২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শুরু হচ্ছে বাতিঘর নাট্যমেলা

‘অশুভের বিনাশ ক্ষণে- এসো মিলি নট-নন্দনে’ সেøাগানকে ধারণ করে ২৩ অক্টোবর থেকে ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত শুরু হচ্ছে বাতিঘর নাট্যমেলা ২০১৫। উক্ত নাট্যমেলা উদ্বোধন করবেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় সংস্কৃতিমন্ত্রী, নাট্যজন, আসাদুজ্জামান নূর। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক, নাট্যজন লিয়াকত আলী লাকী; আইটিআই সভাপতি, নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার এবং নাট্যজন সারা যাকের। চার দিনব্যাপী নাট্যমেলায় স্বনামধন্য নাট্যদলের আলোচিত ও জনপ্রিয় ৭টি নাটকসহ লোকজ সংস্কৃতির আবহ সমৃদ্ধ আয়োজনটি অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণ, জাতীয় নাট্যশালা ও এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হল। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে উন্মুক্ত মঞ্চে প্রতিদিন থাকছে ব্যান্ডদল সর্বনাম, জলের গান এবং মেঘদল- এর পরিবেশনা।

উৎসবটিকে শুধুমাত্র নাটোৎসব না বলে, বলা হচ্ছে নাট্যমেলা। এই উৎসবের অন্যতম লক্ষ্য সুস্থ বিনোদনের মাধ্যমে মঞ্চনাটককে জনসাধারণের কাছে পৌঁছে দেয়া, একইসঙ্গে কমাশ্রী পদক প্রদানের মধ্যদিয়ে সময়ের আলোচিত তরুণ নাট্যকর্মীদের সম্মাননা ও উৎসাহী করা। আমাদের নাট্য-আঙ্গিকের যে সমস্ত উপাদান আমাদের থিয়েটারকে দিনে দিনে সমৃদ্ধ করেছে, যেমন- কবিগান, পুঁথিপাঠ, লোকজ নৃত্য, লোকগান, মুখা খেলা, লাঠি খেলা ইত্যাদিকে সাধারণের সামনে নিয়ে আসা। এছাড়াও শহুরে পরিম-লে আমরা আমাদের ভুলে যাওয়া গ্রাম্যমেলার আবহটাকে ফিরিয়ে আনতে চাই। সেইসঙ্গে থাকছে দেশের স্বনামধন্য দলের আলোচিত প্রযোজনার মঞ্চায়ন যা দর্শকদের বিনোদিত করার পাশাপাশি তাদের চিন্তার খোরাক দেয়, সময়ের সঙ্গে সমাজ বাস্তবতা এবং রাজনীতি সম্পর্কে ভাবতে শেখায়। মেলার এই উৎসবমুখর আবহের মধ্যদিয়ে আমরা আরও বেশি সাধারণ মানুষের সামনে আমাদের মঞ্চনাটককে ভিন্ন আঙ্গিকে উপস্থাপন করতে চাই। মেলার লক্ষ্য দর্শক শ্রেণী তরুণ সমাজ। এ নাটকে যেমন তারা এ সময়ের আলোচিত সাতটি মঞ্চ নাটক দেখতে পারবে, সেই সঙ্গে পারবে ব্যান্ড সঙ্গীতের মূর্ছনায় মাততে আর সঙ্গে থাকবে লোকজ মেলার আবহ। মেলায় প্রতিদিন ১০ হতে ১৫ হাজার মানুষের সমাগম ঘটানোর প্রচেষ্টা রয়েছে, অর্থাৎ চার দিনে প্রায় পঞ্চাশ হাজার দর্শক সমাগম ঘটবে এই নাট্যমেলায়।

যে মঞ্চ আমাদের টেলিভিশন, চলচ্চিত্রসহ শিল্পাঙ্গনের অন্যান্য মাধ্যমের প্রসূতিগৃহ হিসেবে এত বছর থেকে কাজ করে চলেছে, বাতিঘর বিশ^াস করে বর্তমান শিল্পের ক্রান্তিলগ্নে দাঁড়িয়েও অশুভের বিনাশকল্পে নট-নন্দনে মিলিত হবার এই আহ্বান আমাদের ভিন্ন আঙ্গিকে ভাবিত করার পাশাপাশি সকলকে নতুন আলোয় উজ্জীবিত করবে, ৫ম বর্ষ পদার্পণে বাতিঘর নাট্যমেলার মাধ্যমে মৌনকরোটীর সেই আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটবে, সেটাই এই উৎসবের প্রধান লক্ষ্য। সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘কমাশ্রী ভুবন’ এর অঙ্গসংগঠন ‘বাতিঘর’ বাংলাদেশের নাট্যঙ্গনে একটি তারুণ্যদীপ্ত ও প্রগতিশীল নাটকের দল। ‘মুক্তমনের স্রোত ধারায় হব আলোকিত মানুষ’ এই সেøাগানকে ধারণ করে সংগঠনটি বিগত প্রায় ৫ বছর যাবত সাংস্কৃতিক কর্মকা- পরিচালনা করে আসছে। প্রয়াত নাট্য-ব্যক্তিত্ব খালেদ খান যুবরাজ প্রয়াণের বেশ কিছুদিন আগে এই দলটির সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে বাতিঘর নামকরণটি করেছিলেন। তাঁর অনুপ্রেরণায় উৎসাহিত হয়ে বাতিঘর গত কয়েক বছরে দৃঢ়তার সঙ্গে নাট্যচর্চা করে আসছে। দলটির সাম্প্রতিক সময়োপযোগী ও আলোচিত প্রযোজনা উর্ণাজাল এর ৬টি প্রর্দশনী সম্পন্ন হওয়ার পর বাতিঘর একটি নাট্যমেলা উদ্যাপন করার প্রয়াস হাতে নিয়েছে। এই উৎসবের মিডিয়া পার্টনার হিসেবে রয়েছে দৈনিক জনকণ্ঠ।

আনন্দকণ্ঠ ডেস্ক