২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

টর্চার সেল! ॥ মাদকাসক্তি নিরাময়ের আড়ালে মাদক ব্যবসা

টর্চার সেল! ॥ মাদকাসক্তি নিরাময়ের আড়ালে  মাদক  ব্যবসা
  • অবৈধ নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসার নামে চালানো হয় নির্যাতন;###;নেই চিকিৎসক ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞ;###;ভুয়া চিকিৎসকরা হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা

আরাফাত মুন্না ॥ ঠিক কতদিন হলো নিরাময় কেন্দ্রে এসেছেন মনে করতে পারেন না আজিজ (ছদ্মনাম)। ছোট স্যাঁতসেঁতে একটি ঘরে এক প্রকার বন্দী তিনি। ওই ঘরে দিন রাত সব সময়ই লাইট জ্বালানো থাকে, কারণ সব সময় বন্ধ থাকে ঘরের দরজা জানালা। এর আগে ইয়াবা সেবনের জন্য টানা ৬ মাস স্বেচ্ছায় সায়েদাবাদের একটি ঘরে বন্দী ছিল বাইশ বছর বয়সী এই যুবক। ওই সময় পরিবারও তার কোন খোঁজ খবর নেয়নি। পরে পরিবারের সদস্যরাই তাকে উদ্ধার করে সায়েদাবাদ থেকে মিরপুর পল্লবীর এই নিরাময় কেন্দ্রে দিয়ে গেছে। সাইনবোর্ডহীন চারতলা বাড়ির নিচতলায় তিনটি ১০ ফুট বাই ১০ ফুট ঘর। ৬টি বিছানার ব্যবস্থা থাকলেও এই কেন্দ্রের লোকেরা থাকায় আসক্তদের অধিকাংশ সময় মেঝেতে শোয়ার ব্যবস্থা হয়।

রাজধানীজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে এমন অসংখ্য মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্র। এরই একটার বর্ণনা এটি। তবে ঘরের আকার ও রোগীর সংখ্যার হেরফের হলেও ভেতরে রোগীদের সঙ্গে কর্তৃপক্ষের আচার আচরণ প্রায় সব ক্ষেত্রেই এক। রোগীদের মাদকাসক্ত থেকে নিরাময়ের জন্য ভর্তির সময় মিঠে মিঠে কথা বললেও তার আচরণগত পরিবর্তন আনার নামে প্রায় ক্ষেত্রেই এসব নিরাময় কেন্দ্রে রোগীর ওপর চালানো হয় নানারকম শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। মাদকাসক্তদের নিরাময়ের নামে রাজধানী ঢাকায় গড়ে উঠেছে এ ধরনের শত শত টর্চার সেল। সেবার নামে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা এসব নিরাময় কেন্দ্রে কোন চিকিৎসা নেই, সেবা নেই। আছে নির্যাতন এবং মাদক বেচাকেনার সুবিধা। রাজধানীর হাতেগোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে মাদক সেবনকারীদের কিছু সেবা ও চিকিৎসা দিলেও অধিকাংশ মাদক নিরাময় কেন্দ্রে কোন চিকিৎসা নেই। বরং মাসের পর মাস সেবার নামে মানুষকে আটকে রাখা হয়।

