২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

গণপরিবহনে নৈরাজ্য

  • চট্টগ্রামে সরকার বাড়িয়েছে ১০ পয়সা, আদায় হচ্ছে এক টাকার বেশি

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম অফিস ॥ গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির পর পরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধির ঘোষণায় বন্দর নগরী চট্টগ্রামে গণপরিবহনে চলছে চরম নৈরাজ্য। সরকারী সিদ্ধান্তে কিলোমিটার প্রতি ১০ পয়সা বৃদ্ধি করা হলেও পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা যে যার ইচ্ছা মতো ভাড়া আদায় করছে। কিছু কিছু পরিবহন এক কিলোমিটার দূরত্বের স্টপেজের ক্ষেত্রেও ১-২ টাকা বাড়তি ভাড়া আদায় করে নিচ্ছে।

একদিকে ভাড়া বৃদ্ধির সরকারী ঘোষণা অন্যদিকে পরিবহন সঙ্কটকে কাজে লাগিয়ে মালিক-শ্রমিকরা নগরীর হাজার হাজার যাত্রীকে রীতিমতো জিম্মি করে ফেলেছে। নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত পরিশোধ করতে অনিচ্ছা প্রকাশ করলে যাত্রীদের গাড়ি থেকে নামিয়ে দিতে উদ্যত হয় পরিবহন শ্রমিকরা। ফলে বাড়তি ভাড়া আদায়কে কেন্দ্র করে প্রতিদিনই পরিবহনে যাত্রীদের সঙ্গে শ্রমিকদের কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে চলেছে।

অপরদিকে অনিচ্ছা সত্ত্বেও পরিবহন সঙ্কটে পড়ে বাড়তি ভাড়া দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে নগরবাসীকে। এতে বিপাকে পড়েছেন কর্মজীবী ও নগরীর নিম্ন আয়ের লোকজন। তাদের আয়ের বিরাট অংশ খরচ হয়ে যাচ্ছে যাতায়াত খাতে রাস্তায়।

বাড়তি ভাড়া আদায়ের ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে নগরীর বাসিন্দা ইমরান হোসেন বলেন, আগে লালখান বাজার থেকে আগ্রাবাদ বাদামতল যেতে বাসে ভাড়া নিত ৫ টাকা, এখন নিচ্ছে ৭ টাকা। উঠা-নামায় এক টাকা করে বাড়তি ভাড়া আদায় করছে পরিবহনগুলো। আর সিএনজিচালিত ট্যাক্সি-টেম্পো তো রীতিমতো গলাকাটা ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। অল্প দূরত্বের জায়গায় যেতেও এখন গুনতে হচ্ছে কমপক্ষে ১শ’ টাকা।

নগরীর এসব রুটে বাড়তি ভাড়া আদায় হলেও নগর ট্রাফিক পুলিশ নীবর ভূমিকা পালন করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বাড়তি ভাড়া আদায় নিয়ে গত ১০-১৫ দিন সড়কে নিয়মিত কথা কাটাকাটির ঘটনা ঘটলেও ভাড়া নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে পুলিশের কোন তৎপরতা দৃশ্যমান হয়নি। কর্তব্যরত সার্জেন্টরা বলছেন, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় নিয়ে কোন যাত্রী তাদের কাছে কোন অভিযোগ করেনি।

এ প্রসঙ্গে সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক চট্টগ্রাম মহানগর উত্তর) কাজী মোঃ আব্দুর রহিম বলেন, আমরা সরকার নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা পরিবহন মালিক সমিতির কাছে হস্তান্তর করেছি। মালিক-শ্রমিক সমিতির নেতাদের সঙ্গে বসেছি। তাদের সরকার নির্ধারিত ভাড়া আদায়ের নিদের্শনা দিয়েছি। এরপরও তারা যদি সরকার নির্ধারিত ভাড়ার বেশি আদায় করে তবে তাদের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নিব।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় ঢাকা এবং চট্টগ্রাম মহানগরীতে চলাচলরত গণপরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেয়। এ সিদ্ধান্ত পহেলা অক্টোবর থেকে কার্যকর হয়। সরকারী সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটার এক টাকা ৬০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে এক টাকা ৭০ পয়সা করার সিদ্ধান্ত হলেও চট্টগ্রামে সর্বনিম্ন ভাড়া আদায় হচ্ছে ৫ টাকা হারে। সরকার প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া বাড়িয়েছে ১০ পয়সা। আর গণপরিবহনে প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া আদায় হচ্ছে এক টাকার বেশি হারে। আগে বাস-মিনিবাস এবং রাইডারে সর্বনিম্ন (উঠা-নামা) ভাড়া ছিল ৪ টাকা। এখন সর্বনিম্ন ভাড়া ৫ থেকে ৬ টাকা আদায় করা হচ্ছে। কোন কোন রুটে সর্বনিম্ন ভাড়া ৩ টাকা বাড়িয়ে ৭ টাকাও আদায় করা হচ্ছে। এ নিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে পরিবহন শ্রমিকদের হাতাহাতি এমনকি মারামারির ঘটনাও ঘটছে। বুধবার নগরীর বিভিন্ন রুটে যাতায়াত করে নৈরাজ্যকর এ চিত্র দেখা যায়। মহানগরীর ১২টি রুটে চলাচলকারী বাস-মিনিবাস ও হিউম্যান হলারের পাশাপাশি টেম্পোতেও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় হচ্ছে।

এদিকে সরকার শুধু সিএনজিচালিত গাড়ির ক্ষেত্রে ভাড়া বৃদ্ধি করলেও এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে ডিজেল চালিত গাড়িগুলোও বাড়তি ভাড়া আদায় করে নিচ্ছে। তবে পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা সরকারের নির্ধারিত ভাড়া আদায় করছেন দাবি করেছেন বলে দাবি করেন।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পরিবহন মালিক গ্রুপের মহাসচিব বেলায়েত হোসেন এ সম্পর্কে বলেন, আমরা আমাদের স্টাফদের তালিকা অনুযায়ী ভাড়া নিতে বলেছি। বিআরটিএ থেকে ডিজেল ও সিএনজিচালিত গাড়ির ভাড়া নির্ধারণের কোন ব্যবস্থা না রাখায় যে যার মতো করে ভাড়া আদায় করছে। তিনি আরও বলেন, স্বল্প দূরত্বের ক্ষেত্রে যাত্রীরা তালিকা অনুযায়ী ভাড়া দেন। কিন্তু দীর্ঘ দূরত্বের ক্ষেত্রে নির্ধারিত ভাড়া দিতে রাজি হন না। তাই আমাদের স্টাফদের সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি হয়। তিনি নির্ধারিত ভাড়া আদায় নিশ্চিত করতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার কথা বলেন।