২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ভাল খেলেও ঢাকা মোহামেডান হারল বাজানের কাছে

রুমেল খান চট্টগ্রাম থেকে ॥ খেলল মোহামেডান, জিতল বাজান! ‘শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে’ বুধবারের দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশী ফুটবলপ্রেমীদের হতাশ করেছে ঢাকা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব লিমিটেড। চট্টগ্রামের এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে ‘এ’ গ্রুপের খেলায় তারা ১-০ গোলে হেরেছে আফগানিস্তানের ডি স্পিন ঘার বাজান ফুটবল ক্লাবের কাছে। মিডফিল্ডার আনোয়ার আকবরি ৩৩ মিনিটে জয়সূচক গোলটি করেন। প্রথম ম্যাচেই আফগান ক্লাবটির কাছে হেরে ধাক্কা খেল সাদাকালো। অথচ ম্যাচে পাঁচ ডিফেন্ডার নিয়ে মাঠে নামে বিপিএলের (বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ) তৃতীয় স্থান অধিকারীরা!

এই টুর্নামেন্টে এটা ছিল উভয় দলেরই প্রথম ম্যাচ। মোহামেডানের পরের ম্যাচ শ্রীলঙ্কার সলিড এসসির বিরুদ্ধে। ম্যাচটি হবে আগামীকাল শুক্রবার, বিকেল সাড়ে চারটায়। বাজানের পরের ম্যাচ একই দিন সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায়। প্রতিপক্ষ কলকাতা মোহামেডান।

তিন বিদেশী খেলোয়াড় খেলানোর সুযোগ থাকলেও নানা জটিলতায় প্রথমে মোহামেডানে বিদেশী ছিল মাত্র একজনÑ ডিফেন্ডার নাইজিরিয়ার ইয়ন্টা মাইকেল। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে একসঙ্গে সব খেলোয়াড়কেও পাওয়া যায়নি। মাত্র ১৬ দেশী খেলোয়াড় নিয়ে দশ সেশন অনুশীলন করেছে। এলিটা বেঞ্জামিন এবং ইসমাইল বাঙ্গুরাকে ভিন্ন ভিন্ন কারণে পাওয়া যায়নি। পরে অবশ্য অন্তিম সময়ে ‘ম্যানেজ’ করা গেছে মিডফিল্ডার লামিনে কামারা, ডিফেন্ডার ওইয়েইয়ে ওলাবানজি আলানিকে। কিন্তু তারা কেউই সন্তোষজনক পারফর্ম করতে পারেননি।

২০১২ সালে আফগান ক্লাব ডি স্পিন ঘারের জন্ম। ২০১৫ প্রিমিয়ার লীগ শিরোপা জেতা তাদের প্রথম কৃতিত্ব। হারিয়েছে টানা দুবারের চ্যাম্পিয়ন শাহিন আসমায়িকে। অথচ যুদ্ধবিধস্ত দেশটিতে ফুটবল চর্চা সেভাবে হয় না। তারপরও তাদের চেষ্টার কোন কমতি নেই। সাফ ফুটবলের সর্বশেষ চ্যাম্পিয়নও (২০১৩) তারাই! সেই মর্যাদা ধরে রাখার পথে বুধবারের জয়টি ছিল তাদের প্রথম ধাপ। জাতীয় দলের ছয় খেলোয়াড় আছে দলটিতে। বাংলাদেশে আসার আগে তারা চারটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে।

ম্যাচ শেষে মোহামেডানের কোচ জসিম উদ্দিন জোসি বলেন, ‘কমপক্ষে দশটি গোলের সুযোগ পেয়েছি। এর মধ্যে পাঁচটিই গোল হতে পারত। জীবনই মিস করেছে গোটা তিনেক আর ইব্রাহিম দুটি। তবে জীবনের পরিশ্রম করার দক্ষতা আমাকে মুগ্ধ করেছে। ফুটবল গোলের খেলা। আমরা গোল পাইনি, তারা পেয়েছে। আসলে ভাগ্য সহায় হয়নি আমাদের। ভাল খেলেও এভাবে হেরে আমি ভীষণ হতাশ এবং আবেগে আপ্লুত। আমাদের বিদেশী খেলোয়াড়ের গুণগত মানে সন্তুষ্ট নই। সে তুলনায় দেশী খেলোয়াড়রা বেশ ভাল খেলেছে।’

বাজানের কোচ ওয়াহিদুল্লাহ্ বলেন, ‘প্রথম ম্যাচেই জেতায় খুশি। মোহামেডান শক্তিশালী দল। তাদের সম্পর্কে ভাল ধারণা আছে। ম্যাচে আমরা শেষদিকে ডিফেন্সিভ খেলি। কারণ ওরা দারুণ চাপ সৃষ্টি করেছিল। ভাগ্যক্রমে আমরা গোল খাইনি। ভালই খেলেছি আমরা।’