বাড্ডার নতুনবাজার এলাকা ছাড়িয়ে কিছুদূর এগিয়ে গেলেই চোখে পড়বে বেশ কয়েকটি ওষুধের দোকান। মূলত ওষুধ বিক্রি এদের কাজ হলেও মাদকাসক্তদের নিরাময়ের নামেও এরা নসিহত দেয়। আর এজন্য এসব দোকানের আশপাশে আছে বেশ কিছু দালাল। ফার্মেসিতে এমন কোন রোগীর প্রেসক্রিপশন এলেই রোগীর খোঁজখবর নিয়ে তারা ঠিকানা দিয়ে দেয় মালিবাগ ও ভাটারার কয়েকটি নিরাময় কেন্দ্রের। এসব নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি হতে আড়াই হাজার আর চিকিৎসার জন্য লাগে প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা। নিরাময় কেন্দ্রগুলোর চিকিৎসকের তালিকাও বেশ লম্বা। বেশিরভাগের তালিকায় আছেন মাদকাসক্তসহ মনোরোগের ক্ষেত্রে দেশের নামী বিশেষজ্ঞরাও। এ ধরনের একটি প্রতিষ্ঠানের তালিকা ঘেঁটে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মোহিত কামালের নামও পাওয়া গেল। তবে এখানে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রখ্যাত চিকিৎসক মোহিত কামাল দূরে থাক, ভর্তি হওয়ার পর তারা আদৌ কোন চিকিৎসকের দেখা পাননি। চিকিৎসা অবশ্য চলে এক পদ্ধতিতে। তা হচ্ছে নেশাসক্তরা ভর্তি হওয়ার পর উল্টাপাল্টা কিছু করলে বা দাবি করলেই তাদের ওপর শুরু হয় লাঠিপেটা।

বিষয়টা স্বীকার করেন ভাটারার এক মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রের দারোয়ান। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি জনকণ্ঠকে বলেন, ‘অনেক পরিবার থেকে ১২ থেকে ১৬ বছর বয়সী নেশা করা ছেলেমেয়েরা আসে এখানে। এরা কেন্দ্র থেকে সরবরাহ করা খাবার খেতে না চাইলে কখনও কখনও ধরে মাইর দেয়া হয়। দু’একবার মাইর খাইলে আর ঝামেলা করে না।’ মারধরের বিষয়ে রোগীরা বাড়িতে বলে দেয় কিনা জানতে চাইলে রমজান বলেন, ‘বলবে না, বললে নেশার জিনিস চেয়ে পাবে না।’

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, অবৈধভাবে গড়ে ওঠা এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িতরা মাদক নিরাময়ের বিষয়ে অনভিজ্ঞ। এসব কেন্দ্রে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে চিকিৎসার নামে চলে শারীরিক নির্যাতন। এমনকি দেদার চলে মাদকদ্রব্যের ব্যবসাও।

এমনকি গত জানুয়ারিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি গঠিত সাব কমিটির আয়োজনে এক সভায় নিরাময় কেন্দ্রগুলোর বিষয়ে এসব অভিযোগ স্বীকারই করে নেয়া হয়েছে। যেখানে বলা হয়, দেশে ৫০ লাখ লোক মাদকাসক্ত। সরকারি উপায়ে নিরাময় সীমিত বলেই প্রায় শতাধিক অনুমোদিত নিরাময় কেন্দ্র আছে যদিও এগুলোর মান নিয়ে কোন মনিটরিং নেই। এছাড়াও হাজারের বেশি অবৈধ কেন্দ্র রয়েছে, সেখানে ভুয়া চিকিৎসকরা হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। কিন্তু এসবের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গত দশ মাসেও নেয়া হয়নি। এমনকি এসব কেন্দ্র নানা কায়দায় মাদক ব্যবসা ছড়াচ্ছে।

ভুক্তভোগির বক্তব্য ॥ রাজধানীর একটি গার্মেন্টের লাইনম্যান আব্দুর রহমান তার ভাইকে দিয়ে আসেন মিরপুর-১ এর সুখনীড় নিরাময় কেন্দ্রে। গাঁজা আর ফেনসিডিলে আসক্ত ভাইকে সাড়ে তিন হাজার টাকা দিয়ে ভর্তি করানোর পর দুই মাসে আরও ১০ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। ভর্তির সময় তাকে বলে দেয়া হয় ভাইয়ের ভাল চিকিৎসা চাইলে সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত দেখা সাক্ষাত বন্ধ। এরপর দুই মাস ১১দিনের মাথায় বাড়ির সামনে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন তার ভাইকে।

