২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শতভাগ বাকশাল! ॥ উবাচ

শতভাগ বাকশাল! ॥ উবাচ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ শেষ রাত পর্যন্ত বৈঠক করে মনোনয়ন, কেউ নিজের ইচ্ছায় নির্বাচন করলে বসিয়ে দেয়া, না বসতে চাইলে বহিষ্কার, কেন্দ্র থেকে ছুটে গিয়ে প্রার্থীর সঙ্গে মাঠ মাতানো- এসব কিছুই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে চলে আসছে। মূলত স্থানীয় সরকার হলেও ছোট-বড় রাজনৈতিক দলগুলো দলীয় নির্বাচন হিসেবেই প্রচার চালিয়ে আসছে। পৃথিবীর নানান দেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয়ভাবেই হয়ে থাকে। কিন্তু বাংলাদেশে যখন এ প্রক্রিয়া শুরু করা হচ্ছে, তখন বলা হচ্ছে- শতভাগ বাকশাল কায়েমের চেষ্টা চলছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হান্নান শাহ-ই গত সপ্তাহে এমন মন্তব্য করেছেন এক দোয়া মাহফিলে অনুষ্ঠানে। তাহলে হান্নান শাহ’র দল এতদিন স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয়ভাবে করে কী কায়েম করতে চেয়েছিলেন? দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের ইউনিয়ন পরিষদগুলো যদি দখল করে নিতে পারেন, তাহলে তারা একদলীয় শাসনব্যবস্থা বাকশাল একশত ভাগ কায়েম করতে পারবেন। ফার্সিতে একটা কথা আছেÑ ‘দিল্লী দূরঅস্ত’; এখনও দিল্লী বহু দূরে। সরকারকে বলব, এই কূটকৌশল ছেড়ে দিন। দেশ সুন্দরভাবে পরিচালনার জন্য অনতিবিলম্বে নতুন করে নির্বাচন দাবি করেন তিনি। ওই দোয়া অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয়েছিল বেগম জিয়ার আশু রোগমুক্তি কামনায়। হান্নান শাহ বলেন, আমাদের নেত্রীর এক চোখে অপারেশন হয়েছে, আরেক চোখে হবে, উনার পায়েও সমস্যা রয়েছে। কিন্তু সরকারী দলের নেতারা এ নিয়ে যা তা বলার চেষ্টা করছেন। তিনি মনে করেন সরকার বেগম জিয়া এবং তার ছেলে বিএনপির নির্বাসিত নেতা তারেক রহমানকে ভয় পায়।

সময়ের ব্যাপার মাত্র!

স্টাফ রিপোর্টার ॥ এতদিনে বিএনপির অনেক নেতাই সরব হয়েছেন তাদের অন্যতম শরিক জামায়াতের বিষয়ে। খোদ খালেদা জিয়া জামায়াতকে সংস্কার পরামর্শ দিয়েছেন বলে পত্রপত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয়েছে। আর জামায়াত বর্তমান অবস্থা থেকে বেরিয়ে না এলে বিএনপি তাদের সঙ্গ পরিত্যাগ করার বিষয়ে স্পষ্ট করে কথা বলেছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. অব মাহবুবুর রহমান। সম্প্রতি একটি জাতীয় পত্রিকায় দেশে জঙ্গী সংগঠনের তৎপরতা ও সরকারের নেয়া পদক্ষেপ নিয়ে কথা বলেছেন বিভিন্ন সময়ে সত্য কথা বলে দলের ভেতরে তোপের মুখে পড়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য।

সাক্ষাতকারে বিএনপি নেতার কাছে প্রশ্ন ছিলÑ জঙ্গীদের বিরুদ্ধে আপনি জাতীয় মতৈক্যের কথা বলেছেন, সেটি কি জামায়াতে ইসলামীর মতো দলকে জোটে রেখে সম্ভব? এ প্রশ্নের উত্তরে মাহবুবুর রহমান বলেছিলেন, জামায়াত নিয়ে তো একটি নেতিবাচক ধারণা আছে, নানা প্রশ্ন আছে। বিএনপি বলেছে জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক আত্মিক নয়, কৌশলগত। বিএনপি গণতন্ত্র উদ্ধারে যে ২০ দলীয় জোট করেছে, জামায়াত তার একটি শরিক মাত্র। দুটি দলের রাজনৈতিক নীতি ও আদর্শ সম্পূর্ণ আলাদা। আরেকটি প্রশ্ন ছিলÑ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিএনপিকে জামায়াতের সঙ্গে ব্রাকেটবন্দী না করার কথা বলেছেন। তাহলে আপনারা সেই ব্রাকেট থেকে বেরিয়ে আসছেন না কেন? এ প্রশ্নে মাহবুবুর রহমান বলেন, আমরা বেরিয়ে আসব; এটি সময়ের ব্যাপার। তবে আমাদের পাল্টা প্রশ্ন, সরকার যদি মনে করে জামায়াত জঙ্গী সংগঠন, তাহলে তাকে বেআইনী ঘোষণা করছে না কেন? সরকার সে রকম কিছু করলে আমরা এ ব্যাপারে সমর্থন করতেও পারি। জামায়াত নিয়ে বিএনপি নেতার এমন বক্তব্যের পরই ক্ষেপেছেন জামায়াত নেতারা। তারা বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই নেতাকে অশ্লীল ভাষায় গালি পর্যন্ত দিয়েছেন।

শ্বাসকষ্ট!

স্টাফ রিপোর্টার ॥ এরশাদের মতে, দেশের মানুষ এখন শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে পারছে না, তবে অক্সিজেনের অভাবজনিত কারণে নয়, এটি হচ্ছে সরকারের জন্য। জাপা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, সরকার দেশে শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। মানুষ আজ শ্বাস নিতে পারছে না। মুক্তবাতাস নিতে পারছে না। দুর্বিষহ জীবনযাপন করছে। কারও জীবনেই কোন স্বস্তি নেই। দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে জাতীয় পার্টি ছাড়া এখন আর কেউ মাঠে নেই। অসহায় জনগণের পাশে একমাত্র আমরাই আছি। বিএনপিও মাঠ নেই। তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ আমাদের সঙ্গে জোট করলেও তারা আমাদের কোন ধরনের ছাড় দেয়নি। বিভিন্ন নির্বাচনে সমঝোতার ভিত্তিতে অনেক আসন আমাদের ছেড়ে দেয়ার কথা থাকলেও কথা রাখেনি তারা। তারা বেইমানি করেছে। তাই আগামী পৌরসভা নির্বাচনে তারা ছাড় না দিলে সব জায়গায় আমরা প্রার্থী দেব। নিজের বক্তব্যর মধ্যেই এরশাদের স্ববিরোধিতা রয়েছে। তিনি যদি মনেই করেন সরকারের জন্য কেউ নিঃশ্বাসও নিতে পারছে না, তাহলে আবার সরকারের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে হবে কেন?