হয়। হয়তো তিনি বলেই করেনি। তিনি অনুমতি দিলে হয়তো খেলতে পারতাম। কিন্তু এসবের চেয়েও বড় কষ্ট কেন শেখ জামাল খেলতে পারবে না এখানে। দেশের সেরা ক্লাব, সেরা ফুটবলারÑ এসবের চেয়ে অন্য সবকিছু কি বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে গেল?

টুর্নামেন্ট শেষ হবার আগেই ঢাকায় ফিরবেন মামুনুলরা। কিছুদিন পর জাতীয় দলের ক্যাম্প শুরু হবে। সেটা হতে পারে চট্টগ্রাম বা কক্সবাজারে।

আয়োজকদের অবহেলার শিকার শুধু মামুনুলই হননি, হয়েছেন ঢাকা থেকে এখানে টুর্নামেন্ট কভার করতে আসা ক্রীড়া সাংবাদিকরাও! তাদের জন্য আলাদা কোন প্রেসবক্সের ব্যবস্থা করা হয়নি। বসানো হয়েছে কনফারেন্স রুমে। সেখানকার চেয়ারগুলোর আবার বেশিরভাগই দখল করে রাখেন এখানকার স্থানীয় সাংবাদিকরা, যাদের অধিকাংশই ল্যাপটপ নিয়ে আসেননি! ঢাকার সাংবাদিকরা যারা চেয়ার পেয়েছেন, তাদের লেখা কম্পোজ করতে হয়েছে কোলের ওপর ল্যাপটপ রেখে, কারণ কোন টেবিল পাননি তারা! সবচেয়ে বেশি বিড়ম্বনায় পড়তে হয় নিউজ পাঠাতে গিয়ে। কারণ ঘোষণা দিয়েও আয়োজকরা চালু করতে পারেনি ইন্টারনেটের সংযোগ (ওয়াই-ফাই সংযোগ)! বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘœ ঘটায় প্রথম ম্যাচটি পুরোপুরি সরাসরি সম্প্রচার করতে পারেননি চ্যানেল আই। খেলা শুরুর অনেক পর সাংবাদিকদের হাতে দেয়া খেলোয়াড়দের তালিকা।