কী হয়েছিল জানতে চাইলে আব্দুর রহমান জনকণ্ঠকে জানান, অল্প আয়ের পরিবারগুলোকে টার্গেট করে ৩০ জন সংগ্রহ করেছিল কিছু অসাধু ব্যক্তি। আব্দুর রহমান বলেন, ‘৩০ জনের কাছ থেকে দুই মাসে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা নিলে দুই মাসে কত টাকা হয় হিসাব করেন। সেই টাকার সামান্য কিছু এই দুইমাস এদের পেছনে খরচ করেছে এরা আর নেশা দূর করা দূরে থাক উল্টো নেশাদ্রব্য খাইয়ে এদের ভুলিয়ে রেখেছে সব। এরপর সবার বাড়ির আশপাশে বা সামনে তাদের ফেলে রেখে গেছে। ওই বাড়িতে আর সেই কেন্দ্র নেই, ব্যবসা বন্ধ করে টাকা লুটে ওরা পালিয়েছে।’

রাজধানীসহ সারাদেশে এ ধরনের সাময়িক সুখনীড়ের সংখ্যা কম না। এগুলো নামেই নিরাময় কেন্দ্র। ভেতরে নিরাময়যোগ্য পরিবেশই নেই। আসক্তদের নিরাময়ের জন্য বিনোদনের ব্যবস্থা থাকা জরুরী বলে বলছেন মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। বেশির ভাগ নিরাময় কেন্দ্রে এ ধরনের সুবিধা তো নেই-ই বরং কোন কোনটা নিরাময় কেন্দ্রের নামের আড়ালে হয়ে উঠেছে নিশ্চিন্তে মাদক বিক্রির আখড়া।

অবৈধ যত নিরাময় কেন্দ্র ॥ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, বিধিমালা অনুসারে কেন্দ্র পরিচালনার জন্য মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর থেকে এ পর্যন্ত ঢাকা মেট্রো উপ-অঞ্চলসহ সারাদেশে ১১১টি কেন্দ্র বেসরকারী নিবন্ধন নিয়েছে। এছাড়া ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও খুলনায় চারটি সরকারী মাদকাসক্ত পরামর্শ, নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র রয়েছে।

অধিদফতর সূত্র জানায়, গত দুই বছরে মাত্র ৮০টি অবৈধ কেন্দ্রের নাম সংগ্রহ করতে পেরেছে সংশ্লিষ্টরা। অবৈধ নিরাময় কেন্দ্রের মধ্যে রাজধানীতে ৩৫টি, রাজধানীর বাইরে ঢাকা উপ-অঞ্চলে ১৩টি, দিনাজপুর উপ-অঞ্চলে দুটি, কক্সবাজার উপ-অঞ্চলে দুটি, বগুড়া উপ-অঞ্চলে চারটি, ময়মনসিংহে ৯টি, রংপুরে একটি, খুলনায় ৩টি, নোয়াখালীতে ২টি এবং রাজশাহীতে ৮টি মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্র রয়েছে বলে চিহ্নিত করেছে অধিদফতর। অন্যদিকে এক পরিসংখ্যানে জানা গেছে, ঢাকাসহ সারাদেশে অনুমোদনহীন এমন কেন্দ্রের সংখ্যা প্রায় দেড় হাজারের বেশি। অভিযোগ রয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অধিদফতরের অসাধু কর্মকর্তাদের মাসোহারার চুক্তি থাকায় ‘অবৈধ তালিকায়’ তাদের নাম যুক্ত করা হয়নি।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন অনেক অবৈধ কেন্দ্রের সন্ধান মিলেছে। যার বেশিরভাগই স্যাঁতসেঁতে অন্ধকার আধাপাকা বাড়িতে অবস্থিত। ছোট ছোট চার/পাঁচটি কক্ষ। নেই আলো-বাতাসের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা। তার মধ্যেই রান্না ও থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা।

