২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

তাভেলার খুনী শনাক্ত তিন যুবক যে কোন সময় গ্রেফতার

  • ধরিয়ে দিতে মোটা অঙ্কের পুরস্কার ঘোষণা করা হতে পারে

গাফফার খান চৌধুরী ॥ গণমাধ্যমে প্রকাশিত গুলশানে ইতালীয় নাগরিক সিজার তাভেলা হত্যার সন্দেহভাজন তিনজনকে ধরিয়ে দিতে মোটা অঙ্কের পুরস্কার ঘোষণা করা হতে পারে। বৃহস্পতিবার বিভিন্ন গণমাধ্যমে তাভেলা হত্যার সন্দেহভাজন তিন আসামির ছবি প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত ছবিতে একজনকে কালো হাফহাতা গেঞ্জি পরিহিত অবস্থায় মোবাইল ফোনে কথা বলতে দেখা যায়। অপর দুই জনকে একটি মোটরসাইকেলযোগে দ্রুত চলে যাওয়ার দৃশ্য ছাপা হয়। আগামী সপ্তাহেই জব্দকৃত বুলেটের খোসার ব্যালাস্টিক রিপোর্ট পাচ্ছে তদন্তকারী সংস্থা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। রিপোর্ট পেলেই তাভেলা হত্যায় কি ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহৃত হয়েছে তা পরিষ্কার হয়ে যাবে।

তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে প্রকাশিত সন্দেহভাজন খুনীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। খুনীরা শনাক্ত হয়েছে। তারা দেশেই আত্মগোপনে রয়েছে। যেকোন সময় তারা গ্রেফতার হতে পারে। স্বল্প সময়ের মধ্যেই তাভেলা হত্যা রহস্য উদঘাটিত হতে যাচ্ছে।

মামলাটির তদন্ত তদারক কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মাহফুজুল ইসলাম জনকণ্ঠকে বলেন, হত্যাকারীরা শনাক্ত হয়েছে। যেকোন সময় তারা গ্রেফতার হতে পারে। এজন্য তৎপরতা অব্যাহত আছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, প্রকাশিত ছবির সঙ্গে প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা প্রায় পুরোটাই মিলে গেছে। প্রত্যক্ষদর্শী জয়নাল খান ও সেতারা বেগমের তথ্যমতে, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তারা গুলিবর্ষণের শব্দ শুনতে পান। এ সময় ২০-২২ বছর বয়সী প্যান্ট ও কালো হাফহাতা গেঞ্জি পরিহিত হালকা-পাতলা গড়নের দুই যুবক দৌড়ে ৮৩ নম্বর সড়কের উত্তর দিকে মুখ করে রাখা একটি মোটরসাইকেলে ওঠে। ২৪-২৫ বছর বয়সী মোটরসাইকেলে বসা যুবকের পরনে ছিল লাল ও সাদা রংয়ের পাতালি চেকের হাফহাতা গেঞ্জি। তার স্বাস্থ্য ভাল। মোটরসাইকেলটি সোজা ৮৩ নম্বর সড়ক দিয়ে উত্তর দিকে দ্রুত চলে যায়।

এর পরই একজনকে ৯০ নম্বর সড়কের গবর্নরের সরকারী বাসভবনের প্রাচীর দেয়ালের মাঝ বরাবর দৌড়ে মূল রাস্তার দিকে যেতে দেখা যায়। প্রাচীর দেয়ালের কোনার দিকে গিয়ে পড়ে যান। পরে তাকে স্থানীয়রা সিএনজিতে তুলে ইউনাইটেড হাসপাতালে পাঠান। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় সিজার তাভেলার মৃত্যু হয়।

তদন্তকারীরা বলছেন, প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনার সঙ্গে সংগৃহীত ভিডিও ফুটেজে থাকা সন্দেহভাজন আসামিদের অনেক মিল রয়েছে। ইতোমধ্যেই সন্দেহভাজন বেশ কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে বলে জানা গেলেও বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত তাভেলা হত্যায় কাউকে আটক বা গ্রেফতার করা হয়নি দাবি করেছেন তদন্ত তদারক কর্মকর্তা ডিবির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মাহফুজুল ইসলাম।

তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, আলোচিত তাভেলা হত্যার ঘটনায় গণমাধ্যমে প্রকাশিত সন্দেহভাজন ৩ যুবককে ধরিয়ে দিতে মোটা অঙ্কের পুরস্কার ঘোষণা করা হতে পারে। আসামি প্রতি ১ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কার ঘোষণাও বিচিত্র নয়। এ ব্যাপারে ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া বিভাগের উপ-কমিশনার মুনতাসিরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জনকণ্ঠকে বলেন, আসামিদের ধরিয়ে দিতে পুরস্কার ঘোষণার বিষয়ে তার কাছে কোন তথ্য নেই। তাভেলা হত্যার আসামিদের আটক বা গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

সূত্র বলছে, আগামী সপ্তাহেই ঘটনাস্থল এবং তাভেলার দেহ থেকে উদ্ধারকৃত বুলেটের ব্যালাস্টিক রিপোর্ট হাতে পাওয়া যাচ্ছে। বুলেটগুলো সেভেন পয়েন্ট সিক্স ফাইভ বোরের পিস্তলের বুলেটের খোসা। আসামি গ্রেফতারের পরেই আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব। আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের পর তার ব্যালাস্টিক পরীক্ষা হবে। সেই অস্ত্র থেকেই বুলেটটি ছোড়া হয়েছিল কিনা তা প্রমাণ করতেই বুলেট ও আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যালাস্টিক রিপোর্ট লাগবে। এরপরই হত্যাকা-ে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র সম্পর্কে শতভাগ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

গত ২৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় গুলশান-২ নম্বর ৯০ নম্বর সড়কে সন্ত্রাসীদের গুলিতে আহত হন নেদারল্যান্ডসভিত্তিক এনজিও আইসিসিওর প্রফিটেবল অপরচ্যুনিটিজ ফর ফুড সিকিউরিটি কর্মসূচীর প্রকল্প ব্যবস্থাপক সিজার তাভেলা (৫০)। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তার মরদেহ ইতালিতে পাঠানো হয়েছে। এনজিওটি বাংলাদেশে পানি, সেনিটেশন, রিফিওজি সমস্যা ও পুনর্বাসনসহ নানা সমাজ সেবামূলক কাজ করছে।

এরপর গত ৩ অক্টোবর রংপুরে জাপানী নাগরিক হোশি কুনিওকে হত্যা করা হয়। দুইটি হত্যাকা- একই কায়দায় হয়। পর পর দুই বিদেশী হত্যাকা-ের ঘটনায় আলোচনার ঝড় বইছে। পশ্চিমা দেশগুলোর তরফ থেকে বাংলাদেশে অবস্থিত বিদেশীদের নিরাপত্তাসহ সন্ত্রাসী ও জঙ্গীবাদের বিষয়ে নানা কথা উঠছে।

বিভিন্ন সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, পুলিশ মহাপরিদর্শক একেএম শহীদুল হক, র‌্যাব মহাপরিচালক অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ ও ডিএমপি কমিশনার মোঃ আছাদুজ্জামান বলেছেন, তাভেলা হত্যা একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। তারা ষড়যন্ত্রকারী ও পরিকল্পনাকারীদের শনাক্ত করতে পেরেছেন। স্বল্প সময়ের মধ্যেই হত্যা রহস্য উদঘাটিত হবে বলে তারা আশাবাদী।