২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নাটোরে আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপে সংঘর্ষে নিহত ১, ৩০ বাড়ি ভাংচুর

সংবাদদাতা, নাটোর, ২২ অক্টোবর ॥ নাটোরের সিংড়ায় আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ বিরোধের জের ধরে দু’পক্ষের সংঘর্ষে আব্দুল হান্নান নামে এক আওয়ামী লীগ কর্মী নিহত এবং কমপক্ষে পাঁচজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ৩০ বাড়ি ভাংচুর করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার তিরোইল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের সিংড়া ও রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহত হান্নান (৪০) তিরোইল গ্রামের আব্দুল করিমের ছেলে। এ ঘটনায় ১৭ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগামী ১০ নবেম্বর সিংড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচনের জন্য আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সিংড়া পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিকুল ইসলাম শফিকের পোস্টার সাঁটানো হয় তিরোইল বাজারে। সোমবার সন্ধ্যায় পোস্টারগুলো ইটালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সিংড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্মসম্পাদক আরিফুল ইসলাম আরিফের সমর্থকরা ছিঁড়ে ফেলে। এ সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা জিন্নাহ গ্রুপের সমর্থকরা বাধা দিতে গেলে আরিফ গ্রুপের সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। এতে উভয় পক্ষের কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়। এ নিয়ে ওই এলাকায় উত্তেজনা চলে আসছিল। এ ঘটনার জের ধরে বৃহস্পতিবার সকালে ইউপি চেয়ারম্যান আরিফ গ্রুপের সমর্থকরা একত্রিত হয়ে জিন্নাহ গ্রুপের ওপর হামলা চালায়। এতে জিন্নাহ গ্রুপের সমর্থক হান্নানকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আহত হয় পাঁচজন। পরে পুলিশ গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

দলীয় সূত্র এবং স্থানীয়রা জানান, ২০১৪ সালের ২৮ ডিসেম্বর ইটালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা জহুরুল ইসলাম বাবু হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। পরবতীতে চলতি বছরের মার্চ মাসে ওই ইউনিয়নে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। উপনির্বাচনে আরিফুল ইসলাম আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হলেও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিকুল ইসলাম শফিক আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী জিন্নাহকে সমর্থন দেন। সম্প্রতি সিংড়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম আজাদের মৃত্যু হলে নির্বাচন কমিশন সিংড়া উপজেলা পরিষদের উপনির্বাচনের তারিখ আগামী ১০ নবেম্বর ঘোষণা করেন। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পক্ষে শফিকুল ইসলাম শফিককে এবং বিএনপির পক্ষে মৃত আবুল কালাম আজাদের স্ত্রী ফয়জুন্নেছা পুতুলকে দলীয়ভাবে মনোনয়ন দেয়া হয়। ফলে পূর্বের বিরোধের জের ধরে ইটালী ইউপি চেয়ারম্যান আরিফুল ইসলাম বিএনপি প্রার্থী পুতুলকে সমর্থন দেন। অপরদিকে জিন্নাহ আওয়ামী লীগ প্রার্থী শফিকুল ইসলাম শফিককে সমর্থন দেন। এরই জের ধরে গত সোমবার আরিফের সমর্থকরা শফিকের পোস্টার ছিঁড়ে ফেললে জিন্নাহর সমর্থকরা বাধা দেয় এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনারই জের ধরে বৃহস্পতিবার উভয় পক্ষের মধ্যে পুনরায় সংঘর্ষ বাধে। এ ঘটনায় আব্দুল হান্নান নিহত, ৫ জন আহত এবং ৩০ বাড়ি ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ১৭ জনকে আটক করে। আটকরা হলোÑ সোলেমান, মামুন, জিয়া, হযরত, রানা, তারেক, জাহেদুল, হান্নান, আমজাদ, মিঠুন, হাসেম, তহিদুল, কাওসার, আরিফুল, আকরাম, শরিফুল ও শামসুল।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুন্সী সাহাবুদ্দিন, সহকারী পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম ও ভারপ্রাপ্ত ইউএনও জাহিদুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি এ্যাডভোকেট ওহিদুর রহমানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে তাদের মধ্যে পূর্ববিরোধের জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে।

এ বিষয়ে সিংড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্মসম্পাদক ও ইটালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আরিফুল ইসলাম বলেন, বর্তমান চেয়ারম্যান প্রার্থী শফিকুল ইসলাম শফিকের সঙ্গে তার কোন বিরোধ নেই। এটি আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কোন বিষয় নয়। দীর্ঘদিন থেকে তিরোইল গ্রামে জমিজমা নিয়ে চলে আসা বিরোধের জের হিসেবে এলাকায় প্রভাব সৃষ্টির জন্য জিন্নাহ ও তার সমর্থকরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। অপরদিকে আওয়ামী লীগ নেতা জিন্নাহর সঙ্গে তার মোবাইল ০১৭২১-৬০৭১৪৪ নম্বরে বার বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

সিংড়া পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী শফিকুল ইসলাম শফিক বলেন, তিনি নির্বাচনী কাজ নিয়ে ব্যস্ত। তার সঙ্গে কারও বিরোধ নেই। তিনি বরং আওয়ামী লীগের সকল নেতাকর্মীকে একত্রিত করে নির্বাচনে জয়লাভের জন্য কাজ করে চলেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, একটি মহল ষড়যন্ত্র করে তার নিশ্চিত বিজয়কে বাধাগ্রস্ত করতে চায়।

নাটোরের সহকারী পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে সিংড়া থানা পুলিশের পাশাপাশি জেলা সদর থেকে অতিরিক্তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ১৭ জনকে আটক করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত থানায় কোন মামলা হয়নি।

নির্বাচিত সংবাদ