রাজধানীতে বড় আকারে অথচ অবৈধভাবে যেসব নিরাময় কেন্দ্র জমজমাটভাবে চলছে সেসব প্রতিষ্ঠান হচ্ছে- মোহাম্মদপুরের স্যার সৈয়দ রোডে বারাক মনোচিকিৎসালয়, বাংলাদেশ ইয়ূথ ফার্স্ট কনসার্ন, মোহাম্মদী হাউজিংয়ে জীবনের ঠিকানা, ঢাকা উদ্যানে ফিউচার, জীবনের আলো, নিউ তরী, রায়ের বাজারে আশার আলো, মোহাম্মদপুর আজিজ মহল্লায় নতুন জীবনে ফিরে আসা, খিলগাঁওয়ের সিপাহীবাগে সৃষ্টি মাদকাসক্ত নিরাময় ও পরামর্শ কেন্দ্র, খিলগাঁও আইডিয়াল কলেজ সংলগ্ন রূপান্তর মাদকাসক্ত চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্র, উত্তরা ১০ নন্বর সেক্টরে রি-লাইফ, ৭ নন্বর সেক্টরে ফেরা, ৯ নন্বর সেক্টরে সেবা, ৪ নম্বর সেক্টরে গ্রিন লাইফ, ৩ নম্বর সেক্টরে দীপ জ্বেলে যাই, এ্যালিফেন্ট রোডে নিউ মুক্তি ক্লিনিক, পশ্চিম যাত্রাবাড়ীতে নতুন জীবন মাদকাসক্ত ও চিকিৎসা পুনর্বাসন কেন্দ্র, উত্তর যাত্রাবাড়ীতে দিশারী মাদকাসক্ত চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্র, উত্তর শাহজাহানপুরে নির্বাণ মাদকাসক্ত নিরাময় ক্লিনিক, মতিঝিলে হলি লাইফ মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্র, ছোলমাইদ পূর্বপাড়ায় ক্লিন লাইফ, নবজন্ম, এভারগ্রিন, পশ্চিম রামপুরায় সমর্পণ, রামপুরার ডিআইটি রোডে স্নেহ নীড়, খিলগাঁওয়ে আশার আলো, গ্রিনরোডে লাইফ অ্যান্ড লাইট হসপিটাল, পল্লবীতে ঢাকা মনোরোগ ক্লিনিক, লালবাগে মধুমিতা ক্রিয়া প্রকল্প ও ইস্কাটন গার্ডেন রোডে সারডা উল্লেখযোগ্য।

এক দালালের বক্তব্য ॥ রেজিস্ট্রেশন ছাড়া, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ছাড়া কী করে তারা নিরাময় কেন্দ্র চালাচ্ছেন জানতে চাইলে পাইকপাড়ার (দালালচক্রের সদস্য) তসলিম উদ্দিন বলেন, আমরা চাই তাদের নিরাময় হোক। আমাদের সমাজিক দায় আছে। তবে চাইলেই তো আর রেজিস্ট্রেশন পাওয়া যায় না, তাই এসব নিজেদের মতো করে করি।

