২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ক্রিকেটে আর তেমন চাওয়ার ছিল না

  • অবসরের পর শেবাগ

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ ভারতীয় ক্রিকেটের ড্যাশিং উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান বীরেন্দ্র শেবাগ। দীর্ঘদিন দলের বাইরে থাকার পর মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকেই বিদায় বলে দিয়েছেন তিনি। আর বিদায় বেলায় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ৩৭ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার। তবে ক্যারিয়ারের দীর্ঘ সময় ভক্তদের পাওয়া ভালবাসা, সতীর্থদের সমর্থনে মুগ্ধতার কথা জানান তিনি। সেই সঙ্গে ভক্ত-অনুরাগী, কোচ, সতীর্থ এমনকি পরিবারের সকলের প্রতিই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন বীরেন্দ্র শেবাগ। আর বিদায়ের কারণ সম্পর্কে বলতে গিয়ে এক সময় তিনি বলেন, ক্রিকেটে আর তার চাওয়া পাওয়ার কিছুই নেই।

বিদায়ী বিবৃতিতে বীরেন্দ্র শেবাগ বলেন, ‘আমি সব সময় সেটাই করেছি যা ঠিক মনে হয়েছে। সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ, যা করতে চেয়েছিলাম সেটা করতে পেরেছি। মাঠে, জীবনেও। মঙ্গলবার ঠিক করলাম সাইত্রিশতম জন্মদিনে ক্রিকেট ছেড়ে দেব। এখন পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছি। সেখান থেকে ঘোষণা করছি যে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সব ফরমেট আর আইপিএল থেকে সরে দাঁড়ালাম।’ তবে বিদায় বললেও ক্রিকেটই তার জীবন। এ বিষয়ে তার মন্তব্য, ‘ক্রিকেটই আমার জীবন হয়ে থাকবে। যেমন এতদিন ছিল। এরপর আমি কমেন্ট্রি করতে পারি, বা থাকতে পারি কোন টিমের কোচিং স্টাফ হিসেবে। আসলে ক্রিকেট ছেড়ে থাকাটা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। বাবার কথা খুব মনে পড়ছে। যেদিন আমি ক্রিকেট শুরু করেছিলাম, উনি ছিলেন। এখনও থাকলে ভাল হত। আমাকে নিয়ে গর্ব করতে পারতেন। আমার মা, স্ত্রী আরতি আর দুই সন্তান আর্যবীর আর বেদান্ত এখন আমার সবচেয়ে বড় শক্তি।’

এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘ক্রিকেটের কাছে আমার আর কিছু চাওয়ার ছিল না। নিজেকে ভাগ্যবান মনে হয় যে, মিডিয়া প্রিয় ফাইভের মধ্যে আমাকে রেখেছে। মনে হয় না আমি তার যোগ্য। আমার সৌভাগ্য, শচীন টেন্ডুলকর, দ্রাবিড়, সৌরভ, ভিভিএসের মতো খেলোয়াড়ের সঙ্গে খেলেছি। ওদের কাছ থেকে শিখেছি। সৌরভের কাছে আমি অসম্ভব ঋণী। ওর জন্যই আমার টেস্ট খেলা। টেস্ট দলে ডাক পাওয়াটা আমার কেরিয়ারের সেরা মুহূর্ত। তার আগে লোকে বলত আমি ওয়ান খেলোয়াড়। সৌরভ নিশ্চয়ই আমার মধ্যে কিছু দেখেছিল। ওর মনে হয়েছিল যে, আমি টেস্টেও পারব। যতদিন খেলার সঙ্গে যুক্ত থাকব, ততদিন সৌরভকে মনে রাখব। ও ভরসা না রাখলে আমার হয়তো টেস্ট খেলাই হত না।’

তবে ভারতীয় দলে শেবাগ স্বাধীনভাবেই খেলতেন। যে কারণে নিজেকে সৌভাগ্যবান বলে দাবি করেন তিনি, ‘আরও একটা ব্যাপারে নিজেকে খুব ভাগ্যবান মনে হয়। আমি স্বাধীনভাবে খেলার সুযোগটা পেয়েছিলাম। আজকের দিনে খেলতে হলে হয়তো ওভাবে ব্যাট করতে পারতাম না। তখন পেরেছি কারণ জানতাম, পরে যারা আসছে তারা সামলে দেবে। সৌরভের কথা বারবার মনে পড়ছে। আসলে ও যে দলটা করেছিল তারা বিদেশে টেস্ট জিতেছে, ড্র করেছে। ও খেলোয়াড়কে পারফর্ম করার সময়টা দিত। যা খুব দরকার। সবচেয়ে বড় কথা, ওয়ানডেতে ও নিজের জায়গাটাই আমাকে ছেড়ে দিল। আমি ওপেন করতে লাগলাম শচীনের সঙ্গে। এতেই বোঝা যায় সৌরভ কত ভালবাসত আমাকে। কৃতজ্ঞ দাদা।’