নিরাময়ে সরকারী ব্যবস্থাপনা চলে খুঁড়িয়ে ॥ মাদকাসক্ত নিরাময়ে সরকারী উদ্যোগ আয়োজন চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। ঢাকার তেজগাঁওয়ে ৪০ শয্যার কেন্দ্রীয় মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসক আছেন ৬ জন। রাজশাহীর উপ-শহর ও চট্টগ্রামের পাঁচলাইশের নিরাময় কেন্দ্রে শয্যা আছে পাঁচটি করে, চিকিৎসক আছেন একজন করে। লোকবলের অভাবে বর্তমানে খুলনার নিরাময় কেন্দ্রের চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। রাজশাহী কেন্দ্র বেশ কিছুদিন বন্ধ থাকার পর সম্প্রতি ঝিমিয়ে ঝিমিয়ে যাত্রা শুরু করেছে। এসব কেন্দ্রে নেই অত্যাধুনিক কোন যন্ত্রপাতি, চিকিৎসার উপকরণও। এসব থেকেই মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর পরিচালিত সরকারী কেন্দ্রগুলোর মাদকাসক্ত চিকিৎসার বেহাল দশার চিত্রটি অনুমান করা যায়। ২০০৫ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘মাদকাসক্ত পুনর্বাসন প্রকল্প’ নামে নেয়া প্রশংসিত উদ্যোগটি এখন মুখ থুবড়ে পড়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় ২০০৭ সালে প্রায় সোয়া ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি পাঁচতলা ভবন নির্মিত হয়েছে, কেনা হয়েছে কয়েক লাখ টাকার যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্র। শুধু লোকবলের অভাবে প্রকল্পটি চালু করা যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মাদকাসক্ত পুনর্বাসন কেন্দ্রের আওতায় আড়াই শতাধিক লোকবল নিয়োগের কথা রয়েছে, কিন্তু দীর্ঘদিনেও তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না।

মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে যা থাকতে হবে ॥ বেসরকারী মাদকাসক্ত নিরাময় ও মাদকাসক্ত পুনর্বাসন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা এবং পরিচালনার জন্য সরকারী শর্তাবলীর মধ্যে রয়েছে- আবাসিক এলাকার পাকা বাড়ি বা ভবনে অবস্থিত, পর্যাপ্ত আলো-বাতাস, নিরিবিলি সুন্দর পরিবেশ হতে হবে। একজন রোগীর জন্য কমপক্ষে ৮০ বর্গফুট জায়গা, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা থাকতে হবে। অন্যদিকে প্রতি ১০ বেডের জন্য পৃথক একটি টয়লেট, বাথরুম, বিশুদ্ধ পানিসহ অন্যান্য সুব্যবস্থা এবং খ-কালীন বা সর্বক্ষণিক একজন মনোচিকিৎসক, সর্বক্ষণিক একজন ডাক্তার, দু’জন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নার্স বা বয়, একজন সুইপার বা আয়া এবং জীবন রক্ষাকারী উপকরণ ও অত্যাবশ্যক ওষুধ থাকতে হবে। এছাড়া মাদকাসক্ত ব্যক্তির রক্ত, কফ, মলমূত্র ইত্যাদি পরীক্ষার জন্য অনুমোদিত যে কোনো ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সঙ্গে সম্পৃক্ত ও চিকিৎসা সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য সংরক্ষণের সুবিধা থাকতে হবে। কেন্দ্রে একক বা দলগত পরামর্শক এবং মানসিক বিনোদনের জন্য অভ্যন্তরীণ খেলাধুলা, পত্রিকা, ম্যাগাজিন, টেলিভিশন ও কাউন্সেলিংয়ের জন্য ২০ জনের উপযোগী একটি শ্রেণীকক্ষ থাকা প্রয়োজন। তবে রাজধানীর প্রায় ৯০ শতাংশ নিরাময় কেন্দ্রই এসব নিয়মের তোয়াক্কা করছে না বলেই অভিযোগ।

মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে আন্দোলনে যুক্ত ফজলে হোসেন বাদশা এমপি বলেন, এই অভিযোগগুলোর সত্যতা আছে কিন্তু এদের মনিটরিংয়ের মাধ্যমে নিষিদ্ধ করার প্রক্রিয়া শুরু হওয়াটা জরুরী। আমরা সবাই যার যার মতো করে কথা বলব আর নিয়ন্ত্রণে কোন উদ্যোগ নেব না তাহলে আজ থেকে দশবছর পরও আমাকে এই একই বিষয় নিয়ে কাজ করতে হবে। সেটা কোন আধুনিক সমাজের জন্য যথাযথ প্রক্রিয়া হতে পারে না। পুলিশী অভিযান চালিয়ে এসব অবৈধ ব্যবসা বন্ধ না করলে সমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।